বিশেষণের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়। বাংলা ব্যাকরণ ক্লাস। Bangla Byakoron Biseshon
বিশেষণের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়
যে পদের দ্বারা কোনো নামপদের (বিশেষ্য ও সর্বনাম) অথবা ক্রিয়াপদের বিশেষ গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি বোঝানো হয়, তাকে বিশেষণ পদ বলে.
১. বিশেষণের প্রধান শ্রেণিবিভাগ :
বিশেষণ পদকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
নাম-বিশেষণ: যা বিশেষ্য, সর্বনাম বা অন্য কোনো নামপদকে বিশেষিত করে.
ক্রিয়া-বিশেষণ: যা ক্রিয়াপদকে বিশেষিত করে.
২. নাম-বিশেষণের বিস্তারিত শ্রেণিবিভাগ :
পদভেদে নাম-বিশেষণকে ছয়টি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে :
বিশেষ্যের বিশেষণ : বিশেষ্য পদের দোষ, গুণ, অবস্থা ইত্যাদি প্রকাশ করে। যেমন: সুন্দর দৃশ্য, অন্ধকার আকাশ.
সর্বনামের বিশেষণ : সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে। যেমন: ধনী সে, আমরা বোকা নই.
বিশেষণের বিশেষণ : অন্য কোনো বিশেষণ পদকে বিশেষিত করে। যেমন: খুব ঠান্ডা হাওয়া, ভীষণ রাগি.
অব্যয়ের বিশেষণ : অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে। যেমন: ঠিক উপরে, খানিক দূরে.
বিধেয় বিশেষণ : বাক্যের বিধেয় অংশে বসে উদ্দেশ্যের গুণাগুণ জানায়। যেমন: আকাশ নীল, সিংহ বলিষ্ঠ.
সম্বন্ধবাচক বিশেষণ: সম্বন্ধ পদের বিভক্তিযুক্ত পদ যখন বিশেষণের কাজ করে। যেমন: দুপুরের ঘুম, বাপের বাড়ি.
| নাম | পরিচয় | উদাহরণ |
| বর্ণবাচক | রং বা বর্ণ নির্দেশ করে | নীল আকাশ, সবুজ ঘাস |
| গুণবাচক | কোনো বিশেষ গুণ বোঝায় | টাটকা খবর, নিবিড় পাহারা |
| অবস্থাবাচক | অবস্থার পরিচয় দেয় | জ্বলন্ত সূর্য, চলন্ত ট্রেন |
| উপাদানবাচক | কী উপাদানে তৈরি তা জানায় | বেলে মাটি, রেশমি কাপড় |
| সংখ্যাবাচক | সংখ্যা নির্দেশ করে | এক ঘণ্টা, দশজন লোক |
| পূরণবাচক | ক্রম বা পর্যায় নির্দেশ করে | প্রথম দিন, দ্বিতীয় কথা |
| সংজ্ঞাবাচক | বিশেষ সংজ্ঞা বা নাম থেকে সৃষ্ট | কাশ্মীরি শাল, চিনা বাজা |
| সর্বনামীয় | সর্বনাম পদ যখন বিশেষণের কাজ করে | সেই চাঁদ, ওই আকাশ |
| বহুপদ বিশেষণ | একাধিক পদ মিলে গঠিত | আকাশ-ভরা সূর্যতারা |
| দ্বিরুক্ত বিশেষণ | একই শব্দ দু-বার ব্যবহৃত হয় | উড়ু উড়ু মন, বড়ো বড়ো কথা |
বিশেষ্যের বিশেষণের নানাবিধ রূপ :
৩. ক্রিয়া-বিশেষণের বিস্তারিত শ্রেণিবিভাগ :
ক্রিয়াপদের ভাব, ভঙ্গি বা প্রকৃতি প্রকাশকারী পদই হলো ক্রিয়া-বিশেষণ। একে তিন ভাগে ভাগ করা যায় :
স্থানবাচক: ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার স্থান বোঝায়। যেমন: রতন মাঠে দাঁড়িয়ে আছে.
কালবাচক/সময়বাচক: ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময় বোঝায়। যেমন: আজকাল মানুষ অমানুষ হয়ে গেছে.
ভাববাচক/অবস্থাবাচক: ক্রিয়াটি কীভাবে বা কী অবস্থায় ঘটছে তা বোঝায়। যেমন: সহজে এ কাজ করা যায় না, সাবধানে চলা উচিত।
ক্রিয়া-বিশেষণের গঠনবৈচিত্র্য :
বিভক্তি-হীন: এখন দ্রুত চলো.
বিভক্তি-যুক্ত: তিনি পদব্রজে যাত্রা করিলেন.
অসমাপিকা ক্রিয়াযুক্ত: কথাটা শুনে হো-হো করে হেসে উঠল.
শব্দদ্বৈত রূপে: সরোজবাবু ধীরে ধীরে সভা-মঞ্চে উঠলেন.
প্রত্যয়যুক্ত: ক্রমশ রাত নেমে এল.
অর্থানুসারে বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ :
১. গুণবাচক বিশেষণ :
গুণ বা দোষ বোঝায়
উদাহরণ: ভালো মানুষ, মিষ্টি আম, দুষ্ট বালক
২. পরিমাণবাচক বিশেষণ :
পরিমাণ বোঝায়
উদাহরণ: অনেক জল, অল্প ভাত, কিছু চিনি
৩. সংখ্যাবাচক বিশেষণ :
সংখ্যা বোঝায়
প্রকারভেদ:
নির্দিষ্ট: তিনটি বই
অনির্দিষ্ট: কয়েকজন লোক
ক্রমিক: প্রথম ছেলে
৪. নির্দেশক বিশেষণ :
নির্দেশ করে
উদাহরণ: এই বই, ওই বাড়ি, সেই মানুষ
৫. প্রশ্নবাচক বিশেষণ :
প্রশ্ন করে
উদাহরণ: কোন বই? কত টাকা? কেমন ছেলে ?
৬. সম্পর্কবাচক বিশেষণ :
সম্পর্ক বোঝায়
উদাহরণ: বাবার বাড়ি, দেশের মানুষ
৭. অবস্থাবাচক বিশেষণ :
অবস্থা বোঝায়
উদাহরণ: ভাঙা ঘর, ক্লান্ত মানুষ
৮. উপাদানবাচক বিশেষণ :
উপাদান বোঝায়
উদাহরণ: সোনার গয়না, কাঠের টেবিল
৯. রূপবাচক বিশেষণ :
আকার/গঠন বোঝায়
উদাহরণ: গোল বল, লম্বা গাছ
১০. বর্ণবাচক বিশেষণ :
রং বোঝায়
উদাহরণ: লাল ফুল, কালো মেঘ
১১. কালবাচক বিশেষণ :
সময় বোঝায়
উদাহরণ: আজকের খবর, গত বছরের ফল
১২. স্থানবাচক বিশেষণ :
স্থান বোঝায়
উদাহরণ: দেশের মানুষ, বিদেশি পণ্য
১৩. সমষ্টিবাচক বিশেষণ :
সমষ্টি বোঝায়
উদাহরণ: সমস্ত মানুষ, সমগ্র দেশ
১৪. বর্জনবাচক বিশেষণ :
বাদ দেওয়া বোঝায়
উদাহরণ: তোমাকে ছাড়া যাব না
