আরবি, ফার্সি, পর্তুগিজ ও তুর্কি শব্দগুলো মনে রাখার মনে রাখার জন্য গল্প PDF
বাংলা শব্দভাণ্ডার এর আরবি, ফার্সি, পর্তুগিজ ও তুর্কি শব্দগুলো মনে রাখার মনে রাখার জন্য গল্প ।
বিদেশি শব্দগুলো মুখস্থ করার চেয়ে গল্পের ছলে মনে রাখা অনেক সহজ। নিচে আরবি, ফার্সি, পর্তুগিজ ও তুর্কি শব্দের তালিকাগুলো মনে রাখার জন্য চারটি চমৎকার ও মজাদার গল্প তৈরি করে দেওয়া হলো। গল্পের ভেতরের বোল্ড (Bold) শব্দগুলোই হলো সেই নির্দিষ্ট ভাষার শব্দ।
১. আরবি শব্দ মনে রাখার গল্প
গল্পের থিম: একজন আদালতের উকিল ও মুসাফিরের গল্প।
এক দুনিয়া কাঁপানো হাকিম সাহেব তাঁর আদালতের এজলাসে বসে আইন ও কানুন অনুযায়ী এক জটিল মোকাদ্দমার রায় দিচ্ছিলেন। মামলার আসামী ছিল একজন মুসাফির। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ— সে নগদ টাকায় কেনা দামি কিতাব, কলম ও দোয়াত নিয়ে পালানোর সময় ধরা পড়েছে। আসামীর পক্ষে উকিল সাহেব জেরা ও সাক্ষ্য দিয়ে বললেন, “হুজুর, আমার মক্কেল খুব আসল ও সবাব (পুণ্যবান) মানুষ। সে প্রতিদিন ওজু ও গোসল করে কুরআন ও হাদিস পড়ে। আল্লাহর ওপর তার গভীর ইমান আছে। সে নিয়মিত জাকাত দেয় এবং হজ করার জন্য বাকি টাকা জমাচ্ছে।”
উকিল আরও বললেন, “আসলে তার আক্কেল কম, সে তারিখ ভুল করে ফেলেছিল। সে ভেবেছিল এটা ইদের দিন, তাই জিনিসগুলো মোনাজাত শেষে উপহার হিসেবে পেয়েছে। কোনো অপরাধের উদ্দেশ্যে নয়। সে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তওবা করেছে। সুতরাং তাকে জামিন বা খালাস দেওয়া হোক।” hakim সাহেব সব খবর শুনে মুসাফিরের হিসাব ও কিসমত বিবেচনা করে তাকে মুক্তি দিলেন। মুক্ত হয়ে মুসাফির ভাবল, অপরাধ করলে তো জাহান্নামে যেতে হতো, এখন ভালো হয়ে জান্নাত কামাই করতে হবে। সে খুশি হয়ে উকিলকে কিছু মায়না (বেতন) ও বকশিশ দিল।
২. ফার্সি শব্দ মনে রাখার গল্প
গল্পের থিম: এক জমিদার ও তার কারখানার কর্মচারীদের গল্প।
এক দেশে ছিলেন এক বিলাসী বাদশাহ এবং তাঁর এক জমিদার সরকার। জমিদার সাহেব খুব চালাক ছিলেন। তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে আরাম করে আয়না দেখে চশমা পরলেন এবং গায়ে একটি দামি চাদর জড়ালেন। তারপর নিজের দপ্তরে বসে নালিশ ও খাজনার রসিদ পরীক্ষা করতে লাগলেন। তাঁর অধীনে একজন কারিগর ছিল, যে কারখানায় রেশম দিয়ে সুন্দর পরদা ও বসার তক্তা বানাত।
একদিন জমিদার তাঁর বাগানে বসে সবজি ও গরম চা খাচ্ছিলেন। এমন সময় তাঁর চৌকিদার এসে খবর দিল যে, পাশের দোকানের সামনে কাদা জমে নর্দমা বন্ধ হয়ে গেছে। জমিদার তখন তাঁর বিশ্বস্ত বান্দা ও মেথরকে ডেকে বললেন, “তাড়াতাড়ি ওটা পরিষ্কার করো, নাহলে মেথর ও পেয়াদারা এসে আমার নামে নালিশ করবে।” জমিদার সাহেব বেশ ধার্মিকও ছিলেন। তিনি প্রতিদিন খোদার দরবারে গুনাহ মাফের জন্য নামাজ পড়তেন এবং রোজা রাখতেন যাতে দোজখের আগুন থেকে বাঁচা যায়। তিনি মাঝেমধ্যে পীর ও ফেরেশতাদের কথা স্মরণ করে গরীবদের সস্তা দরে রসদ দান করতেন।
৩. পর্তুগিজ শব্দ মনে রাখার গল্প
গল্পের থিম: কামরার ভেতর গৃহস্থালির কাজ ও দুপুরের খাবারের আয়োজন।
এক রবিবারের সকালে সাহেব তাঁর কামরায় (রুমে) বসে ছিলেন। তিনি জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলেন বাইরে এক পাদ্রি দাঁড়িয়ে আছেন। সাহেব তাঁর কামিজ (জামা) আয়রন করার জন্য আলমারি থেকে ইস্তিরি বের করলেন। কাজ শেষ করে তিনি সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছলেন। এরপর আলপিন ও ফিতা দিয়ে কিছু জরুরি কাগজ বাঁধলেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন দেয়ালে একটা পেরেক আলগা হয়ে আছে, তাই টেবিল বা মেজ থেকে মার্তুল (হাতুড়ি) এনে সেটা ঠুকলেন।
এমন সময় কাজের লোক বালতি ও গামলা নিয়ে ঘর মুছতে এলো। সাহেব তাকে চাবি দিয়ে বললেন, “গুদাম ঘর থেকে একটা বয়াম আর দুপুরের খাবারের জন্য আনারস, আতা, পেঁপে ও পেয়ারা নিয়ে এসো।” দুপুরে খাবারের টেবিলে সাজানো হলো পাউরুটি, বিস্কুট আর সুস্বাদু আচার। সাহেব খেতে খেতে ভাবলেন, এই সব জিনিসপত্র যদি নষ্ট হয়, তবে বাজারে নিলাম ডেকে ফালতো দামে বিক্রি করে দিতে হবে।
৪. তুর্কি শব্দ মনে রাখার গল্প
গল্পের থিম: দারোগা ও বাবুর্চির যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা।
এক রাজপ্রাসাদের প্রধান দারোগা সাহেব খুব বাহাদুর ছিলেন। তিনি গায়ে রাজকীয় উর্দি ও কোর্তা পরে, বুকে তকমা লাগিয়ে ঘুরতেন। তাঁর অধীনে একজন বিশ্বস্ত চাকর ও একজন কুলি কাজ করত। একদিন প্রাসাদের বাবুর্চি এক বিশাল বোঁচকা নিয়ে পালাচ্ছিল। দারোগা সাহেব তাকে হাতেনাতে ধরে ফেললেন। বাবুর্চি ভয় পেয়ে দারোগাকে কুর্নিশ করে বলল, “হুজুর, আমাকে কাবু করবেন না, আমি চোর নই!”
কিন্তু দারোগা সাহেব তার কোনো কথাই শুনলেন না। তিনি কোমর থেকে ধারালো কাঁচি ও চাকু বের করলেন। বাবুর্চিও কম যায় না, সে তার বোঁচকা থেকে চকমক করা বন্দুক ও বারুদ বের করে তোপ দাগার ভয় দেখাল। অবস্থা বেগতিক দেখে দারোগা সাহেব ভাবলেন, এখানে মারামারি হলে তো শেষে লাশ পড়বে! তাই তিনি কোনো ঝামেলা না করে বাবুর্চির কাছ থেকে একটি লিখিত মুচলেকা নিলেন এবং বললেন, “ঠিক আছে, তুমি এই বোঁচকাটি রাজদরবারের বেগম সাহেবার জন্য সওগাত (উপহার) হিসেবে দিয়ে দাও, তাহলে তোমাকে ছেড়ে দেব।”
পড়ার কৌশল:এই গল্পগুলো দু-তিনবার রিডিং পড়লেই মনের অজান্তেই শব্দগুলো মস্তিষ্কে গেঁথে যাবে। পরীক্ষার হলে কোনো শব্দ আসলে সহজেই মনে পড়বে যে শব্দটা কোন গল্পের অংশ ছিল!
………… www.shekhapora.com …………
