WB TET এর জন্য ভূগোল থেকে বাছাই করা তথ্য ||কৃষিকাজ (Agriculture) || WB TET, CTET|| PDF

0
krisi-kaj

কৃষিকাজ (Agriculture)  

কৃষিকাজ ভূগোলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। WB TET, CTET, SSC, WBCS, Rail, PSC সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কৃষি সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে। নিচে কৃষিকাজ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।WB TET এর জন্য ভূগোল থেকে বাছাই করা তথ্য ||কৃষিকাজ (Agriculture) || WB TET, CTET|| ভূগোল থেকে বাছাই করা তথ্য PDF

১. কৃষিকাজের সংজ্ঞা (Agriculture)

মানুষের খাদ্য, বস্ত্র ও শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে জমি চাষ, পশুপালন, উদ্যানপালন, মৎস্যচাষ ইত্যাদি যে অর্থনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাকে কৃষিকাজ বা Agriculture বলে।

Agriculture শব্দটি এসেছে দুটি ল্যাটিন শব্দ থেকে—

  • Ager = জমি (Land)
  • Cultura = চাষ বা পরিচর্যা (Cultivation)

অর্থাৎ, জমির পরিচর্যা বা চাষ করাই কৃষি।

২. কৃষির গুরুত্ব

কৃষি ভারতের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।

কৃষির গুরুত্ব

✅ মানুষের খাদ্যের প্রধান উৎস

✅ শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ করে

✅ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে

✅ জাতীয় আয় বৃদ্ধি করে

✅ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করে

✅ পশুপালন ও দুগ্ধশিল্পের বিকাশ ঘটায়

✅ গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি গঠন করে

৩. কৃষির উৎপত্তি

প্রায় ১০,০০০ বছর আগে নবপ্রস্তর যুগে (Neolithic Age) কৃষির সূচনা হয়।

কৃষির প্রাচীন কেন্দ্র

  • মেসোপটেমিয়া
  • নীলনদের উপত্যকা
  • সিন্ধু সভ্যতা
  • চীনের হোয়াংহো উপত্যকা

মানুষ যখন শিকার ও খাদ্য সংগ্রহের পরিবর্তে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে তখন কৃষির বিকাশ ঘটে।

৪. কৃষির প্রকারভেদ

কৃষিকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়।

(ক) জীবিকাসত্ত্বভিত্তিক কৃষি (Subsistence Farming)

যে কৃষিতে উৎপাদিত ফসল কৃষকের নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য ব্যবহৃত হয় তাকে জীবিকাসত্ত্বভিত্তিক কৃষি বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • ছোট জমি
  • প্রথাগত পদ্ধতি
  • কম উৎপাদন
  • পরিবারভিত্তিক শ্রম

উদাহরণ

ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল

(খ) বাণিজ্যিক কৃষি (Commercial Farming)

বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে বৃহৎ আকারে কৃষিকাজ করা হলে তাকে বাণিজ্যিক কৃষি বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • আধুনিক যন্ত্রপাতি
  • বেশি মূলধন
  • বৃহৎ জমি
  • অধিক উৎপাদন

উদাহরণ

  • আমেরিকা
  • কানাডা
  • অস্ট্রেলিয়া

(গ) নিবিড় কৃষি (Intensive Farming)

স্বল্প জমিতে অধিক উৎপাদনের উদ্দেশ্যে বেশি শ্রম ও সার ব্যবহার করে যে কৃষি করা হয় তাকে নিবিড় কৃষি বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • জনবহুল অঞ্চলে প্রচলিত
  • বছরে একাধিক ফসল
  • অধিক সেচ ব্যবস্থা

উদাহরণ

ভারত, চীন, জাপান

(ঘ) ব্যাপক কৃষি (Extensive Farming)

বৃহৎ জমিতে কম শ্রম ব্যবহার করে কৃষিকাজ করা হলে তাকে ব্যাপক কৃষি বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • জমি বড়
  • শ্রম কম
  • যান্ত্রিক পদ্ধতি

উদাহরণ

কানাডা, অস্ট্রেলিয়া

(ঙ) স্থানান্তর কৃষি (Shifting Cultivation)

জঙ্গল পুড়িয়ে কিছুদিন চাষ করার পর অন্য স্থানে গিয়ে চাষ করাকে স্থানান্তর কৃষি বলে।

বিভিন্ন অঞ্চলে নাম

  • ঝুম চাষ — উত্তর-পূর্ব ভারত
  • লাদাং — ইন্দোনেশিয়া
  • মিলপা — মেক্সিকো
  • তাউংগ্যা — মায়ানমার

অসুবিধা

  • বন ধ্বংস
  • মাটির ক্ষয়
  • পরিবেশ দূষণ

(চ) রোপণ কৃষি (Plantation Agriculture)

বৃহৎ জমিতে এক ধরনের অর্থকরী ফসল উৎপাদনকে রোপণ কৃষি বলে।

উদাহরণ

  • চা
  • কফি
  • রাবার
  • কোকো

বৈশিষ্ট্য

  • প্রচুর শ্রমিক
  • বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
  • রপ্তানিমুখী কৃষি

৫. কৃষির উপর প্রভাবকারী প্রাকৃতিক উপাদান

(ক) জলবায়ু

কৃষির প্রধান নিয়ন্ত্রক।

প্রভাব

  • তাপমাত্রা
  • বৃষ্টিপাত
  • আর্দ্রতা
  • সূর্যালোক

উদাহরণ

ধানের জন্য বেশি বৃষ্টি প্রয়োজন।

(খ) মাটি

ফসল উৎপাদনের মূল ভিত্তি।

বিভিন্ন মাটি ও ফসল

মাটিফসল
পলিমাটিধান, গম
কৃষ্ণমাটিতুলা
লালমাটিডাল
ল্যাটেরাইটচা

(গ) ভূমিরূপ

সমভূমিতে কৃষিকাজ সহজ হয়।

উদাহরণ

গঙ্গা সমভূমি ভারতের কৃষির প্রধান অঞ্চল।

(ঘ) জলসেচ

যেখানে বৃষ্টিপাত কম সেখানে সেচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৬. কৃষির উপর প্রভাবকারী মানবিক উপাদান

(ক) শ্রম

পর্যাপ্ত শ্রমিক থাকলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

(খ) মূলধন

আধুনিক কৃষির জন্য প্রয়োজন—

  • ট্রাক্টর
  • হারভেস্টার
  • সার
  • কীটনাশক

(গ) প্রযুক্তি

আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি করে।

উদাহরণ

  • ড্রিপ সেচ
  • স্প্রিংকলার সেচ
  • যান্ত্রিক কৃষি

(ঘ) পরিবহন

ফসল দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

(ঙ) সরকারি নীতি

  • ভর্তুকি
  • কৃষিঋণ
  • MSP (Minimum Support Price)

৭. ভারতের কৃষি ঋতু

ভারতে প্রধানত তিনটি কৃষি ঋতু দেখা যায়।

(ক) খরিফ ফসল (Kharif Crops)

বপন

জুন-জুলাই

কাটাই

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর

উদাহরণ

  • ধান
  • পাট
  • তুলা
  • ভুট্টা

(খ) রবি ফসল (Rabi Crops)

বপন

অক্টোবর-নভেম্বর

কাটাই

মার্চ-এপ্রিল

উদাহরণ

  • গম
  • সরিষা
  • বার্লি
  • মটর

(গ) জায়েদ ফসল (Zaid Crops)

সময়

মার্চ থেকে জুন

উদাহরণ

  • তরমুজ
  • শসা
  • খরমুজ

৮. ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য

ধান (Rice)

প্রধান খাদ্যশস্য

ভারতের সর্বাধিক উৎপাদিত খাদ্যশস্য।

অনুকূল পরিবেশ

  • তাপমাত্রা : 20°–35°C
  • বৃষ্টিপাত : 100–200 সেমি
  • পলিমাটি

প্রধান রাজ্য

  • পশ্চিমবঙ্গ
  • উত্তরপ্রদেশ
  • পাঞ্জাব
  • অন্ধ্রপ্রদেশ

পশ্চিমবঙ্গ

ভারতের ধান উৎপাদনে অন্যতম শীর্ষ রাজ্য।

গম (Wheat)

অনুকূল পরিবেশ

  • ঠান্ডা জলবায়ু
  • 50–75 সেমি বৃষ্টি

প্রধান রাজ্য

  • উত্তরপ্রদেশ
  • পাঞ্জাব
  • হরিয়ানা
  • মধ্যপ্রদেশ

৯. ভারতের অর্থকরী ফসল

পাট (Jute)

বলা হয়

সোনালি আঁশ (Golden Fibre)

অনুকূল পরিবেশ

  • উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু
  • পলিমাটি

প্রধান রাজ্য

  • পশ্চিমবঙ্গ
  • অসম
  • বিহার

গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের সর্বাধিক পাট উৎপাদনকারী রাজ্য—
পশ্চিমবঙ্গ

তুলা (Cotton)

বলা হয়

শিল্পের সাদা সোনা।

মাটি

কৃষ্ণমাটি

প্রধান রাজ্য

  • গুজরাট
  • মহারাষ্ট্র
  • তেলেঙ্গানা

আখ (Sugarcane)

প্রধান রাজ্য

  • উত্তরপ্রদেশ
  • মহারাষ্ট্র
  • কর্ণাটক

বৈশিষ্ট্য

চিনি শিল্পের প্রধান কাঁচামাল।

১০. উদ্যানপালন (Horticulture)

ফল, ফুল ও শাকসবজি চাষকে উদ্যানপালন বলে।

প্রধান ফল

  • আম
  • কলা
  • কমলালেবু
  • আপেল

গুরুত্ব

  • পুষ্টি সরবরাহ
  • রপ্তানি আয় বৃদ্ধি

১১. সবুজ বিপ্লব (Green Revolution)

ভারতে খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১৯৬০-এর দশকে সবুজ বিপ্লব শুরু হয়।

জনক

M. S. Swaminathan

বৈশিষ্ট্য

  • উচ্চফলনশীল বীজ
  • রাসায়নিক সার
  • সেচব্যবস্থা
  • যান্ত্রিক কৃষি

ফলাফল

✔ গম উৎপাদন বৃদ্ধি

✔ খাদ্য ঘাটতি কমে যায়

✔ কৃষিতে আধুনিকীকরণ ঘটে

১২. শ্বেত বিপ্লব (White Revolution)

দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির আন্দোলন।

জনক

Verghese Kurien

প্রকল্প

Operation Flood

১৩. নীল বিপ্লব (Blue Revolution)

মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মসূচি।

১৪. হলুদ বিপ্লব (Yellow Revolution)

তৈলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি।

১৫. কৃষির সমস্যা

প্রধান সমস্যা

❖ জমির খণ্ডীকরণ

❖ অনিয়মিত বর্ষা

❖ বন্যা ও খরা

❖ কৃষকের ঋণগ্রস্ততা

❖ সংরক্ষণের অভাব

❖ বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতা

❖ মাটির উর্বরতা হ্রাস

১৬. কৃষির উন্নয়নের উপায়

করণীয়

✔ উন্নত বীজ ব্যবহার

✔ আধুনিক সেচ ব্যবস্থা

✔ জৈব সার ব্যবহার

✔ কৃষি শিক্ষা

✔ ফসল বীমা

✔ কৃষিঋণ

✔ সংরক্ষণাগার বৃদ্ধি

✔ কৃষি গবেষণা

✔ প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি

১৭. টেকসই কৃষি (Sustainable Agriculture)

বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি না করে যে কৃষিকাজ করা হয় তাকে টেকসই কৃষি বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • জৈব সার ব্যবহার
  • পরিবেশবান্ধব
  • জল সংরক্ষণ
  • মাটির উর্বরতা বজায় রাখা

WB TET এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে দেখে নাও 

🔹 কৃষির জনক — Norman Borlaug (বিশ্বে)

🔹 ভারতের সবুজ বিপ্লবের জনক — M. S. Swaminathan

🔹 পাটের অপর নাম — সোনালি আঁশ

🔹 তুলার জন্য উপযুক্ত মাটি — কৃষ্ণমাটি

🔹 ভারতের সর্বাধিক পাট উৎপাদনকারী রাজ্য — পশ্চিমবঙ্গ

🔹 ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য — ধান

🔹 ঝুম চাষ দেখা যায় — উত্তর-পূর্ব ভারতে

🔹 রবি ফসলের উদাহরণ — গম, সরিষা

🔹 খরিফ ফসলের উদাহরণ — ধান, পাট

🔹 জায়েদ ফসলের উদাহরণ — তরমুজ, শসা

🔹 শ্বেত বিপ্লবের জনক — Verghese Kurien

🔹 নীল বিপ্লব — মৎস্য উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত

🔹 হলুদ বিপ্লব — তৈলবীজ উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত

এই নোটটি WB TET Upper Primary Geography-এর “কৃষিকাজ” অধ্যায়ের সম্পূর্ণ প্রস্তুতির জন্য উপযোগী এবং এখান থেকে MCQ, SAQ ও বর্ণনামূলক প্রশ্ন সহজেই তৈরি করা যায়।

আরো কয়েক প্রকার কৃষি সম্পর্কে জেনে নাওঃ 

১. আর্দ্র কৃষি (Humid Farming)

সংজ্ঞা

যেসব অঞ্চলে বছরে ২০০ সেমি বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হয় এবং বৃষ্টির জলেই কৃষিকাজ সম্পন্ন হয়, তাকে আর্দ্র কৃষি বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
  • সেচের প্রয়োজন খুব কম।
  • মাটিতে আর্দ্রতা বেশি থাকে।
  • বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব।

প্রধান ফসল

  • ধান
  • পাট
  • চা
  • আখ

প্রধান অঞ্চল

  • পশ্চিমবঙ্গ
  • অসম
  • কেরল
  • মেঘালয়

সুবিধা

  • সেচ খরচ কম।
  • উৎপাদন তুলনামূলক বেশি।

অসুবিধা

  • অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
  • বন্যার সম্ভাবনা থাকে।

২. শুষ্ক কৃষি (Dry Farming)

সংজ্ঞা

যেসব অঞ্চলে বছরে ৫০ সেমির কম বৃষ্টিপাত হয় এবং অল্প জলের সাহায্যে কৃষিকাজ করা হয়, তাকে শুষ্ক কৃষি বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • বৃষ্টিপাত কম।
  • জল সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • খরা-সহনশীল ফসল চাষ হয়।
  • মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।

প্রধান ফসল

  • বাজরা
  • জোয়ার
  • ডাল
  • চিনাবাদাম

প্রধান অঞ্চল

  • রাজস্থান
  • গুজরাট
  • মহারাষ্ট্রের কিছু অংশ

সুবিধা

  • কম জলে কৃষিকাজ সম্ভব।
  • খরা অঞ্চলের জন্য উপযোগী।

অসুবিধা

  • উৎপাদন কম।
  • খরার ঝুঁকি বেশি।

৩. আন্তঃ কৃষি (Intercropping)

সংজ্ঞা

একই জমিতে একই সময়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে দুই বা ততোধিক ফসল চাষ করাকে আন্তঃ কৃষি বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • একসঙ্গে একাধিক ফসল উৎপাদন।
  • জমির সর্বোত্তম ব্যবহার।
  • আগাছা কম জন্মায়।
  • মাটির উর্বরতা বজায় থাকে।

উদাহরণ

  • ভুট্টা + ডাল
  • আখ + আলু
  • তুলা + ডাল

সুবিধা

  • উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
  • কৃষকের ঝুঁকি কমে।
  • রোগ-পোকার আক্রমণ কম হয়।

অসুবিধা

  • ব্যবস্থাপনা জটিল।
  • যান্ত্রিক চাষে সমস্যা হয়।

৪. সেচন কৃষি (Irrigated Farming)

সংজ্ঞা

যে কৃষিতে খাল, কূপ, নদী, জলাধার বা নলকূপের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে জল সরবরাহ করা হয়, তাকে সেচন কৃষি বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • সেচের উপর নির্ভরশীল।
  • অনাবৃষ্টিতেও কৃষিকাজ সম্ভব।
  • উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার করা যায়।

প্রধান ফসল

  • ধান
  • গম
  • আখ
  • তুলা

প্রধান অঞ্চল

  • পাঞ্জাব
  • হরিয়ানা
  • উত্তরপ্রদেশ

সুবিধা

  • উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
  • সারা বছর কৃষিকাজ করা যায়।

অসুবিধা

  • ব্যয়বহুল।
  • অতিরিক্ত সেচে মাটির লবণাক্ততা বাড়তে পারে।

৫. প্রগাঢ় কৃষি (Intensive Farming)

সংজ্ঞা

স্বল্প জমিতে অধিক শ্রম, সার, সেচ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক উৎপাদনের উদ্দেশ্যে যে কৃষি করা হয়, তাকে প্রগাঢ় বা নিবিড় কৃষি বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • জমির আয়তন ছোট।
  • জনসংখ্যার চাপ বেশি।
  • বছরে একাধিক ফসল উৎপাদিত হয়।
  • আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

প্রধান ফসল

  • ধান
  • গম
  • সবজি

প্রধান অঞ্চল

  • ভারত
  • চীন
  • বাংলাদেশ
  • জাপান

সুবিধা

  • প্রতি হেক্টরে উৎপাদন বেশি।
  • জমির সর্বোত্তম ব্যবহার হয়।

অসুবিধা

  • মাটির উর্বরতা কমে যেতে পারে।
  • সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বেশি।

৬. মিশ্র কৃষি (Mixed Farming)

সংজ্ঞা

যে কৃষি ব্যবস্থায় ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি পশুপালন করা হয়, তাকে মিশ্র কৃষি বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • কৃষি ও পশুপালন একসঙ্গে করা হয়।
  • আয়ের একাধিক উৎস থাকে।
  • গোবর সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উদাহরণ

  • গম চাষ + গরু পালন
  • ধান চাষ + হাঁস-মুরগি পালন

প্রধান অঞ্চল

  • উত্তরপ্রদেশ
  • পাঞ্জাব
  • হরিয়ানা
  • ইউরোপের বিভিন্ন দেশ

সুবিধা

  • কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়।
  • ঝুঁকি কম হয়।
  • জৈব সার পাওয়া যায়।

অসুবিধা

  • বেশি শ্রম প্রয়োজন।
  • পশুর রোগ হলে ক্ষতি হতে পারে।

WB TET-এর জন্য এক নজরে 

কৃষির ধরণমূল বৈশিষ্ট্য
আর্দ্র কৃষিঅধিক বৃষ্টিপাত নির্ভর কৃষি
শুষ্ক কৃষিকম বৃষ্টিপাত অঞ্চলের কৃষি
আন্তঃ কৃষিএকই জমিতে একাধিক ফসল
সেচন কৃষিকৃত্রিম সেচনির্ভর কৃষি
প্রগাঢ় কৃষিস্বল্প জমিতে অধিক উৎপাদন
মিশ্র কৃষিকৃষি + পশুপালন

                   গুরুত্বপূর্ণ MCQ এর জন্য  তথ্য 

        ✔ আর্দ্র কৃষিতে প্রধান ফসল — ধান, পাট
✔ শুষ্ক কৃষিতে প্রধান ফসল — বাজরা, জোয়ার
✔ একই জমিতে একাধিক ফসল চাষ — আন্তঃ কৃষি
✔ কৃষি ও পশুপালনের সমন্বয় — মিশ্র কৃষি
✔ অধিক শ্রম ও মূলধননির্ভর কৃষি — প্রগাঢ় (নিবিড়) কৃষি
✔ কৃত্রিম জল সরবরাহের মাধ্যমে কৃষি — সেচন কৃষি।

                      👉সম্পূর্ণ নোটটি ডাউনলোড করে নাও এখানে ক্লিক করে 👆

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *