ভারতের বিভিন্ন সংস্কার আন্দোলন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং SAQ । WB TET History
ভারতের বিভিন্ন সংস্কার আন্দোলন
মধ্যযুগের ভক্তি ও সুফি আন্দোলন:
১. আলভার ও নায়নার আন্দোলন
- সময়কাল: খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ–৯ম শতক
- অঞ্চল: তামিলনাড়ু, দক্ষিণ ভারত
- আলভার = বিষ্ণুভক্ত সন্ত (১২ জন)
- নায়নার = শিবভক্ত সন্ত (৬৩ জন)
- ভক্তি আন্দোলনের আদি সূচনা দক্ষিণ ভারতে এঁদের হাত ধরে হয়েছিল।
- সংস্কৃতের পরিবর্তে তামিল ভাষায় ধর্মীয় গান ও পদ রচনা করেন।
- জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতা করেছিলেন।
- ঈশ্বরের প্রতি ব্যক্তিগত প্রেম ও ভক্তির উপর জোর দেন।
- বিখ্যাত গ্রন্থ:
- আলভারদের রচনা → নালায়ির দিব্য প্রবন্ধম
- নায়নারদের রচনা → তেভারম
- পরবর্তীকালে রামানুজ, মাধবাচার্য প্রমুখের দর্শনের ভিত্তি তৈরি করে।
২. লিঙ্গায়ত বা বীরশৈব আন্দোলন
- প্রতিষ্ঠাতা: বসবেশ্বর (বাসব)
- সময়: দ্বাদশ শতক
- অঞ্চল: কর্ণাটক
- প্রধান গ্রন্থ: বচন সাহিত্য
- মূল বক্তব্য:
- জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতা
- ব্রাহ্মণ্যবাদ ও যজ্ঞের বিরোধিতা
- নারী-পুরুষ সমতার প্রচার
- মূর্তিপূজার বিরোধিতা
- অনুসারীরা গলায় “ইষ্টলিঙ্গ” ধারণ করতেন।
- এই আন্দোলন দক্ষিণ ভারতের সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
৩. দাদু দয়াল ও দাদুপন্থ
- প্রতিষ্ঠাতা: দাদু দয়াল
- অঞ্চল: রাজস্থান
- সময়: ১৬শ শতক
- কবীরের ভাবধারায় প্রভাবিত।
- “নিপখ” বা নিরপেক্ষ ধর্মীয় দর্শনের প্রচার করেন।
- হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের কথা বলেন।
- বাহ্যিক আচার নয়, অন্তরের ভক্তিকে গুরুত্ব দেন।
- দাদুপন্থীরা পরে সামাজিক সংস্কারমূলক কাজেও যুক্ত হয়।
৪. সুরদাস
- অঞ্চল: উত্তর ভারত
- ভাষা: ব্রজভাষা
- ভক্তিধারা: সগুণ বৈষ্ণব ভক্তি
- উপাস্য: শ্রীকৃষ্ণ
- বিখ্যাত গ্রন্থ: সুরসাগর
- কৃষ্ণের বাল্যলীলা তাঁর কাব্যের মূল বিষয়।
- সাধারণ মানুষের মধ্যে কৃষ্ণভক্তি জনপ্রিয় করেন।
৫. তুলসীদাস
- ভাষা: অবধী
- বিখ্যাত গ্রন্থ: রামচরিতমানস
- রামায়ণকে সাধারণ মানুষের ভাষায় রচনা করেন।
- ভক্তি আন্দোলনের প্রসারে বিশাল ভূমিকা পালন করেন।
- রামকে আদর্শ রাজা ও নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।
৬. নকশবন্দি সিলসিলা
- সুফিবাদের রক্ষণশীল ধারা
- ভারতে জনপ্রিয় করেন: খাজা বাকি বিল্লাহ
- প্রধান নেতা: শেখ আহমদ সিরহিন্দি
- উপাধি: “মুজাদ্দিদ আলিফ সানি”
- আকবরের “দীন-ই-ইলাহি”-র বিরোধিতা করেন।
- শরিয়ত মেনে চলার উপর জোর দেন।
- মুঘল দরবারে ইসলামের রক্ষণশীল ধারা পুনরুজ্জীবিত করেন।
সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলন
বাংলা ও পূর্ব ভারতের আন্দোলন
১. সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ (১৮৭৮)
- প্রতিষ্ঠাতা:
- আনন্দমোহন বসু
- শিবনাথ শাস্ত্রী
- উমেশচন্দ্র দত্ত
- কারণ:
- কেশবচন্দ্র সেন তাঁর অল্পবয়সী কন্যার বিবাহ কুচবিহারের রাজার সাথে দেন।
- এর প্রতিবাদে এই সংগঠন গঠিত হয়।
- বৈশিষ্ট্য:
- গণতান্ত্রিক সংগঠন
- নারীশিক্ষার সমর্থন
- বাল্যবিবাহের বিরোধিতা
- যুক্তিবাদী ধর্মচিন্তা
২. মতূয়া আন্দোলন
- প্রতিষ্ঠাতা: শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর
- পরবর্তীকালে নেতৃত্ব দেন: গুরুচাঁদ ঠাকুর
- অঞ্চল: ফরিদপুর, অবিভক্ত বাংলা
- সম্প্রদায়: নমঃশূদ্র ও দলিত সমাজ
- মূল লক্ষ্য:
- শিক্ষা বিস্তার
- সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা
- জাতিভেদ দূরীকরণ
- স্লোগান:
- “হাতে কাম, মুখে নাম”
- বাংলার দলিত সমাজে নবজাগরণ ঘটায়।
৩. ধর্ম সভা (১৮৩০)
- প্রতিষ্ঠাতা: রাধাকান্ত দেব
- উদ্দেশ্য:
- সনাতন হিন্দুধর্ম রক্ষা
- সতীদাহ প্রথা বিলোপের বিরোধিতা
- ব্রাহ্মসমাজের বিরোধী সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
- রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের প্রতিনিধিত্ব করত।
পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের আন্দোলন
৪. পরমহংস মণ্ডলী (১৮৪৯)
- প্রতিষ্ঠাতা:
- দাদোবা পাণ্ডুরঙ্গ
- দুর্গ আরাম মনছরাম
- অঞ্চল: বম্বে
- বৈশিষ্ট্য:
- গোপন সমাজ সংস্কার সংগঠন
- জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতা
- একেশ্বরবাদ প্রচার
- সামাজিক সমতার পক্ষে কাজ
৫. মানব ধর্ম সভা (১৮৪৪)
- প্রতিষ্ঠাতা: মেহতাজি দুর্গ আরাম
- অঞ্চল: সুরাট
- উদ্দেশ্য:
- কুসংস্কার দূরীকরণ
- মানবতাবাদ প্রচার
- ধর্মীয় উদারতা প্রতিষ্ঠা
৬. রাহনুমাঈ মাজদায়সান সভা (১৮৫১)
- প্রতিষ্ঠাতা:
- ফার্দুনজি নওরোজি
- দাদাভাই নওরোজি
- এস. এস. বাঙালি
- অঞ্চল: বম্বে
- ধর্ম: পার্সি (জরথুস্ত্রী)
- মুখপত্র: রাস্ত গোফতার
- লক্ষ্য:
- পার্সি সমাজের কুসংস্কার দূর করা
- নারীশিক্ষা বিস্তার
- আধুনিক শিক্ষা প্রচার
৭. বেদ সমাজ (১৮৬৪)
- প্রতিষ্ঠাতা: কে. শ্রীধরালু নাইডু
- অঞ্চল: মাদ্রাজ
- “দক্ষিণ ভারতের ব্রাহ্মসমাজ” নামে পরিচিত।
- ব্রাহ্মসমাজের আদর্শে অনুপ্রাণিত।
- একেশ্বরবাদ প্রচার করে।
৮. দেব সমাজ (১৮৮৭)
- প্রতিষ্ঠাতা: শিবনারায়ণ অগ্নিহোত্রী
- অঞ্চল: লাহোর
- মূল লক্ষ্য:
- নৈতিক শিক্ষা
- সমাজসেবা
- বাল্যবিবাহ রোধ
৯. ভারত ধর্ম মহামণ্ডল (১৯০২)
- প্রতিষ্ঠাতা:
- মদন মোহন মালব্য
- দীনদয়াল শর্মা
- উদ্দেশ্য:
- সনাতন হিন্দুধর্ম রক্ষা
- আর্য সমাজের বিরোধিতা
- রক্ষণশীল হিন্দু সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
মুসলিম ও শিখ সংস্কার আন্দোলন
১০. আহমদিয়া আন্দোলন (১৮৮৯)
- প্রতিষ্ঠাতা: মির্জা গোলাম আহমদ
- অঞ্চল: কদিয়ান, পাঞ্জাব
- মূল বক্তব্য:
- উদারপন্থী ইসলাম
- মানবতাবাদ
- শান্তির প্রচার
- জিহাদের সহিংস ধারণার বিরোধিতা
১১. ফরাইজি আন্দোলন (১৮১৮)
- প্রতিষ্ঠাতা: হাজী শরীয়তউল্লাহ
- অঞ্চল: বাংলা
- লক্ষ্য:
- ইসলামের কুসংস্কার দূর করা
- ধর্মীয় শুদ্ধিকরণ
- পরবর্তীতে দুদু মিঞার নেতৃত্বে কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- নীলকর ও জমিদারদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে।
১২. তারিকাহ-ই-মুহম্মদিয়া (ওয়াহাবি আন্দোলন)
- নেতা: সৈয়দ আহমদ বেরেলভি
- ভারতে ইসলামের শুদ্ধিকরণ আন্দোলন।
- বাংলায় তিতুমীর এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হন।
- বারাসাত বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পর্কিত।
১৩. সিং সভা আন্দোলন (১৮৭৩)
- স্থান: অমৃতসর
- উদ্দেশ্য:
- শিখ ধর্মের সংস্কার
- আধুনিক শিক্ষা বিস্তার
- ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করা
- পরবর্তীকালে অকালি আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে তোলে।
গুরুত্বপূর্ণ নারী সংস্কারক
১. বেগম রোকেয়া
- মুসলিম নারীশিক্ষার অগ্রদূত
- প্রতিষ্ঠা করেন:
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল
- আঞ্জুমান-এ-খাওয়াতিন-এ-ইসলাম
- বিখ্যাত গ্রন্থ:
- সুলতানার স্বপ্ন
- মতিচূর
- নারী স্বাধীনতা ও শিক্ষার পক্ষে আন্দোলন করেন।
২. সাবিত্রীবাঈ ফুলে
- ভারতের প্রথম মহিলা শিক্ষিকা
- স্বামী: জ্যোতিরাও ফুলে
- পুনেতে মেয়েদের প্রথম স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- বিধবা ও অস্পৃশ্যদের কল্যাণে কাজ করেন।
- নারীশিক্ষার পথিকৃৎ।
৩. তারাবাঈ শিন্ডে
- মহারাষ্ট্রের নারীবাদী চিন্তাবিদ
- বিখ্যাত গ্রন্থ:
- স্ত্রী-পুরুষ তুলনা (১৮৮২)
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সমালোচনা করেন।
- ভারতীয় নারীবাদী সাহিত্যের পথিকৃৎ।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Quick Revision)
| উপাধি / বিশেষ নাম | প্রকৃত নাম |
| দক্ষিণ ভারতের বিদ্যাসাগর | কন্দুকুরি বীরেশলিঙ্গম |
| মহারাষ্ট্রের সক্রেটিস | মহাদেব গোবিন্দ রানাডে |
| লোকহিতবাদী | গোপাল হরি দেশমুখ |
| পাঞ্জাবের সিংহ | লালা লাজপত রায় |
পরীক্ষায় আসার মতো Matching Topics
| আন্দোলন | অঞ্চল | মুখপত্র/বিশেষ তথ্য |
| রাহনুমাঈ মাজদায়সান সভা | বম্বে | রাস্ত গোফতার |
| মতূয়া আন্দোলন | ফরিদপুর | হরিচাঁদ ঠাকুর |
| আহমদিয়া আন্দোলন | কদিয়ান | মির্জা গোলাম আহমদ |
| ফরাইজি আন্দোলন | বাংলা | হাজী শরীয়তউল্লাহ |
| সিং সভা আন্দোলন | অমৃতসর | শিখ সংস্কার |
| বেদ সমাজ | মাদ্রাজ | দক্ষিণ ভারতের ব্রাহ্মসমাজ |
| সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ | কলকাতা | আনন্দমোহন বসু |
| লিঙ্গায়ত আন্দোলন | কর্ণাটক | বসবেশ্বর |
কিছু তথ্য SAQ আকারে দেওয়া হল : ।।।।
ভক্তি ও সুফি আন্দোলন
1. আলভার ও নায়নার আন্দোলন ভারতের কোন রাজ্যে এবং কোন সময়ে সূচিত হয়েছিল?
Ans: তামিলনাড়ু, দক্ষিণ ভারতে খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শতকের মধ্যে।
2. ‘আলভার’ ও ‘নায়নার’ শব্দের অর্থ কী এবং তাঁরা কার উপাসক ছিলেন?
Ans: ‘আলভার’ শব্দের অর্থ বিষ্ণুভক্ত এবং ‘নায়নার’ শব্দের অর্থ শিবভক্ত সন্ত।
3. আলভার সন্তদের সংখ্যা কত ছিল এবং তাঁদের পদগুলির সংকলনের নাম কী?
Ans: আলভার সন্তদের সংখ্যা ছিল ১২ জন এবং তাঁদের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘নালায়ির দিব্য প্রবন্ধম’।
4. নায়নার সন্তদের সংখ্যা কত ছিল এবং তাঁদের পবিত্র রচনার সংকলনটি কী নামে পরিচিত?
Ans: নায়নার সন্তদের সংখ্যা ছিল ২৩ জন এবং তাঁদের রচনার সংকলনটির নাম ‘তেভারম’।
5. আলভার ও নায়নার সন্তরা প্রচারের জন্য সংস্কৃতের পরিবর্তে কোন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন?
Ans: তামিল ভাষা।
6. কর্ণাটকে দ্বাদশ শতকে লিঙ্গায়ত বা বীরশৈব আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
Ans: বসবেশ্বর (বা বাসব)।
7. লিঙ্গায়ত সম্প্রদায়ের অনুসারীরা তাঁদের শরীরে কোন প্রতীকটি ধারণ করতেন?
Ans: গলায় রূপোর কৌটোয় ‘ইষ্টলিঙ্গ’ ধারণ করতেন।
8. লিঙ্গায়ত আন্দোলনের মূল সামাজিক দর্শন বা বক্তব্য কী ছিল?
Ans: জাতিভেদ প্রথার তীব্র বিরোধিতা, ব্রাহ্মণ্যবাদের যজ্ঞ ও মূর্তিপূজার বিরোধিতা এবং নারী-পুরুষ সমতা।
9. বীরশৈব বা লিঙ্গায়ত আন্দোলনের মূল লক্ষ্য বা সাহিত্যিক ভিত্তি কী ছিল?
Ans: বচন সাহিত্য (Vachana Sahitya)।
10. রাজস্থানে ষোড়শ শতকে ‘দাদুপন্থ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি কার ভাবধারায় অনুপ্রাণিত ছিলেন?
Ans: দাদু দয়াল, তিনি সন্ত কবীরের ভাবধারায় প্রভাবিত ছিলেন।
11. দাদু দয়াল প্রচারিত নিরপেক্ষ ধর্মীয় দর্শনটি কী নামে পরিচিত?
Ans: “নিপখ” (Nipakh)।
12. ‘সুরসাগর’ গ্রন্থের রচয়িতা কে এবং তিনি কোন ভাষার মাধ্যমে ভক্তিগীতি রচনা করতেন?
Ans: সুরদাস, তিনি ব্রজভাষায় কাব্য রচনা করতেন।
13. সুরদাস ভক্তি আন্দোলনের কোন ধারার সাধক ছিলেন এবং তাঁর উপাস্য কে ছিলেন?
Ans: তিনি সগুণ বৈষ্ণব ভক্তিধারার সাধক ছিলেন এবং তাঁর উপাস্য ছিলেন শ্রীকৃষ্ণ (বিশেষত কৃষ্ণের বাল্যলীলা)।
14. হিন্দি সাহিত্যের অমূল্য সৃষ্টি ‘রামচরিতমানস’ কার রচনা এবং এটি কোন ভাষায় লিখিত?
Ans: তুলসীদাসের রচনা, এটি অবধী ভাষায় লিখিত।
15. তুলসীদাস রামকে সমাজ ও কাব্যে কীভাবে উপস্থাপন করেছেন?
Ans: রামকে আদেশ রাজা, পরমেশ্বর এবং নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
16. সুফিবাদের সবচেয়ে রক্ষণশীল সিলসিলা বা ধারা কোনটি ছিল?
Ans: নকশবন্দি সিলসিলা।
17. ভারতে নকশবন্দি সিলসিলা কে জনপ্রিয় করে তোলেন?
Ans: খাজা বাকি বিল্লাহ।
18. নকশবন্দি ধারার কোন নেতাকে ‘মুজাদ্দিদ আলি সানি’ (সহস্রাব্দের সংস্কারক) বলা হয়?
Ans: শেখ আহমদ সিরহিন্দি।
19. মুঘল সম্রাট আকবরের উদারপন্থী ‘দীন-ই-ইলাহি’ দর্শনের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন কোন সুফি সন্ত?
Ans: শেখ আহমদ সিরহিন্দি।
20. দক্ষিণ ভারতের ভক্তি আন্দোলনের আদি সন্তদের জাতপাতহীন সামাজিক আদর্শ পরবর্তীকালে কোন দার্শনিকদের ভিত্তি তৈরি করে?
Ans: রামানুজ এবং মাধবাচার্য।
সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলন: বাংলা ও পূর্ব ভারত
21. সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ কত খ্রিস্টাব্দে এবং কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
Ans: ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে, কলকাতায়।
22. সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার মূল কাণ্ডারি বা প্রতিষ্ঠাতা কারা ছিলেন?
Ans: আনন্দমোহন বসু, শিবনাথ শাস্ত্রী এবং উমেশচন্দ্র দত্ত।
23. কোন ঘটনার প্রতিবাদে কেশবচন্দ্র সেনের ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ ভেঙে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ গঠিত হয়?
Ans: কেশবচন্দ্র সেন কর্তৃক তাঁর নাবালিকা কন্যার সাথে কুচবিহারের হিন্দু রাজার বাল্যবিবাহ দেওয়ার প্রতিবাদে।
24. সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের সাংগঠনিক পরিকাঠামোর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
Ans: এটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও যুক্তিবাদী নিয়মতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছিল।
25. অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে ‘মতূয়া আন্দোলন’ কে শুরু করেছিলেন?
Ans: শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর।
26. হরিচাঁদ ঠাকুরের প্রয়াণের পর মতূয়া আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দেন কে?
Ans: তাঁর পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর।
27. মতূয়া আন্দোলনের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কী ছিল?
Ans: নমঃশূদ্র ও দলিত সমাজের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার, জাতিভেদ দূরীকরণ এবং সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।
28. মতূয়া ধর্মের মূল জীবনমুখী স্লোগানটি কী ছিল?
Ans: “হাতে কাম, মুখে নাম” (অর্থনৈতিক কাজ ও ঈশ্বরের নাম একসাথে)।
29. রামমোহন রায়ের সমাজ সংস্কারের বিরোধিতা করার জন্য কলকাতায় ‘ধর্ম সভা’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: রাধাকান্ত দেব (১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে)।
30. ধর্ম সভা প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
Ans: সনাতন হিন্দুধর্ম রক্ষা করা এবং সতীদাহ প্রথা রদ আইনের তীব্র বিরোধিতা করা।
31. উনিশ শতকের বাংলায় ব্রাহ্মসমাজের প্রধান বিরোধী রক্ষণশীল সংগঠন কোনটি ছিল?
Ans: রাধাকান্ত দেবের ‘ধর্ম সভা’।
32. তত্ত্ববোধিনী সভা কত খ্রিস্টাব্দে কে প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
33. আত্মীয় সভা কে কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: রাজা রামমোহন রায়, ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে।
34. বাংলার কোন সমাজ সংস্কারক “ঐতিহ্যবাহী আধুনিকতাবাদী” (Traditional Modernizer) নামে পরিচিত?
Ans: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
35. ডিরোজিওর অনুগামীদের দ্বারা বাংলায় গড়ে ওঠা সংস্কার আন্দোলনটির নাম কী ছিল?
Ans: ইয়ং বেঙ্গল বা নব্যবঙ্গ আন্দোলন।
সমাজ ও ধর্ম সংস্কার আন্দোলন: পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারত
36. ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে বম্বেতে প্রতিষ্ঠিত প্রথম গোপন সমাজ সংস্কার সংগঠনটির নাম কী?
Ans: পরমহংস মণ্ডলী।
37. পরমহংস মণ্ডলীর প্রতিষ্ঠাতা কারা ছিলেন?
Ans: দাদোবা পাণ্ডুরঙ্গ এবং দুর্গ আরাম মনছরাম।
38. পরমহংস মণ্ডলীর সভার কাজ কেন গোপনে পরিচালনা করা হতো?
Ans: উচ্চবর্ণের সমাজচ্যুতির ভয়ে এবং জাতিভেদ প্রথার প্রকাশ্য বিরোধিতার প্রথম দিক হওয়ায় এটি গোপনে চলত।
39. ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের সুরাটে ‘মানব ধর্ম সভা’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: মেহতাজি দুর্গ আরাম।
40. মানব ধর্ম সভার মূল আদর্শ কী ছিল?
Ans: সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ, জাদুটোনার বিরোধিতা এবং বিশ্বজনীন মানবতাবাদ প্রচার।
41. পার্সি বা জরথুষ্ট সমাজের প্রথম সমাজ সংস্কারক সংগঠনের নাম কী?
Ans: রাহনুমাঈ মাজদায়সান সভা (১৮৫১ খ্রিস্টাব্দ)।
42. রাহনুমাঈ মাজদায়সান সভার প্রধান প্রতিষ্ঠাতা কারা ছিলেন?
Ans: ফার্দুনজি নওরোজি, দাদাভাই নওরোজি এবং এস. এস. বাঙালি।
43. রাহনুমাঈ মাজদায়সান সভার মুখপত্র বা বিখ্যাত পত্রিকাটির নাম কী ছিল?
Ans: ‘রাস্ত গোফতার’ (যার অর্থ: সত্যবাদী)।
44. ‘রাস্ত গোফতার’ পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক কে ছিলেন?
Ans: দাদাভাই নওরোজি।
45. মাদ্রাজে (চেন্নাই) ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে ‘বেদ সমাজ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: কে. শ্রীধরালু নাইডু (সহযোগিতায় ছিলেন চেটিয়ার)।
46. ভারতের ইতিহাসের কোন সংগঠনকে “দক্ষিণ ভারতের ব্রাহ্মসমাজ” বলা হয়?
Ans: বেদ সমাজ-কে।
47. ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে লাহোরে ‘দেব সমাজ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: শিবনারায়ণ অগ্নিহোত্রী।
48. দেব সমাজ আন্দোলনের মূল ফোকাস বা লক্ষ্য কী ছিল?
Ans: সমাজসেবা, উচ্চ নৈতিক চরিত্রের বিকাশ এবং বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরোধিতা।
49. আর্য সমাজের শুদ্ধি আন্দোলন এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার বিরোধিতার উদ্দেশ্যে ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে কোন রক্ষণশীল সনাতন সংগঠনটি তৈরি হয়?
Ans: ভারত ধর্ম মহামণ্ডল।
50. ভারত ধর্ম মহামণ্ডল কে প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: পণ্ডিত মদন মোহন মালব্য এবং দীনদয়াল শর্মা।
51. বম্বেতে ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে ‘প্রার্থনা সমাজ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ।
52. প্রার্থনা সমাজকে মহারাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী সমাজ সংস্কার আন্দোলনে রূপান্তরিত করেন কে?
Ans: মহাদেব গোবিন্দ রানাডে (১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে যোগদানের পর)।
53. ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্রে ‘satyaশোধক সমাজ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: জ্যোতিরাও ফুলে (মহাত্মা ফুলে)।
54. দলিত ও নিম্নবর্ণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের আদি দলিল হিসেবে পরিচিত ‘गुलामगिरि’ বইটি কার লেখা?
Ans: জ্যোতিরাও ফুলে।
55. কেরলে অনগ্রসর ইঝাভা সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার জন্য ‘SNDP’ আন্দোলন কে শুরু করেন?
Ans: শ্রী নারায়ণ গুরু।
56. শ্রী নারায়ণ গুরুর বিখ্যাত সামাজিক স্লোগানটি কী ছিল?
Ans: “এক জাতি, এক ধর্ম, এক ঈশ্বর সমস্ত মানবজাতির জন্য” (Oru Jathi, Oru Matham, Oru Daivam Manushyanu)।
57. তামিলনাড়ুতে ব্রাহ্মণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ‘আত্মমর্যাদা আন্দোলন’ (Self-Respect Movement) কে শুরু করেন?
Ans: ই. ভি. রামাস্বামী নাইকার, যিনি ‘পেরিয়ার’ নামে জনপ্রিয়।
58. মাদ্রাজে অ-ব্রাহ্মণদের অধিকার আদায়ের জন্য গড়ে ওঠা জাস্টিস পার্টি আন্দোলনের নেতৃত্ব কারা দিয়েছিলেন?
Ans: সি. এন. মুদালিয়ার, টি এম নায়ার এবং পি. ত্যাগরাজা চেট্টি।
মুসলিম ও শিখ সংস্কার আন্দোলন
59. ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাবের কদিয়ানে ‘আহমদিয়া আন্দোলন’ কে শুরু করেন?
Ans: মির্জা গোলাম আহমদ।
60. আহমদিয়া আন্দোলনের মূল ধর্মীয় চরিত্র কেমন ছিল?
Ans: এটি ছিল একটি উদারপন্থী ও সংস্কারমুখী আন্দোলন, যা ইসলামে জিহাদের সশস্ত্র ধারণার বিরোধিতা করত।
61. ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব বাংলায় (ফরিদপুর) ‘ফরাইজি আন্দোলন’ কে শুরু করেছিলেন?
Ans: হাজী শরীয়তউল্লাহ।
62. ‘ফরাইজি’ শব্দটির উৎস কী এবং এর মূল অর্থ কী?
Ans: শব্দটি আরবি ‘ফরাজ’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘ইসলাম নির্ধারিত বাধ্যতামূলক ধর্মীয় कर्तव्य’।
63. হাজী শরীয়তউল্লাহের মৃত্যুর পর ফরাইজি আন্দোলনকে একটি সফল অর্থনৈতিক ও কৃষক বিদ্রোহে রূপ দেন কে?
Ans: তাঁর পুত্র মহম্মদ মহসিন, যিনি ইতিহাসে ‘দুদু মিঞা’ নামে পরিচিত।
64. দুদু মিঞার বিখ্যাত ভূমি সংস্কার সংক্রান্ত স্লোগানটি কী ছিল?
Ans: “জমি আল্লাহর দান, তাই জমির ওপর কর ধার্য করার অধিকার জমিদারের নেই।”
65. ভারতে ‘তারিকাহ-ই-মুহম্মদিয়া’ বা ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল প্রতিষ্ঠাতা বা প্রধান নেতা কে ছিলেন?
Ans: সৈয়দ আহমদ বেরেলভি (রায়বেরেলি)।
66. বাংলায় ওয়াহাবি ভাবধারার বিস্তার ঘটিয়ে বিখ্যাত ‘বারাসাত বিদ্রোহ’ কে পরিচালনা করেন?
Ans: মীর নিসার আলী, যিনি ‘তিতুমীর’ নামে পরিচিত।
67. তিতুমীর অত্যাচারী জমিদার কৃষ্ণদেব রায় ও নীলকরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কোথায় বাঁশের কেল্লা তৈরি করেছিলেন?
Ans: নারিকেলবেড়িয়া গ্রামে (১৮৩১ খ্রিস্টাব্দ)।
68. ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে শিখ ধর্মের অভ্যন্তরীণ কুপ্রথা দূর করতে এবং শিখদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষার প্রসারের জন্য কোন আন্দোলন গড়ে ওঠে?
Ans: সিং সভা আন্দোলন (Singh Sabha Movement)।
69. সিং সভা আন্দোলনের প্রথম অধিবেশনটি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
Ans: অমৃতসরে।
70. সিং সভা আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯২০-র দশকে পাঞ্জাবের গুরুদ্বারগুলোকে দুর্নীতিগ্রস্ত মহন্তদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য কোন আন্দোলন শুরু হয়?
Ans: অকালি আন্দোলন বা গুরুদ্বার সংস্কার আন্দোলন।
71. ১৮ শতকের শেষে পাঞ্জাবে বাবা রাম সিং-এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নামধারী আন্দোলনটি অন্য কী নামে পরিচিত ছিল?
Ans: কুকা আন্দোলন (Kuka Movement)।
72. মুসলিম সমাজের আধুনিকীকরণের উদ্দেশ্যে আলিগড় আন্দোলনের সূচনা কে করেছিলেন?
Ans: স্যার সৈয়দ আহমদ খান।
73. ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে মহম্মদ কাসিম নানৌতবে ও রসিদ আহমেদ গঙ্গোহী কোন ঐতিহ্যবাদী রক্ষণশীল আন্দোলন শুরু করেন?
Ans: দেওবন্দ আন্দোলন (Deoband Movement)।
গুরুত্বপূর্ণ নারী সংস্কারক
74. বাংলায় মুসলিম নারীশিক্ষার প্রসারে ও কুপ্রথার বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করেছেন কোন মহীয়সী নারী?
Ans: বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।
75. বেগম রোকেয়া কলকাতার বুকে মুসলিম মেয়েদের জন্য কোন বিখ্যাত স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল (১৯১১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়)।
76. বেগম রোকেয়া কর্তৃক ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে গঠিত মুসলিম মহিলাদের প্রথম সমাজসেবামূলক সংগঠনের নাম কী?
Ans: আঞ্জুমান-এ-খাওয়াতিন-এ-ইসলাম (নিখিল ভারত মুসলিম মহিলা সমিতি)।
77. ‘সুলতানার স্বপ্ন’ (Sultana’s Dream) ও ‘মতিচূর’ গ্রন্থদুটির রচয়িতা কে?
Ans: বেগম রোকেয়া।
78. ভারতের প্রথম আধুনিক মহিলা শিক্ষিকা এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে কাকে গণ্য করা হয়?
Ans: সাবিত্রীবাঈ ফুলে-কে।
79. সাবিত্রীবাঈ ফুলে তাঁর স্বামী জ্যোতিরাও ফুলের সাথে যৌথভাবে কত সালে এবং কোথায় মেয়েদের প্রথম স্কুল খোলেন?
Ans: ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে, পুনের ভিড়ে ওয়াডায় (Bhide Wada)।
80. দলিত, অস্পৃশ্য এবং গর্ভবতী ধর্ষিতা বিধবাদের সুরক্ষার জন্য সাবিত্রীবাঈ ফুলে পুনেতে কোন আশ্রমটি খুলেছিলেন?
Ans: বালহত্যা প্রতিবন্ধক গৃহ (Balhatya Pratibandhak Griha)।
81. মহারাষ্ট্রের কোন নারী সংস্কারক পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে ১৮৮২ সালে ‘স্ত্রী-পুরুষ তুলনা’ বইখানি লেখেন?
Ans: তারাবাঈ শিন্ডে।
82. তারাবাঈ শিন্ডের লেখা ‘স্ত্রী-পুরুষ তুলনা’ বইটিকে ভারতের ইতিহাসে কী হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়?
Ans: ভারতের প্রথম আধুনিক নারীবাদী বা লিঙ্গ-সমতাভিত্তিক সমালোচনামূলক সাহিত্য।
83. ১৮ briefs শতকে পুনেতে উচ্চবর্ণের হিন্দু অনাথ ও বিধবা মহিলাদের আশ্রয় ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য ‘শারদা সদন’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: পণ্ডিত রমাবাই সরস্বতী।
84. পণ্ডিত রমাবাই খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার পর পুনের কাছে কেদগাঁওয়ে দুস্থ মহিলাদের জন্য কোন আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: মুক্তি মিশন (Mukti Mission)।
85. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম কোন ভারতীয় মহিলাকে তাঁর অগাধ সংস্কৃত পাণ্ডিত্যের জন্য ‘পণ্ডিত’ ও ‘সরস্বতী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
Ans: রমাবাই-কে (১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে)।
86. ভারতের সমাজ সংস্কারের ইতিহাসে কাকে “দক্ষিণ ভারতের বিদ্যাসাগর” বলা হয়?
Ans: কন্দুকুরি বীরেশলিঙ্গম পান্তুলু-কে।
87. কন্দুকুরি বীরেশলিঙ্গম পান্তুলু মাদ্রাজে মূলত কোন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিদ্যাসাগরের সাথে তুলনীয় হন?
Ans: বিধবা বিবাহ আন্দোলন (১৮৮১ সালে তিনি প্রথম দক্ষিণ ভারতে বিধবা বিবাহ সম্পন্ন করan)।
88. ভারতের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সংস্কারের পটভূমিতে কাকে “মহারাষ্ট্রের সক্রেটিস” বলা হয়?
Ans: মহাদেব গোবিন্দ রানাডে-কে।
89. মহারাষ্ট্রের কোন সমাজ সংস্কারক ছদ্মনাম হিসেবে “লোকহিতবাদী” নাম ধারণ করেছিলেন?
Ans: গোপাল হরি দেশমুখ।
90. আর্য সমাজের লাহোর শাখার অন্যতম প্রধান নেতা তথা চরমপন্থী স্বাধীনতা সংগ্রামী কাকে “পাঞ্জাবের সিংহ” (Sher-e-Punjab) বলা হয়?
Ans: লালা লাজপত রায়-কে।
91. আর্য সমাজ কে কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী, ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে বম্বেতে।
92. স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মূল স্লোগান বা আহ্বানটি কী ছিল?
Ans: “বেদের দিকে ফিরে যাও” (Go back to the Vedas)।
93. হিন্দু ধর্ম ত্যাগী ব্যক্তিদের পুনরায় স্বধর্মে ফিরিয়ে আনার জন্য আর্য সমাজ কোন আন্দোলনের সূচনা করেছিল?
Ans: শুদ্ধি আন্দোলন (Shuddhi Movement)।
94. উনিশ শতকের বম্বের কোন সংস্কারক জাতপাত বিরোধী আন্দোলনের জন্য ‘মহারাষ্ট্রের সমাজ সংস্কারের জনক’ নামে পরিচিত?
Ans: বালশাস্ত্রী আম্বেকর।
95. ‘বেদভাষ্য’ এবং ‘সত্যার্দ প্রকাশ’ গ্রন্থদুটি কার রচনা?
Ans: স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী।
96. স্বামী বিবেকানন্দ কত খ্রিস্টাব্দে ‘রামকৃষ্ণ মিশন’ প্রতিষ্ঠা করেন?
Ans: ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে (১লা মে)।
97. ভারতের থিয়োসফিক্যাল সোসাইটির আন্দোলনের সাথে যুক্ত কোন আইরিশ মহিলা কেন্দ্রীয় হিন্দু কলেজ (বারাণসী) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
Ans: অ্যানি বেসান্ত।
98. মুঘল সম্রাট আকবর কত খ্রিস্টাব্দে ‘দীন-ই-ইলাহি’ নামক সর্বধর্মসমন্বয় ধর্মের প্রবর্তন করেন?
Ans: ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে।
99. শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক দেবের বাণী ও উপদেশসমূহ কোন পবিত্র গ্রন্থে সংকলিত রয়েছে?
Ans: গুরু গ্রন্থ সাহেব (বা আদি গ্রন্থ)।
100. মধ্যযুগের বিখ্যাত ভক্তি সাধক কবীরের পরমার্থিক দোহা বা বাণীসমূহ কোন গ্রন্থে সংরক্ষিত আছে?
Ans: বীজক (Bijak)।
