WB UPPER PRIMARY TET || History (ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন) || Social Studies PDF

0
shekhapora.com

WBTET, WBSLST, HISTORY, ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, WBSLST History, WB TET Study Material, ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ, চুয়াড় বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহ, সিপাহী বিদ্রোহ, মহাবিদ্রোহ ১৮৫৭, নীল বিদ্রোহ, বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন, স্বদেশী আন্দোলন, সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন, আলিপুর বোমা মামলা, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, খিলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, চৌরিচৌরা ঘটনা, আইন অমান্য আন্দোলন, ডান্ডি অভিযান, লবণ সত্যাগ্রহ, ভারত ছাড়ো আন্দোলন, আজাদ হিন্দ ফৌজ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধী, নৌবিদ্রোহ ১৯৪৬, Indian National Movement GK, History SAQ for TET,

 WB TET পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং 

প্রধান স্বাধীনতাকামী নেতাদের অবদান বিষয়ক পয়েন্টগুলো দেখে নাওঃ 

ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন PDF

[[ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন পরীক্ষার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনসমূহ – সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ (১৭৬৩–১৮০০): প্রধান নেতা মজনু শাহ ও ভবানী পাঠক। এটি ছিল প্রারম্ভিক ব্রিটিশ বিরোধী প্রতিরোধ। – চুয়াড় বিদ্রোহ (১৭৬৬–১৭৯৯): মেদিনীপুর অঞ্চলে ঘটে। প্রধান নেত্রী ছিলেন রাণী শিরোমণি। – সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫–৫৬): সিধু ও কানহুর নেতৃত্বে আদিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রাম। – সিপাহী বিদ্রোহ / মহাবিদ্রোহ (১৮৫৭): মঙ্গল পাণ্ডে, নানাসাহেব, লক্ষ্মীবাঈ প্রমুখের নেতৃত্বে ভারতের প্রথম প্রধান স্বাধীনতা সংগ্রাম। – নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯–৬০): দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাসের নেতৃত্বে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন। – বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলন (১৯০৫): লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিপিন চন্দ্র পাল প্রমুখের নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলন। প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশী দ্রব্যের ব্যবহার। – বিপ্লবী আন্দোলন (১৯০৫–১৯৩৪): ক্ষুদিরাম বসু, বাঘাযতীন, সূর্য সেন প্রমুখের নেতৃত্বে সশস্ত্র বিপ্লববাদ। এর মধ্যে আলিপুর বোমা মামলা (১৯০৮) ও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন (১৯৩০) অন্যতম। – খিলাফত আন্দোলন (১৯১৯): আলি ভ্রাতৃদ্বয়ের নেতৃত্বে তুরস্কের খলিফার সমর্থনে আন্দোলন, যা পরে অসহযোগের সাথে যুক্ত হয়। – অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০–২২): মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে প্রথম সর্বভারতীয় গণআন্দোলন। ১৯২২ সালে চৌরিচৌরা ঘটনার পর এটি প্রত্যাহার করা হয়। – আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০–৩৪): গান্ধীজির ডান্ডি অভিযান ও লবণ সত্যাগ্রহের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। – ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২): গান্ধীজির “করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে” (Do or Die) আহ্বানের মাধ্যমে শুরু হওয়া চূড়ান্ত গণসংগ্রাম। – আজাদ হিন্দ ফৌজ আন্দোলন (১৯৪৩): নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে ভারতের বাইরে থেকে সশস্ত্র মুক্তির লড়াই। – নৌবিদ্রোহ (১৯৪৬): রয়্যাল ইন্ডিয়ান নেভির ভারতীয় রেটিংদের দ্বারা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে শেষ বড় আঘাত। গান্ধিজি, নেতাজি এবং ভারতের স্বাধীনতাকামী ব্যক্তিদের তালিকা ও কৃতিত্ত্ব – মহাত্মা গান্ধী: – ভারতে চম্পারণ সত্যাগ্রহ (১৯১৭)-র মাধ্যমে প্রথম সত্যাগ্রহের প্রয়োগ। – অসহযোগ (১৯২০), আইন অমান্য (১৯৩০) এবং ভারত ছাড়ো (১৯৪২) আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। – অহিংসা ও সত্যাগ্রহের আদর্শে গণআন্দোলনকে চালিত করেন। – নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: – কংগ্রেসের হরিপুরা (১৯৩৮) ও ত্রিপুরী (১৯৩৯) অধিবেশনের সভাপতি। – ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজের (INA) নেতৃত্ব গ্রহণ। – “দিল্লি চলো” এবং “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব” স্লোগানের মাধ্যমে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেন। – সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়: – ১৮৭৬ সালে ভারতসভা (Indian Association) গঠন করেন। – বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে রাষ্ট্রগুরু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। – সূর্য সেন (মাস্টারদা): – ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের প্রধান নায়ক। – ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি গঠন করে ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেন। – ক্ষুদিরাম বসু: – প্রফুল্ল চাকীর সাথে কিংসফোর্ডকে হত্যার চেষ্টা এবং কনিষ্ঠতম বিপ্লবী হিসেবে ফাঁসির মঞ্চে আত্মবলিদান। – লালা হরদয়াল: – ১৯১৩ সালে আমেরিকায় ‘গদর আন্দোলন’ ও গদর পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। – বালগঙ্গাধর তিলক ও অ্যানি বেসান্ত: – ১৯১৬ সালে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে হোমরুল আন্দোলন গড়ে তোলেন। – অরবিন্দ ঘোষ: – আলিপুর বোমা মামলার সাথে যুক্ত এবং চরমপন্থী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান তাত্ত্বিক নেতা।]]  

গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনসমূহ

  • সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ (১৭৬৩–১৮০০): প্রধান নেতা মজনু শাহ ও ভবানী পাঠক। এটি ছিল প্রারম্ভিক ব্রিটিশ বিরোধী প্রতিরোধ।
  • চুয়াড় বিদ্রোহ (১৭৬৬–১৭৯৯): মেদিনীপুর অঞ্চলে ঘটে। প্রধান নেত্রী ছিলেন রাণী শিরোমণি।
  • সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫–৫৬): সিধু ও কানহুর নেতৃত্বে আদিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম।
  • সিপাহী বিদ্রোহ / মহাবিদ্রোহ (১৮৫৭): মঙ্গল পাণ্ডে, নানাসাহেব, লক্ষ্মীবাঈ প্রমুখের নেতৃত্বে ভারতের প্রথম প্রধান স্বাধীনতা সংগ্রাম।
  • নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯–৬০): দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাসের নেতৃত্বে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন।
  • বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলন (১৯০৫): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিপিন চন্দ্র পাল প্রমুখের নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলন। প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশী দ্রব্যের ব্যবহার।
  • বিপ্লবী আন্দোলন (১৯০৫–১৯৩৪): ক্ষুদিরাম বসু, বাঘাযতীন, সূর্য সেন প্রমুখের নেতৃত্বে সশস্ত্র বিপ্লববাদ। এর মধ্যে আলিপুর বোমা মামলা (১৯০৮) ও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন (১৯৩০) অন্যতম।
  • খিলাফত আন্দোলন (১৯১৯): আলি ভ্রাতৃদ্বয়ের নেতৃত্বে তুরস্কের খলিফার সমর্থনে আন্দোলন।
  • অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০–২২): মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে প্রথম সর্বভারতীয় গণআন্দোলন। ১৯২২ সালে চৌরিচৌরা ঘটনার পর এটি প্রত্যাহার করা হয়।
  • আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০–৩৪): গান্ধীজির ডান্ডি অভিযান ও লবণ সত্যাগ্রহের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হয়।
  • ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২): গান্ধীজির “করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে” (Do or Die) আহ্বানের মাধ্যমে শুরু হওয়া চূড়ান্ত গণসংগ্রাম।
  • আজাদ হিন্দ ফৌজ আন্দোলন (১৯৪৩): নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে ভারতের বাইরে থেকে সশস্ত্র মুক্তির লড়াই।
  • নৌবিদ্রোহ (১৯৪৬): রয়্যাল ইন্ডিয়ান নেভির ভারতীয় রেটিংদের দ্বারা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে শেষ বড় আঘাত।

ভারতের স্বাধীনতাকামী ব্যক্তিদের তালিকা ও কৃতিত্ব

  • মহাত্মা গান্ধী:
    • ভারতে চম্পারণ সত্যাগ্রহ (১৯১৭)-র মাধ্যমে প্রথম সত্যাগ্রহের প্রয়োগ।
    • অসহযোগ (১৯২০), আইন অমান্য (১৯৩০) এবং ভারত ছাড়ো (১৯৪২) আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি।
    • অহিংসা ও সত্যাগ্রহের আদর্শে গণআন্দোলনকে চালিত করেন।
  • নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু:
    • কংগ্রেসের হরিপুরা (১৯৩৮) ও ত্রিপুরী (১৯৩৯) অধিবেশনের সভাপতি।
    • ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজের (INA) নেতৃত্ব গ্রহণ।
    • “দিল্লি চলো” এবং “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব” স্লোগানের মাধ্যমে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেন।
  • সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়:
    • ১৮৭৬ সালে ভারতসভা (Indian Association) গঠন করেন। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে রাষ্ট্রগুরু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
  • সূর্য সেন (মাস্টারদা):
    • ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের প্রধান নায়ক। ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি গঠন করে ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেন।
  • ক্ষুদিরাম বসু:
    • প্রফুল্ল চাকীর সাথে কিংসফোর্ডকে হত্যার চেষ্টা এবং কনিষ্ঠতম বিপ্লবী হিসেবে ফাঁসির মঞ্চে আত্মবলিদান।
  • লালা হরদয়াল:
    • ১৯১৩ সালে আমেরিকায় ‘গদর আন্দোলন’ ও গদর পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।
  • বালগঙ্গাধর তিলক ও অ্যানি বেসান্ত:
    • ১৯১৬ সালে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে হোমরুল আন্দোলন গড়ে তোলেন।
  • অরবিন্দ ঘোষ:
    • আলিপুর বোমা মামলার সাথে যুক্ত এবং চরমপন্থী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান তাত্ত্বিক নেতা।

         বাছাই করা তথ্য সমূহ দেখে নাও। 

WB TET পরীক্ষার রিভিশন সহজ করার জন্য 

২০০টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ)

১. প্রারম্ভিক পর্বের কৃষক, উপজাতি ও আঞ্চলিক বিদ্রোহ

১. সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের মূল কারণ কী ছিল?

উত্তর: ব্রিটিশদের অতিরিক্ত ভূমিরাজস্ব আদায় এবং তীর্থযাত্রীদের ওপর কর আরোপ।

২. সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন উপন্যাস রচনা করেন?

উত্তর: ‘আনন্দমঠ’ (এই উপন্যাসেই ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি রয়েছে)।

৩. বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের উল্লেখ আছে?

উত্তর: ‘দেবী চৌধুরানী’।

৪. চুয়াড় বিদ্রোহের প্রধান এলাকা কোনটি ছিল?

উত্তর: জঙ্গলমহল (মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও মানভূম জেলা)।

৫. চুয়াড় বিদ্রোহের দ্বিতীয় পর্বের (১৭৯৮-৯৯) প্রধান নেত্রী কে ছিলেন?

উত্তর: মেদিনীপুরের কর্ণগড়ের রানি শিরোমণি।

৬. রানি শিরোমণিকে কী বলা হয়?

উত্তর: ‘মেদিনীপুরের লক্ষ্মীবাঈ’।

৭. পাইকান জমি কী?

উত্তর: চুয়াড়রা যে নিষ্কর জমি ভোগের বিনিময়ে জমিদারদের অধীনে লাঠিয়ালের কাজ করত, তাকে পাইকান জমি বলা হতো।

৮. কোল বিদ্রোহ কবে এবং কোথায় হয়েছিল?

উত্তর: ১৮৩১-৩২ সালে ছোটనాগপুর অঞ্চলে (রাঁচি, সিংহভূম, হাজারীবাগ)।

৯. কোল বিদ্রোহের প্রধান নেতাদের নাম কী?

উত্তর: बुद्धु ভগত, জোয়া ভগত, জিন্দরাই মানকি এবং সুই মুন্ডা।

১০. সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রতীক কী ছিল?

উত্তর: শাল গাছ।

১১. সাঁওতালরা তাদের নিজেদের অঞ্চলকে কী বলত?

উত্তর: দামিন-ই-کোহ্ (পাহাড়ের প্রান্তদেশ)।

১২. সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান চার ভাইয়ের নাম কী?

উত্তর: সিধু, কানহু, চাঁদ ও ভैরব।

১৩. সাঁওতাল বিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা উপজাতিদের জন্য কোন বিশেষ জেলা গঠন করে?

উত্তর: সাঁওতাল পরগনা।

১৪. ‘দিকু’ কাদের বলা হতো?

উত্তর: সাঁওতাল অঞ্চলে বহিরাগত মহাজন, ব্যবসায়ী ও জমিদারদের দিকু বলা হতো।

১৫. মুন্ডা বিদ্রোহ (উলগুলান) কবে এবং কার নেতৃত্বে হয়েছিল?

উত্তর: ১৮৯৯-১৯০০ সালে বীরসা মুন্ডার নেতৃত্বে।

১৬. ‘উলগুলান’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: প্রবল আলোড়ন বা ভয়ংকর বিদ্রোহ।

১৭. বীরসা মুন্ডার অনুগামীরা তাঁকে কী বলে ডাকত?

উত্তর: ধরতি আবা (জগতের পিতা)।

১৮. খুতকাঠি প্রথা কী?

উত্তর: মুন্ডা সমাজে প্রচলিত জমির যৌথ মালিকানা প্রথা।

১৯. ওয়াহাবি আন্দোলনের প্রকৃত নাম কী?

উত্তর: তারিকা-ই-মহম্মদীয়া (মহম্মদের নির্দেশিত পথ)।

২০. ভারতে ওয়াহাবি আন্দোলনের সূচনা কে করেন?

উত্তর: রায়বেরেলির সৈয়দ আহমেদ।

২১. বাংলায় ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?

উত্তর: মীর নিসার আলি ওরফে তিতুমীর।

২২. তিতুমীর কোথায় বাঁশের কেল্লা তৈরি করেছিলেন?

উত্তর: ২৪ পরগনার বারাসতের কাছে নারকেলবেড়িয়া গ্রামে (১৮৩১ সালে)।

২৩. তিতুমীরের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: গোলাম মাসুম।

২৪. বারাসত বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দেন?

উত্তর: তিতুমীর।

২৫. ফরাজী আন্দোলনের প্রবর্তক কে ছিলেন?

উত্তর: হাজি শরিয়তউল্লাহ (১৮১৮ সালে)।

২৬. ‘ফরাজী’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: আল্লার আদেশ বা ইসলাম নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক कर्तव्य।

২৭. হাজি শরিয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর ফরাজী আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দেন?

উত্তর: তাঁর পুত্র মহম্মদ মহসিন ওরফে দুদু মিঞা।

২৮. “জমি আল্লাহর দান, তাই জমির ওপর কর বসানোর অধিকার কারও নেই”— এই উক্তিটি কার?

উত্তর: দুদু মিঞার।

২৯. পাগলপন্থী বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?

উত্তর: করম শাহ এবং তাঁর পুত্র টিপু শাহ।

৩০. ভিল বিদ্রোহ কোথায় ও কবে হয়েছিল?

উত্তর: পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় ১৮১৮-১৯ সালে সেওয়ারামের নেতৃত্বে। 

২. নীল বিদ্রোহ ও অন্যান্য কৃষক আন্দোলন

৩১. নীল বিদ্রোহের প্রথম সূচনা কোথায় হয়েছিল?

উত্তর: ১৮৫৯ সালে নদীয়া জেলার চৌগাছা গ্রামে।

৩২. নীল বিদ্রোহের প্রধান দুজন নেতার নাম লেখো।

উত্তর: দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস।

৩৩. নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে রচিত বিখ্যাত নাটক কোনটি?

উত্তর: দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীল দর্পণ’ (১৮৬০)।

৩৪. ‘নীল দর্পণ’ নাটকটি ইংরেজিতে কে অনুবাদ করেছিলেন?

উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত (‘The Indigo Planting Mirror’)।

৩৫. কার নামে নীল দর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তাঁর জেল হয়েছিল?

উত্তর: রেভারেন্ড জেমস লং।

৩৬. কোন পত্রিকা নীল বিদ্রোহকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছিল?

উত্তর: হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদিত ‘हिंदू पेट्रियट’।

৩৭. ‘বাংলার ওয়াট টাইলার’ কাদের বলা হয়?

উত্তর: দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাসকে।

৩৮. ব্রিটিশ সরকার নীল চাষের তদন্তের জন্য কবে নীল কমিশন গঠন করে?

উত্তর: ১৮৬০ সালে।

৩৯. পাবনা কৃষক বিদ্রোহ (১৮৭৩) কোন অঞ্চলে হয়েছিল?

উত্তর: পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) পাবনা জেলার ইউসুফশাহী পরগনায়।

৪০. পাবনা কৃষক আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?

উত্তর: ঈশানচন্দ্র রায় (তাঁকে ‘কৃষক রাজা’ বলা হতো) এবং শম্ভুনাথ পাল।

৪১. দাক্ষিণাত্য হাঙ্গামা (Deccan Riots) কবে এবং কোথায় হয়েছিল?

উত্তর: ১৮৭৫ সালে পুনে ও আহমেদনগর জেলায় সুদখোর মহাজনদের বিরুদ্ধে।

৪২. মোপলা বিদ্রোহ (১৯২১) কোথায় হয়েছিল?

উত্তর: কেরালার মালাবার উপকূলে।

৪৩. মোপলা বিদ্রোহের প্রধান নেতা কে ছিলেন?

উত্তর: আলি মুসালিয়ার।

৩. ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ / সিপাহী বিদ্রোহ

৪৪. সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম শহীদ কে ছিলেন?

উত্তর: মঙ্গল পাণ্ডে (২৯শে মার্চ, ১৮৫৭, ব্যারাকপুর)।

৪৫. সিপাহী বিদ্রোহের আনুষ্ঠানিক সূচনা কবে এবং কোথায় হয়?

উত্তর: ১০ই মে, ১৮৫৭, মিরাট সেনানিবাসে।

৪৬. মহাবিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

উত্তর: লর্ড ক্যানিং।

৪৭. বিদ্রোহীরা কাকে ভারতের সম্রাট বলে ঘোষণা করেছিল?

উত্তর: দিল্লির শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে।

৪৮. দিল্লির বিদ্রোহের প্রকৃত সামরিক নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?

উত্তর: জেনারেল বখত খান।

৪৯. কানপুরে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব কারা দিয়েছিলেন?

উত্তর: নানাসাহেব (ধন্দুপন্থ) এবং তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতি তাঁতিয়া টোপী।

৫০. তাঁতিয়া টোপীর আসল নাম কী ছিল?

উত্তর: রামচন্দ্র পাণ্ডুরঙ্গ টোপী।

৫১. ঝাঁসিতে বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দেন?

উত্তর: রানি লক্ষ্মীবাঈ।

৫২. রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের আসল নাম কী ছিল?

উত্তর: মণিকর্ণিকা (ডাকনাম: মনু)।

৫৩. লক্ষ্মীবাঈ যুদ্ধক্ষেত্রে কার কাছে পরাজিত ও নিহত হন?

উত্তর: ব্রিটিশ জেনারেল হিউ রোজ-এর কাছে।

৫৪. বিহারের জগদীশপুরে বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?

উত্তর: আশির দশকে পৌঁছানো বৃদ্ধ রাজপুত নেতা কুঁয়ার সিংহ।

৫৫. অযোধ্যায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব কে দেন?

উত্তর: বেগম হজরত মহল।

৫৬. মহাবিদ্রোহকে ‘ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ’ কে বলেছেন?

উত্তর: বিনায়ক দামোদর সাভারকর (তাঁর ‘The Indian War of Independence’ বইতে)।

৫৭. মহাবিদ্রোহকে কে কেবলই একটি ‘সিপাহী বিদ্রোহ’ বা সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া বলেছেন?

উত্তর: ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার ও ড. সুরেন্দ্রনাথ সেন।

৫৮. মহাবিদ্রোহের ওপর লেখা ‘Eighteen Fifty-Seven’ বইটির লেখক কে?

উত্তর: ড. সুরেন্দ্রনাথ সেন (এটি ভারত সরকারের অনুমোদিত ইতিহাস)।

৫৯. মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটিশ শাসনের কী পরিবর্তন হয়?

উত্তর: ১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইন দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার ব্রিটেনের রানি ভিক্টোরিয়ার হাতে যায়।

৬০. ভারতের প্রথম ভাইসরয় কে ছিলেন?

উত্তর: লর্ড ক্যানিং।

৪. political চেতনার উন্মেষ ও বিভিন্ন সভা-সমিতি

৬১. ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান কোনটি?

উত্তর: বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা (১৮৩৬)।

৬২. জমিদার সভা (Landholders’ Society) কবে এবং কার উদ্যোগে গঠিত হয়?

উত্তর: ১৮৩৮ সালে দ্বারকানাথ ঠাকুর, প্রসন্নকুমার ঠাকুর প্রমুখের উদ্যোগে।

৬৩. ‘ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি’ কে এবং কোথায় প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: ১৮৩৯ সালে উইলিয়াম অ্যাডাম লন্ডনে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।

৬৪. বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি কবে গঠিত হয়?

উত্তর: ১৮৪৩ সালে জর্জ টম্পসনের সভাপতিত্বে।

৬৫. ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৫১) এর প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?

উত্তর: দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (সভাপতি ছিলেন রাধাকান্ত দেব)।

৬৬. বোম্বাই অ্যাসোসিয়েশন (১৮৫২) কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: জগন্নাথ শংকরশেঠ।

৬৭. পুনা সার্বজনিক সভা কবে এবং কাদের উদ্যোগে গঠিত হয়?

উত্তর: ১৮৭০ সালে মহাদেব গোবিন্দ রানাডে এবং গণেশ বাসুদেব জোশীর উদ্যোগে।

৬৮. ‘ভারতসভা’ (Indian Association) কবে এবং কার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৮৭৬ সালের ২৬শে জুলাই সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসুর নেতৃত্বে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে।

৬৯. ভারতসভাের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়।

৭০. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বিখ্যাত পত্রিকাটির নাম কী?

উত্তর: ‘দ্য বেঙ্গলি’ (The Bengalee)।

৭১. সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৯ করার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে কোন সংস্থা?

উত্তর: ভারতসভা।

৭২. ইলবার্ট বিল বিতর্ক কবে এবং কার আমলে হয়েছিল?

উত্তর: ১৮环境৩ সালে লর্ড রিপনের আমলে (ইউরোপীয় ও ভারতীয় বিচারকদের সমঅধিকার সংক্রান্ত)।

৭৩. জাতীয় মেলার (পরবর্তীতে হিন্দু মেলা) প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: নবগোপাল মিত্র ও রাজনারায়ণ বসু (১৮৬৭ সালে)।

৭৪. কাকে ‘ন্যাশনাল মিত্র’ বলা হতো?

উত্তর: নবগোপাল মিত্রকে।

৭৫. ‘অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল কনফারেন্স’ বা জাতীয় সম্মেলন প্রথম কবে অনুষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৮৮৩ সালে কলকাতায়, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে।

৫. ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (জাতীয় কংগ্রেস) প্রতিষ্ঠা

৭৬. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৮৮৫ সালের ২৮শে ডিসেম্বর।

৭৭. জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন কোথায় বসেছিল?

উত্তর: বোম্বাইয়ের গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজে।

৭৮. জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে কতজন প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন?

উত্তর: ৭২ জন।

৭৯. জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (W. C. Bonnerjee)।

৮০. জাতীয় কংগ্রেসের মূল উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

উত্তর: অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (A. O. Hume)।

৮১. কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় ভারতের ভাইসরয় কে ছিলেন?

উত্তর: লর্ড ডাফরিন।

৮২. ডাফরিন কংগ্রেসকে কী বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন?

উত্তর: ‘অণুবীক্ষণিক সংখ্যালঘুদের সংগঠন’ (Microscopic minority)।

৮৩. হিউমের জীবনী কে রচনা করেন?

উত্তর: উইলিয়াম ওয়েডারবার্ন।

৮৪. ‘সেফটি ভালভ’ (Safety Valve) তত্ত্বটি কার সাথে যুক্ত?

উত্তর: হিউম ও কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পটভূমির সাথে (লালা লাজপত রায় এটি প্রথম ব্যবহার করেন)।

৮৫. জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: বদরুদ্দিন তৈয়বজি (১৮৮৭, মাদ্রাজ অধিবেশন)।

৮৬. জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: অ্যানি বেসান্ত (১৯১৭, কলকাতা অধিবেশন)।

৮৭. জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম ভারতীয় মহিলা সভাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: সরোজিনী নাইডু (১৯২৫, কানপুর অধিবেশন)।

৮৮. কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে প্রথম ‘বন্দে মাতরম্’ গানটি গাওয়া হয়?

উত্তর: ১৮৯৬ সালের কলকাতা অধিবেশনে (সভাপতি ছিলেন রহমতুল্লাহ সায়ানি, গানটি গেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।

৮৯. নরমপন্থী যুগের দুজন নেতার নাম লেখো।

উত্তর: গোপালকৃষ্ণ গোখলে, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ফিরোজশাহ মেহতা।

৯০. চরমপন্থী যুগের প্রধান তিন নেতা (লাল-বাল-পাল) কারা ছিলেন?

উত্তর: লালা লাজপত রায়, বাল গঙ্গাধর তিলক এবং বিপিনচন্দ্র পাল।

৬. বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশী আন্দোলন

৯১. বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত কে এবং কবে ঘোষণা করেন?

উত্তর: লর্ড কার্জন, ১৯০৫ সালের ১৯শে জুলাই (কার্যকর হয় ১৬ই অক্টোবর)।

৯২. বঙ্গভঙ্গের দিন (১৬ই অক্টোবর, ১৯০৫) বাংলায় কোন উৎসব পালিত হয়?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বানে ‘রাখীবন্ধন উৎসব’ এবং রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর আহ্বানে ‘অরন্ধন’।

৯৩. “বঙ্গভঙ্গ একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ঘটনা, একে বাতিল করা যাবে না”— এই উক্তিটি কার?

উত্তর: ভারতসচিব সেন্ট জন ব্রডরিক-এর (লর্ড কার্জনও একই মত পোষণ করতেন)।

৯৪. ফেডারেশন হলের ভিত্তিপ্রস্তর কে স্থাপন করেন?

উত্তর: আনন্দমোহন বসু (১৬ই অক্টোবর, ১৯০৫, মিলনের প্রতীক হিসেবে)।

৯৫. স্বদেশী আন্দোলনের সময় কে ‘বেঙ্গল কেমিক্যালস’ প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়।

৯৬. কার্লাইল সার্কুলার (১৯০৫) কী ছিল?

উত্তর: ছাত্রদের স্বদেশী আন্দোলন থেকে দূরে রাখার জন্য সরকারের জারি করা দমনমূলক ফতোয়া।

৯৭. কার্লাইল সার্কুলারের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-সার্কুলার সোসাইটি কে গঠন করেন?

উত্তর: শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু।

৯৮. জাতীয় শিক্ষা পরিষদ (National Council of Education) কবে গঠিত হয়?

উত্তর: ১৯০৬ সালের ১৫ই আগস্ট (সতীনচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, রাসবিহারী ঘোষ প্রমুখের উদ্যোগে)।

৯৯. ‘ডন সোসাইটি’ (Dawn Society) কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৯০২ সালে)।

১০০. ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি রবীন্দ্রনাথ কবে রচনা করেন?

উত্তর: ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের আবহে (বর্তমানে এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত)।

১০১. সুরাট বিভাজন কবে ঘটেছিল?

উত্তর: ১৯০৭ সালে কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশনে নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে ভাঙন ধরে।

১০২. সুরাট অধিবেশনে কংগ্রেসের সভাপতি কে ছিলেন?

উত্তর: রাসবিহারী ঘোষ।

১০৩. বঙ্গভঙ্গ কবে রদ বা বাতিল করা হয়?

উত্তর: ১৯১১ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের আমলে (রাজা পঞ্চম জর্জের ভারত আগমন উপলক্ষে)।

১০৪. ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে কবে স্থানান্তরিত হয়?

উত্তর: ১৯১১ সালে।

৭. বিপ্লবী আন্দোলন ও সশস্ত্র সংগ্রাম

১০৫. বাংলার প্রথম বিপ্লবী সমিতি কোনটি?

উত্তর: অনুশীলন সমিতি (১৯০২ সালের ২৪শে মার্চ)।

১০৬. কলকাতার অনুশীলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা কারা ছিলেন?

উত্তর: প্রমথনাথ মিত্র (পি. মিত্র), যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সতীশচন্দ্র বসু।

১০৭. ঢাকা অনুশীলন সমিতি কে এবং কবে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: ১৯০৫ সালে পুলিনবিহারী দাস।

১০৮. যুগান্তর দলের প্রতিষ্ঠাতা কারা ছিলেন?

উত্তর: বারীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০৬)।

১০৯. ‘भवानी मन्दिर’ পুস্তিকাটি কে রচনা করেন?

উত্তর: অরবিন্দ ঘোষ।

১১০. মুজাফফরপুর হত্যাকাণ্ড কবে ঘটেছিল?

উত্তর: ১৯০৮ সালের ৩০শে এপ্রিল ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী কিংসফোর্ডকে হত্যার চেষ্টা করেন।

১১১. প্রফুল্ল চাকী কীভাবে মারা যান?

উত্তর: মোক্ষমাঘাট স্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে নিজে গুলি করে আত্মহত্যা করেন।

१১২. ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি কবে হয়েছিল?

উত্তর: ১৯০৮ সালের ১১ই আগস্ট (তিনি ছিলেন ভারতের অন্যতম কনিষ্ঠ শহীদ)।

১১৩. আলিপুর বোমা মামলা কবে শুরু হয়?

উত্তর: ১৯০৮ সালে (মুরারিপুকুর বাগানে তল্লাশি চালিয়ে অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্র ঘোষসহ বহু বিপ্লবী ধরা পড়েন)।

১১৪. আলিপুর বোমা মামলায় অরবিন্দ ঘোষের পক্ষে বিনা পয়সায় মামলা লড়ে কে তাঁকে খালাস করেন?

উত্তর: চিত্তরঞ্জন দাশ (দেশবন্ধু)।

১১৫. আলিপুর জেলখানার ভেতরে কোন রাজসাক্ষীকে বিপ্লবীরা গুলি করে হত্যা করেন?

উত্তর: নরেন গোঁসাইকে (কানাইলাল দত্ত ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু হত্যা করেন)।

১১৬. বুড়িবালামের যুদ্ধ কবে এবং কার কার মধ্যে হয়েছিল?

উত্তর: ১৯১৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর বাঘাযতীন (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়) ও ব্রিটিশ পুলিশের মধ্যে বালেশ্বরের বুড়িবালাম নদীর তীরে।

১১৭. কাকে ‘বাঘাযতীন’ বলা হতো?

উত্তর: যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়কে (তিনি শুধু একটি ছোরা দিয়ে বাঘ মেরেছিলেন)।

১১৮. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন কবে হয়েছিল?

উত্তর: ১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে।

১১৯. সূর্য সেন গঠিত বিপ্লবী দলটির নাম কী ছিল?

উত্তর: ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি (IRA)।

১২০. জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধ কবে হয়েছিল?

উত্তর: ১৯৩০ সালের ২২শে মে সূর্য সেনের বিপ্লবী বাহিনী ও ব্রিটিশ সেনার মধ্যে।

১২১. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে অংশ নেওয়া দুজন বীরাঙ্গনা নারীর নাম লেখো।

উত্তর: প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং কল্পনা দত্ত।

১২২. ইউরোপীয় ক্লাব (পাহাড়তলী) আক্রমণের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?

উত্তর: প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (ধরা পড়ার আগে তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মবলিদান দেন)।

১২৩. মাস্টারদা সূর্য সেনের ফাঁসি কবে হয়েছিল?

উত্তর: ১৯৩৪ সালের ১২ই জানুয়ারি।

১২৪. রাইটার্স বিল্ডিংস অভিযান (অলিন্দ যুদ্ধ) কবে ঘটেছিল?

উত্তর: ১৯৩০ সালের ৮ই ডিসেম্বর বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দিনেশ গুপ্ত (অলিন্দ যুদ্ধ বা বিনয়-বাদল-দিনেশ)।

১২৫. অলিন্দ যুদ্ধে বিনয়-বাদল-দিনেশ কাকে হত্যা করেছিলেন?

উত্তর: কারাগারের ইন্সপেক্টর জেনারেল কর্নেল সিম্পসনকে।

৮. ভারতের বাইরে বিপ্লবী আন্দোলন

১২৬. লন্ডনে ‘ইন্ডিয়া হাউস’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: শ্যামজি কৃষ্ণবর্মা (১৯০৫ সালে)।

১২৭. কার্জন উইলিকে লন্ডনে কে গুলি করে হত্যা করেন?

উত্তর: মদনলাল ধিংড়া (১৯০৯ সালে)।

১২৮. গদর পার্টি কবে এবং কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৯১৩ সালে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো শহরে লালা হরদয়াল ও সোহন সিং ভাকনার নেতৃত্বে।

১২৯. ‘গদর’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: বিপ্লব বা বিদ্রোহ।

১৩০. ‘গদর’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?

উত্তর: লালা হরদয়াল।

১৩১. কোমাগাতামারু (Komagata Maru) ঘটনাটি কী ছিল?

উত্তর: ১৯১৪ সালে বাবা গুরদিত সিং-এর উদ্যোগে ভারতীয়দের নিয়ে কানাডাগামী একটি জাপানি জাহাজের বিতর্কিত ও দুঃখজনক ঘটনা।

১৩২. জার্মানির বার্লিনে ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স委員会’ (১৯১৫) কারা গঠন করেন?

উত্তর: বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত ও লালা হরদয়াল।

১৩৩. বিদেশে প্রথম ভারতের জাতীয় পতাকা কে উত্তোলন করেছিলেন?

উত্তর: মাদাম ভিকাজি রুস্তম কামা (১৯০৭ সালে জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে)।

১৩৪. কাকে ‘ভারতীয় বিপ্লববাদের জননী’ বলা হয়?

উত্তর: মাদাম কামাকে।

১৩Explicit. রাজবিহারী বসু ছদ্মনামে জাপানে পালিয়ে যাওয়ার সময় কোন নাম ব্যবহার করেছিলেন?

উত্তর: পি. এন. ঠাকুর (P. N. Tagore)।

৯. হোমরুল আন্দোলন ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী রাজনীতি

১৩৬. ‘হোমরুল’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: স্বায়ত্তশাসন বা নিজের শাসন।

১৩৭. ভারতে হোমরুল আন্দোলন কারা শুরু করেন?

উত্তর: বাল গঙ্গাধর تিলক (এপ্রিল, ১৯১৬) এবং অ্যানি বেসান্ত (সেপ্টেম্বর, ১৯১৬)।

১৩৮. তিলকের হোমরুল লীগের সদর দপ্তর কোথায় ছিল?

উত্তর: পুনেতে।

১৩৯. অ্যানি বেসান্তের হোমরুল লীগের সদর দপ্তর কোথায় ছিল?

উত্তর: মাদ্রাজের আদিয়ারে।

১৪০. “স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার এবং আমি তা অর্জন করবই”— উক্তিটি কার?

উত্তর: বাল গঙ্গাধর তিলকের।

১৪১. তিলক সম্পাদিত দুটি বিখ্যাত পত্রিকার নাম কী?

উত্তর: ‘মারাঠা’ (ইংরেজি) এবং ‘কেসরি’ (মারাঠি)।

১৪২. অ্যানি বেসান্ত সম্পাদিত দুটি পত্রিকার নাম লেখো।

উত্তর: ‘নিউ ইন্ডিয়া’ এবং ‘কমনউইল’।

১৪৩. লখনউ চুক্তি কবে এবং কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তর: ১৯১৬ সালে জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে (একই সাথে নরমপন্থী ও চরমপন্থীরা আবার এক হয়)।

১৪৪. মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন কবে পাস হয়?

উত্তর: ১৯১৯ সালে (দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন)।

১০. গান্ধী যুগ ও মহাত্মা গান্ধীর গণআন্দোলনসমূহ

১৪৫. মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পাকাপাকিভাবে ভারতে কবে ফিরে আসেন?

উত্তর: ১৯১৫ সালের ৯ই জানুয়ারি (এই দিনটি বর্তমানে ‘প্রবাসী ভারতীয় দিবস’ হিসেবে পালিত হয়)।

১৪৬. গান্ধী지의 রাজনৈতিক গুরু কে ছিলেন?

উত্তর: গোপালকৃষ্ণ গোখলে।

১৪৭. ভারতে গান্ধীজির প্রথম সফল সত্যাগ্রহ কোনটি?

উত্তর: চম্পারণ সত্যাগ্রহ (১৯১৭, বিহারের নীলচাষীদের তিনকাঠিয়া প্রথার বিরুদ্ধে)।

১৪৮. আহমেদাবাদ সত্যাগ্রহ (১৯১৮) কাদের সমর্থনে ছিল?

উত্তর: সুতি বস্ত্র বয়ন কলের শ্রমিকদের প্লেগ বোনাসের দাবিতে।

১৪৯. খেরা সত্যাগ্রহ (১৯১৮) কোথায় হয়েছিল?

উত্তর: গুজরাটের খেরা জেলায় খরা পীড়িত কৃষকদের খাজনা মকুবের দাবিতে।

১৫০. রাওলাট আইন কবে পাস হয়?

উত্তর: ১৯১৯ সালের মার্চ মাসে (বিনা বিচারে বন্দি রাখার কালো আইন)।

১৫১. জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড কবে করেছিল?

উত্তর: ১৯১৯ সালের ১৩ই এপ্রিল, পাঞ্জাবের অমৃতসরে।

১৫২. জালিয়ানওয়ালাবাগে নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিলেন?

উত্তর: জেনারেল ডায়ার।

১৫৩. জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কে ‘নাইট’ উপাধি বর্জন করেন?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১৫৪. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গান্ধীজি কোন উপাধি বর্জন করেছিলেন?

উত্তর: কায়সার-ই-হিন্দ।

১৫৫. খিলাফত আন্দোলনের মূল কারণ কী ছিল?

উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের পরাজয়ের পর ব্রিটিশদের দ্বারা খলিফার মর্যাদা ও ক্ষমতা খর্ব করা।

১৫৬. ভারতে খিলাফত আন্দোলনের মূল নেতা কারা ছিলেন?

উত্তর: শওকত আলি ও মহম্মদ আলি (আলি ভ্রাতৃদ্বয়) এবং আবুল কালাম আজাদ।

১৫৭. असहযোগ আন্দোলন কবে শুরু হয়?

উত্তর: ১৯২০ সালে কংগ্রেসের নাগপুর অধিবেশনে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

১৫৮. কোন ঘটনার পর গান্ধীজি असहযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন?

উত্তর: চৌরিচৌরা ঘটনা (৫ই ফেব্রুয়ারি, ১৯২২; উত্তেজিত জনতা উত্তরপ্রদেশের চৌরিচৌরায় এক থানায় আগুন লাগিয়ে ২২ জন পুলিশকে পুড়িয়ে মারে)।

১৫৯. গান্ধীজি কবে असहযোগ আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেন?

উত্তর: ১৯২২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি, বারদোলি প্রস্তাবের মাধ্যমে।

১৬০. স্বরাজ্য দল কে এবং কবে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: ১৯২৩ সালের ১লা জানুয়ারি চিত্তরঞ্জন দাশ (সভাপতি) ও মোতিলাল নেহরু (সম্পাদক)।

১১. সাইমন কমিশন থেকে আইন অমান্য আন্দোলন

১৬১. সাইমন কমিশন কবে গঠিত হয় এবং ভারতে আসে কবে?

উত্তর: গঠিত হয় ১৯২৭ সালে, ভারতে আসে ১৯২৮ সালে।

১৬২. সাইমন কমিশনকে ভারতীয়রা কেন বর্জন করেছিল?

উত্তর: এই কমিশনের ৭ জন সদস্যের মধ্যে কোনো ভারতীয় প্রতিনিধি ছিলেন না (এটি ছিল ‘White Commission’)।

১৬৩. সাইমন কমিশন বিরোধী মিছিলে পুলিশের লাঠির আঘাতে কোন নেতার মৃত্যু হয়?

উত্তর: লালা লাজপত রায় (১৯২৮, লাহোর)।

১৬৪. নেহরু রিপোর্ট কবে পেশ করা হয়?

উত্তর: ১৯২৮ সালে মোতিলাল নেহরুর নেতৃত্বে ভারতের জন্য একটি খসড়া সংবিধান তৈরি হয়।

১৬৫. কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে এবং কবে ‘পূর্ণ স্বরাজ’-এর দাবি গ্রহণ করা হয়?

উত্তর: ১৯২৯ সালের লাহোর অধিবেশনে, জওহরলাল নেহরুর সভাপতিত্বে।

১৬৬. প্রথম স্বাধীনতা দিবস কবে পালিত হয়েছিল?

উত্তর: ১৯৩০ সালের ২৬শে জানুয়ারি (লাহোর অধিবেশনে র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাভি নদীর তীরে তেরঙা পতাকা উড়িয়ে)।

১৬৭. আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা গান্ধীজি কীভাবে করেছিলেন?

উত্তর: ডান্ডি অভিযানের মাধ্যমে (১২ই মার্চ থেকে ৬ই এপ্রিল, ১৯৩০; সবরমতী আশ্রম থেকে ২৪১ মাইল দূরে গুজরাটের ডান্ডি সমুদ্র সৈকতে গিয়ে লবণ তৈরি করে লবণ আইন ভঙ্গ করেন)।

১৬৮. ডান্ডি অভিযানে গান্ধীজির সাথে কতজন অনুগামী ছিলেন?

উত্তর: ৭৮ জন।

১৬Snapshot. উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে আইন অমান্য আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?

উত্তর: খান আব্দুল গফফর খান (তাঁকে ‘সীমান্ত গান্ধী’ বলা হয়)।

১৭০. খান আব্দুল গফফর খান গঠিত স্বেচ্ছাসেবী দলটির নাম কী ছিল?

উত্তর: খুদাই খিদমতগার (ঈশ্বরের সেবক)। এদের ‘লাল কুর্তা’ বাহিনীও বলা হতো।

১৭১. প্রথম গোলটেবিল বৈঠক কবে বসেছিল?

উত্তর: ১৯৩০ সালে লন্ডনে (কংগ্রেস এটি বর্জন করে)।

১৭২. গান্ধী-আরউইন চুক্তি (দিল্লি চুক্তি) কবে স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তর: ১৯৩১ সালের ৫ই মার্চ (এর ফলে গান্ধীজি আইন অমান্য আন্দোলন স্থগিত রাখতে রাজি হন)।

১৭৩. গান্ধীজি কোন গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন?

উত্তর: ১৯৩১ সালের দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে (কংগ্রেসের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে)।

১৭৪. সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা নীতি (Communal Award) কে ঘোষণা করেন?

উত্তর: ১৯৩২ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড।

১৭base. পুনা চুক্তি (১৯৩২) কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

উত্তর: মহাত্মা গান্ধী এবং ড. বি. আর. আম্বেদকরের মধ্যে (দলিতদের আসন সংরক্ষণের বিষয়ে)।

১২. ভারত ছাড়ো আন্দোলন ও আজাদ হিন্দ ফৌজ

১৭৬. ক্রিপস মিশন কবে ভারতে আসে?

উত্তর: ১৯৪২ সালের মার্চ মাসে, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বে।

১৭৭. ক্রিপস মিশনের প্রস্তাবকে কে “একটি ভেঙে পড়া ব্যাংকের ওপর আগাম তারিখের চেক” (A post-dated cheque on a crashing bank) বলে ব্যঙ্গ করেছেন?

উত্তর: মহাত্মা গান্ধী।

১৭৮. ভারত ছাড়ো আন্দোলন (আগস্ট আন্দোলন) কবে শুরু হয়?

উত্তর: ১৯৪২ সালের ৯ই আগস্ট (৮ই আগস্ট বোম্বাইয়ের গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে কংগ্রেসের প্রস্তাব পাস হয়)।

১৭৯. ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মূল স্লোগান কী ছিল?

উত্তর: “করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে” (Do or Die) — মহাত্মা গান্ধী।

১৮০. ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় মেদিনীপুরের তমলুকে গড়ে ওঠা সমান্তরাল সরকারটির নাম কী ছিল?

উত্তর: তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার (অধিনায়ক ছিলেন সতীশচন্দ্র সামন্ত)।

১৮১. তমলুকে ৭৩ বছরের কোন বৃদ্ধা নারী ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিয়ে শহীদ হন?

উত্তর: মাতঙ্গিনী হাজরা (তাঁকে ‘গান্ধীবুড়ি’ বলা হয়)।

১৮২. ‘আজاد হিন্দ ফৌজ’ (INA) প্রথম কে গঠন করেন?

উত্তর: ১৯৪২ সালে ক্যাপ্টেন মোহন সিং (সিঙ্গাপুরে)।

১৮৩. টোকিওতে ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: রাসবিহারী বসু (১৯৪২)।

১৮৪. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কবে সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়কত্ব গ্রহণ করেন?

উত্তর: ১৯৪৩ সালের ৫ই জুলাই (রাসবিহারী বসু তাঁর হাতে দায়িত্ব তুলে দেন)।

১৮৫. সিঙ্গাপুরে নেতাজি গঠিত অস্থায়ী ভারত সরকারটির নাম কী ছিল?

উত্তর: আরজি হুকুমত-ই-আজাদ হিন্দ (২১শে অক্টোবর, ১৯৪৩)।

১৮৬. আজাদ হিন্দ ফৌজের নারী বাহিনীর নাম কী ছিল?

উত্তর: ঝাঁসির রানি ব্রিগেড (নেতৃত্বে ছিলেন লক্ষ্মী স্বামীনাথন/সহগল)।

১৮৭. আজাদ হিন্দ ফৌজ ভারতের কোন শহরটি প্রথম মুক্ত করে তেরঙা পতাকা উড়িয়েছিল?

উত্তর: মনিপুরের মৈরাং (Kohima ও Imphal অভিযানের সময়)।

১৮৮. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে দিল্লির লালকেল্লায় আজাদ হিন্দ ফৌজের বন্দি সেনাদের পক্ষে কোন্ বিখ্যাত আইনজীবীরা মামলা লড়েছিলেন?

উত্তর: ভুলাভাই দেশাই, তেজবাহাদুর সপ্রু এবং জওহরলাল নেহরু।

১৩. শেষ পর্বের আন্দোলন ও স্বাধীনতা লাভ

১৮৯. রয়্যাল ইন্ডিয়ান নেভি বা নৌবিদ্রোহ কবে ও কোথায় শুরু হয়?

উত্তর: ১৯৪৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি, বোম্বাইয়ের ‘তলোয়ার’ (HMS Talwar) নামক জাহাজে।

১৯০. নৌবিদ্রোহীরা জাহাজের মাথায় কোন কোন পতাকা তুলেছিলেন?

উত্তর: কংগ্রেস, মুসলিম লীগ ও কমিউনিস্ট পার্টির পতাকা পাশাপাশি।

১৯১. ক্যাবিনেট মিশন বা মন্ত্রী মিশন কবে ভারতে আসে?

উত্তর: ১৯৪৬ সালে (সদস্য ছিলেন প্যাথিক লরেন্স, স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ও এ. ভি. আলেকজান্ডার)।

১৯২. মুসলিম লীগ কবে ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ (Direct Action Day) পালন করে?

উত্তর: ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট (এর ফলে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়)।

১৯৩. ভারতের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (১৯৪৬) কার নেতৃত্বে গঠিত হয়?

উত্তর: জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে।

১৯৪. ভারতের শেষ ব্রিটিশ ভাইসরয় বা গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

উত্তর: লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

১৯৫. ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ কবে ঘোষিত হয়?

উত্তর: ১৯৪৭ সালের ৩রা জুন (ভারত ও পাকিস্তান বিভাজনের নীলনকশা)।

১৯৬. ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণকারী লাইনের নাম কী?

উত্তর: র্যাডক্লিফ লাইন (স্যার সিরিল র্যাডক্লিফের নামানুসারে)।

১৯৭. স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

উত্তর: লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

১৯৮. স্বাধীন ভারতের প্রথম ও শেষ ভারতীয় গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

উত্তর: চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী।

১৯৯. ভারতের স্বাধীনতা আইন কবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হয়?

উত্তর: ১৯৪৭ সালের ১৮ই জুলাই।

২০০. ভারত যখন স্বাধীনতা লাভ করে তখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর: লেবার পার্টির ক্লিমেন্ট অ্যাটলি।

PDF টি 👇👇ডাউনলোড করে নাও.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *