বিজয় গুপ্ত :মনসামঙ্গলের কবি

0
bijaygupta

                   

WB SLST (বাংলা 9–10 / 11–12) 

মনসামঙ্গলের কবি 

বিজয় গুপ্ত

[সম্পূর্ণ স্টাডি নোট]

১. কবি পরিচয় ও বাসস্থান

  • জন্মস্থান: কবি বিজয় গুপ্ত বর্তমান বাংলাদেশের বরিশাল জেলার (প্রাচীন নাম বাকলা চন্দ্রদ্বীপ) গৈলা বা ফুল্লশ্রী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কাব্যের ভণিতায় তিনি নিজেই লিখেছেন:
  • “পশ্চিমে সুলতান নদী পূর্বে শশধর। / মধ্যে ফুল্লশ্রী গ্রাম পণ্ডিত নগর।।”
  • পিতা ও মাতা: তাঁর পিতার নাম সনাতন এবং মাতার নাম রুক্মিণী।
  • জাতি পরিচয়: তিনি জাতিতে বৈদ্য (গুপ্ত উপাধিধারী) ছিলেন।

২. সময়কাল ও ঐতিহাসিক সূত্র

  • সমসাময়িক শাসক: বিজয় গুপ্ত বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দ) সমসাময়িক ছিলেন।
  • কাব্য রচনার সময়: কাব্যের আত্মবিবরণী বা ‘জ্ঞাপক শ্লোক’ অনুযায়ী ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে (১৪১৬ শকাব্দে) তাঁর কাব্য রচিত হয়। তবে এই শ্লোকের পাঠ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ আছে। শ্লোকটি হলো:
  • “ঋতু শশী বেদ শশী পরিমিত শক। / সুলতান হোসেন শাহা নৃপতি তিলক।।”
  • (এখানে ঋতু=৬, শশী=১, বেদ=৪, শশী=১; অর্থাৎ ১৪১৬ শকাব্দ বা ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দ)

৩. কাব্যের নাম ও বৈশিষ্ট্য:

  • কাব্যের নাম: বিজয় গুপ্তের কাব্যের মূল নাম ‘পদ্মা পুরাণ’। মনসার অপর নাম পদ্মা, তাই পদ্মার মহাত্ম্যসূচক এই কাব্যকে তিনি পুরাণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
  • ঐশ্বরিক স্বপ্নাদেশ: প্রচলিত বিশ্বাস ও কাব্যের বিবরণ অনুযায়ী, দেবী মনসা স্বপ্নে কবিকে দর্শন দিয়ে তাঁর মহিমা কীর্তন করে কাব্য রচনার আদেশ দিয়েছিলেন।

৪. সাহিত্যিক ও কাব্যগত বৈশিষ্ট্য:

  • বাস্তবধর্মী সমাজচিত্র: বিজয় গুপ্তের কাব্যে মধ্যযুগীয় বাংলার, বিশেষ করে পূর্ববঙ্গের গ্রামীণ সমাজ, আচার-অনুষ্ঠান, নারীদের সাজসজ্জা এবং খাদ্যাভ্যাসের চমৎকার বাস্তবসম্মত বিবরণ পাওয়া যায়।
  • হাস্যরস ও লৌকিকতা: দেব-দেবীকে তিনি অলৌকিকতার স্তর থেকে নামিয়ে রক্ত-মাংসের মানুষের মতো লৌকিক রূপে ফুটিয়ে তুলেছেন। শিব ও চণ্ডীর পারিবারিক কলহ বা মনসার ঈর্ষাকাতরতার বর্ণনায় কবি চমৎকার হাস্যরসের (Wit and Humour) পরিচয় দিয়েছেন।
  • চরিত্রায়ণ: তাঁর কাব্যে ‘বেহুলা’ চরিত্রটি অত্যন্ত দৃঢ়চেতা এবং আদর্শ বাঙালি নারীর প্রতীক হিসেবে রূপায়িত হয়েছে। অন্যদিকে চাঁদ সদাগরের পৌরুষ ও অহংকারকেও কবি অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
  • করুণ ও রৌদ্র রসের সহাবস্থান: একদিকে লখিন্দরের মৃত্যুর পর বেহুলার বিলাপের করুণ রস, অন্যদিকে মনসার ক্রোধ ও কোপন স্বভাবের রৌদ্র রস—দুইয়ের মেলবন্ধনে কাব্যটি গতিশীল।

৫. ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক গুরুত্ব (পরীক্ষার জন্য বিশেষ জরুরি)

  • হাসান-হুসেনের পালা: বিজয় গুপ্তের কাব্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘হাসান-হুসেনের পালা’। এখানে তৎকালীন হিন্দু-মুসলিম সমাজের সংঘাত ও সমন্বয়ের এক ঐতিহাসিক দলিল মেলে। কাজী এবং মুসলিম চরিত্রের লৌকিক আচার-আচরণ মধ্যযুগীয় সমাজবিদ্যার (Sociology) অন্যতম উপাদান।
  • আদি কবি বিতর্ক: কানা হরিদত্তকে মনসামঙ্গলের আদি কবি মনে করা হলেও, বিজয় গুপ্তের কাব্যটিই প্রথম সম্পূর্ণ ও সুসংগঠিত রূপ লাভ করে। বিজয় গুপ্ত তাঁর কাব্যে কানা হরিদত্তের প্রতি কিছুটা সমালোচনাও প্রকাশ করেছেন— “কানা হরিদত্ত প্রথম রচিল কবি। / তাঁহার রচিত গীত লুপ্ত হইল সবি।।”
  • মুদ্রণ ইতিহাস: ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে প্যারীমোহন দাশগুপ্তের সম্পাদনায় বিজয় গুপ্তের ‘পদ্মা পুরাণ’ প্রথম বরিশাল থেকে গ্রন্থাকারে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

এক নজরে মনে রাখার মতো তথ্য (Quick Revision Box):

  • কবি: বিজয় গুপ্ত (মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি)
  • কাব্যের নাম: পদ্মা পুরাণ
  • সময়কাল: পঞ্চদশ শতকের শেষ ভাগ (১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দ)
  • পৃষ্ঠপোষক শাসক: সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  • উল্লেখযোগ্য অংশ: হাসান-হুসেনের পালা, বেহুলার বাসর ঘর নির্মাণ, চাঁদ সদাগরের বাণিজ্য যাত্রা।

                                                        সম্পূর্ণ PDF টি ডাউনলোড করে নাও 👇

👉PDF Download👈

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *