প্রশ্নোত্তরে চর্যাপদ | বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন

0
corrja-thumb

১) বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন কোনটি ? এটি কে কোথা থেকে আবিস্কার করেন ? বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থের গুরুত্ব কোথায় ?

উত্তরঃ- বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ ।
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপালের রাজদরবারে রয়্যাল লাইব্রেরি থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেন ।

২। চর্যার পুঁথিটি কবে কী নামে কোথা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় ?

উত্তরঃ- চর্যার পুঁথিটি ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ থেকে প্রকাশিত হয় ।

৩। চর্যাপদের উপর কোন কোন ভাষার দাবি করা হয় এবং দাবিদার কারা ?

উত্তরঃ– চর্যাপদের ভাষার দাবিদার —
ক) ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে চর্যাপদের ভাষা বাংলা ।
খ) বিজয়চন্দ্র মজুমদার ও রাহুল সাংকৃত্যায়নের মতে চর্যাপদের ভাষা হিন্দি ।
গ) ডঃ জয়কান্ত মিশ্রের মতে চর্যাপদের ভাষা মৈথিলি ।
ঘ) ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহের মতে চর্যাপদের ভাষা বঙ্গকামরূপী ।
ঙ) অসমীয়া পন্ডিত বাণীকান্ত কাকতির মতে চর্যাপদের ভাষা অসমীয়া ।

৪। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক প্রকাশিত চর্যাপদের সঙ্গে অন্যান্য গ্রন্থগুলি প্রকাশিত হয়েছিল সেগুলির নাম ও ভাষাগত পরিচয় লিখুন।

উত্তরঃ- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক প্রকাশিত চর্যার পুঁথির সঙ্গে অন্যান্য গ্রন্থগুলি প্রকাশিত হয়েছিল সেগুলি হল — ‘সরহপাদের দোহা’ , কৃষ্ণাচার্যের দোহা’ ও ‘ডাকার্ণব’ । এগুলির ভাষা পশ্চিমা শৌরসেনী অপভ্রংশ ।

৫। চর্যার ভাষায় বাংলা এর প্রমাণ কী ?

উত্তরঃ- চর্যার ভাষা বাংলা এর প্রমাণ হল —
ক) চর্যায় বর্ণিত ভৌগোলিক পরিবেশ নদীমাতৃক বাংলাদেশের ।
খ) বাংলা ভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক ও রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য চর্যায় পাওয়া যায় । যেমন – ‘র’ ধ্বনি ‘ল’ এ রূপান্তর । রুই > লুই ।
গ) বাংলা কথ্য রূপে নেতিবাচক বাক্যে না বাচক শব্দ সমাপিকা ক্রিয়ার আগে আসে । যেমন – না হয়ো ।
ঘ) মাছে ভাতে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও পেশা চর্যায় বর্ণিত হয়েছে ।

৬। চর্যায় ব্যবহৃত চারটি প্রবাদ বাক্য লিখুন ।

উত্তরঃ- চর্যায় ব্যবহৃত চারটি প্রবাদ বাক্য হল —
ক) অপণা মাংসে হরিণা বৈরী ।
খ) হাতের কাঙ্কন মা লোউ দাপন ।
গ) দুহিল দুধু কি বেন্টে ষামাঅ ।
ঘ) হাড়ীত ভাত নাহি নীতি আবেশী ।

৭। চর্যার যুগে তৎকালীন মানুষের চারটি পেশার নাম লিখুন ।

উত্তরঃ- চর্যার যুগে তৎকালীন মানুষের চারটি পেশার নাম হল — তাঁত বোনা , খেয়াপারাপার , চৌর্যবৃত্তি ও দস্যুবৃত্তি ।

৮। চর্যার যুগে বিনোদনের কী পরিচয় পাওয়া যায় ?

উত্তরঃ- চর্যার যুগে বিনোদনের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা হল — দাবাখেলা , অবসর সময়ে মদ্যপান , নাটগীতি পালা অভিনীত হত ।

৯। চর্যার যুগে বাঙালিদের খাদ্য ও আসবাবের কী পরিচয় পাওয়া যায় ?

উত্তরঃ- বাঙালিদের খাদ্য — ভাত , দুধ , মাছ , মাংস ও তেঁতুল ।
বাঙালিদের আসবাব — হাঁড়ি , পিটা , ঘড়ি ও ঘড়ুলি ।

০। চর্যায় উল্লেখিত বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিচয় লিখুন ।

উত্তরঃ- বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিচয় —
ক) মালভূমি ও সমতল ভূমিরূপের বর্ণনা ।
খ) নদী ও নদীকেন্দ্রিক পেশা ও কার্যাবলির বর্ণনা ।
গ) বাংলার প্রধান ফসল ধান । চর্যায় ভাতের কথা আছে ।
ঘ) বাংলাদেশের জাতিভেদ প্রথা , মানুষের পেশা ও সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায় ।

১১) নাটক কথাটি বাংলা সাহিত্যে প্রথম কোথায় কীভাবে পাওয়া যায় ?

উত্তরঃ- নাটক কথাটি বাংলা সাহিত্যে প্রথম চর্যাপদের ১৭নং পদে পাওয়া যায় । বীণাপাদের পদে উল্লেখ রয়েছে —
“নাচন্তি বাজিল গান্তি দেবী ।
বুদ্ধনাটক বিসমা হোই ।।”

১২। সহজিয়া বৌদ্ধধর্মের মূল কথা সংক্ষেপে লিখুন ।

উত্তরঃ- সহজিয়া বৌদ্ধধর্মের মূল কথাঃ-
বৌদ্ধধর্ম সাধনার দুটি প্রধান ধারা । একটি হল সহজিয়া বা সহজান । এই ধারা অনুযায়ী সংসার ধর্ম বজায় রেখে সামাজিক ও স্বাভাবিক জীবন-যাপন করে নিয়মিত কায়া সাধনের মাধ্যমে মহাসুখ লাভ করা সম্ভব । এই মহাসুখ বা মোক্ষলাভই হল সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্মের মূল লক্ষ্য ।

১৩। চর্যার পুঁথিটি কোন সময়ে অনুলিখিত ?

উত্তরঃ- লিপি বিশারদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিস্কৃত চর্যার পুঁথিটির লিপিকার আনুমানিক পঞ্চদশ শতকের পরে ।

১৪। চর্যাপদ আবিষ্কারের পূর্বে বাংলা ভাষার প্রাচীনতম রচনা কাকে বলা হত ?

উত্তরঃ- চর্যাপদ আবিষ্কারের পূর্বে বাংলা ভাষার প্রাচীনতম আলোচনা হল — ডাক ও খনারবচন , গোরক্ষনাথের পাঁচালি ।

৫। নবচর্যাপদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিন ।

উত্তরঃ– ডঃ শশীভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৬৩ সালে নেপাল থেকে ২০ টি প্রাচীন পুঁথি গবেষণা করে ২৫০ টি চর্যা আবিষ্কার করেন । সেগুলির মধ্য থেকে ৯৮ টি পদ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘নবচর্যাপদ’ নামে প্রকাশের ব্যবস্থা করেন । পরে ১৯৮৯ সালে ডঃ অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ডঃ শশীভূষণ দাশগুপ্তের মৃত্যুর পর ‘নবচর্যাপদ’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় । ডঃ শশীভূষণ দাশগুপ্তর মত অনুযায়ী এই গ্রন্থের প্রথম ১৯ টি পদ দশম থেকে দ্বাদশ শতকের রচনা । তার পরবর্তী ৪৪ টি পদ ত্রয়োদশ থেকে চতুর্দশ শতকের রচনা এবং শেষের ৩৫ টি পদ পঞ্চদশ শতকের রচনা বলে অনুমান করা হয় ।

পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিমূলক নোট

চর্যাপদের আবিষ্কার

চর্যাপদ ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে বিশিষ্ট পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কার করেন।

তিনি যে পুঁথিটি আবিষ্কার করেন তার নাম ছিল ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’। এই গ্রন্থে চর্যাগীতি, সংস্কৃত টীকা এবং তিব্বতি অনুবাদ সংরক্ষিত ছিল।

আবিষ্কারের পর ১৯১৬ সালে তিনি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে গ্রন্থাকারে এটি প্রকাশ করেন।

চর্যাপদের রচনাকাল

চর্যাপদের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সাধারণভাবে পণ্ডিতরা এর রচনাকাল খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী বলে মনে করেন।

  • সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় : ৯৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  • সুকুমার সেন : দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
  • মুহম্মদ শহীদুল্লাহ : সপ্তম থেকে একাদশ শতাব্দী

বর্তমানে অধিকাংশ গবেষক দশম–দ্বাদশ শতককেই গ্রহণ করেন।

চর্যাপদের নামকরণ

‘চর্যা’ শব্দের অর্থ আচরণ, সাধনা বা ধর্মাচরণ।

বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকেরা তাদের ধর্মসাধনার গূঢ় তত্ত্ব প্রকাশের জন্য যে গীতিগুলি রচনা করেছিলেন, সেগুলিকেই চর্যা বা চর্যাগীতি বলা হয়।

চর্যাপদের অন্য নাম—

  • চর্যাগীতি
  • চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  • বৌদ্ধ গান ও দোহা

চর্যাপদের রচয়িতা

চর্যাপদের কবিদের সিদ্ধাচার্য বলা হয়। মোট ২৩ জন কবি চর্যাপদ রচনা করেছেন বলে জানা যায়।

উল্লেখযোগ্য কবিগণ—

  • লুইপা
  • কাহ্নপা
  • শবরপা
  • ভুসুকুপা
  • সরহপা
  • কুক্কুরীপা
  • ডোম্বীপা
  • তান্তীপা
  • চাটিলপা
  • বিরূপা
  • ধামপা প্রমুখ।

সর্বাধিক পদ রচয়িতা

কাহ্নপা সর্বাধিক ১৩টি পদ রচনা করেন।

প্রাচীনতম কবি

লুইপা-কে চর্যাপদের প্রাচীনতম কবি বলে মনে করা হয়।

চর্যাপদের পদসংখ্যা

মূল পুঁথিতে মোট ৫০টি পদ ছিল।

বর্তমানে পাওয়া গেছে—

  • সম্পূর্ণ পদ : ৪৬টি
  • আংশিক পদ : ১টি (৪৭ নম্বর)
  • মোট প্রাপ্ত পদ : ৪৬.৫টি

সুতরাং ৩.৫টি পদ হারিয়ে গেছে।

চর্যাপদের ধর্মীয় পটভূমি

চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজযান ও বজ্রযান মতবাদের অন্তর্গত।

সহজিয়া সাধকেরা বিশ্বাস করতেন যে মানুষের মধ্যেই মুক্তির পথ নিহিত। বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের পরিবর্তে অন্তরের সাধনার ওপর তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন।

চর্যাপদের পদগুলিতে তাই ধর্মীয় সাধনা, যোগচর্চা, আত্মসন্ধান এবং মুক্তির তত্ত্ব প্রকাশিত হয়েছে।

        সন্ধ্যাভাষা

চর্যাপদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল সন্ধ্যাভাষা

সন্ধ্যাভাষা কী ? 

যে ভাষার একটি বাহ্যিক অর্থ এবং অন্য একটি গুপ্ত অর্থ থাকে, তাকে সন্ধ্যাভাষা বলে।

উদাহরণস্বরূপ—

  • নৌকা, নদী, জেলে, হরিণ, শিকারি ইত্যাদি শব্দের আড়ালে আধ্যাত্মিক সাধনার কথা বলা হয়েছে।
  • সাধারণ পাঠকের কাছে পদগুলি লোকজ বা প্রাকৃতিক বর্ণনা মনে হলেও প্রকৃত অর্থে সেগুলি ধর্মীয় ও তান্ত্রিক তত্ত্ব বহন করে।

এই কারণে চর্যাপদের ভাষাকে ‘আলো-আঁধারির ভাষা’ বলা হয়। 

   চর্যাপদের ভাষা

চর্যাপদের ভাষা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে।

বর্তমান মত অনুযায়ী চর্যাপদের ভাষা হল প্রাচীন বাংলা ভাষার আদিরূপ, যেখানে বাংলা, অসমিয়া, ওড়িয়া এবং মৈথিলি ভাষার প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

ভাষাগত বৈশিষ্ট্য—

  • তৎসম শব্দের ব্যবহার কম
  • দেশজ শব্দের আধিক্য
  • ক্রিয়াপদের প্রাচীন রূপ
  • লোকভাষার প্রভাব
  • ধ্বনিগত সরলতা

বাংলা ভাষার বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে চর্যাপদ একটি অমূল্য দলিল।

চর্যাপদের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য 

১. গীতিধর্মিতাঃ প্রতিটি পদ গাওয়ার জন্য রচিত হয়েছে।

২. রাগের উল্লেখ

প্রায় প্রতিটি পদের শুরুতে রাগের নাম উল্লেখ আছে।

যেমন—

  • পটমঞ্জরী
  • গুঞ্জরী
  • ভৈরবী
  • মালসী ইত্যাদি।

৩. প্রতীকধর্মিতাঃ আধ্যাত্মিক তত্ত্ব প্রকাশে নানা প্রতীক ব্যবহৃত হয়েছে।

৪. লোকজ জীবনের চিত্রঃ সমকালীন সমাজ ও জনজীবনের নানা দিক ফুটে উঠেছে।

৫. প্রকৃতিচিত্রঃ নদী, বন, পাহাড়, পশুপাখি ইত্যাদির সুন্দর বর্ণনা পাওয়া যায়।

৬. রহস্যবাদঃ চর্যাপদের মূল ভিত্তি রহস্যময় আধ্যাত্মিক সাধনা।

 

          চর্যাপদে সমাজজীবনের পরিচয়

চর্যাপদ শুধু ধর্মীয় গ্রন্থ নয়; এতে সমকালীন সমাজজীবনেরও পরিচয় পাওয়া যায়।

উল্লেখযোগ্য বিষয়—

  • কৃষিজীবন
  • নৌযাত্রা
  • শিকার
  • মৎস্যধরা
  • বণিক সম্প্রদায়
  • নিম্নবর্ণের মানুষের জীবন
  • নারী-পুরুষের সামাজিক অবস্থান

       বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের গুরুত্ব

১. বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন।

২. বাংলা ভাষার প্রাচীনতম লিখিত রূপ।

৩. বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্মচিন্তার গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

৪. বাংলা গীতিকাব্যের সূচনা চর্যাপদে।

৫. বাংলা ভাষার বিবর্তন গবেষণার প্রধান উপাদান।

৬. প্রাচীন বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।


পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Quick Revision)

  • আবিষ্কারক — হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  • আবিষ্কারের সাল — ১৯০৭
  • প্রকাশকাল — ১৯১৬
  • আবিষ্কৃত গ্রন্থ — চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  • রচনাকাল — দশম–দ্বাদশ শতাব্দী
  • প্রাপ্ত পদ — ৪৬.৫টি
  • কবি — ২৩ জন সিদ্ধাচার্য
  • সর্বাধিক পদ রচয়িতা — কাহ্নপা (১৩টি)
  • প্রাচীনতম কবি — লুইপা
  • ধর্মীয় ভিত্তি — বৌদ্ধ সহজযান ও বজ্রযান
  • ভাষার ধরন — সন্ধ্যাভাষা
  • সাহিত্যিক রূপ — গীতিকবিতা
  • বাংলা সাহিত্যের যুগ — আদিযুগ

মনে রাখার সূত্র

“হরপ্রসাদ আবিষ্কার, সহজিয়া ভাবের প্রকাশ; কাহ্নপা বেশি পদ, লুইপা প্রাচীন সাধ।”

চর্যাপদ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও আলোচনা গ্রন্থ

চর্যাপদ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গবেষক ও তাঁদের গ্রন্থের তালিকা

গবেষকের নামগ্রন্থের নাম
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীহাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা
মুহম্মদ শহীদুল্লাহবৌদ্ধ গান ও দোহা, বাংলা সাহিত্যের কথা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়Origin and Development of the Bengali Languageবাংলা ভাষার ভূমিকা
সুকুমার সেনচর্যাগীতি পদাবলী, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (প্রথম খণ্ড)
শশিভূষণ দাশগুপ্তObscure Religious Cults
অতীন্দ্র মজুমদারচর্যাগীতি
প্রবোধচন্দ্র বাগচীবৌদ্ধ সাহিত্য ও চর্যা বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণাগ্রন্থ ও প্রবন্ধ
পের কভের্নেAn Anthology of Buddhist Tantric Songs
শামসুল আলম সাঈদচর্যাপদ : তাত্ত্বিক সমীক্ষা 

 চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ 

  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী — হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা
  2. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ — বৌদ্ধ গান ও দোহা
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় — Origin and Development of the Bengali Language
  4. সুকুমার সেন — চর্যাগীতি পদাবলী
  5. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় — বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
  6. শশিভূষণ দাশগুপ্ত — Obscure Religious Cults
  7. অতীন্দ্র মজুমদার — চর্যাগীতি
  8. প্রবোধচন্দ্র বাগচী — বৌদ্ধ সাহিত্য গবেষণা
  9. পের কভের্নে — An Anthology of Buddhist Tantric Songs
  10. শামসুল আলম সাঈদ — চর্যাপদ : তাত্ত্বিক সমীক্ষা 

চর্যাপদ : ২০০টি গুরুত্বপূর্ণ SAQ ও উত্তর

1. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কী?

উত্তর: চর্যাপদ।

2. চর্যাপদের অপর নাম কী?

উত্তর: চর্যাগীতি।

3. চর্যাপদের মূল পুঁথির নাম কী?

উত্তর: চর্যাচর্যবিনিশ্চয়।

4. চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

5. কত সালে চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়?

উত্তর: ১৯০৭ সালে।

6. কোথা থেকে চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়?

উত্তর: নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে।

7. চর্যাপদ প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?

উত্তর: ১৯১৬ সালে।

8. চর্যাপদ প্রথম কোন নামে প্রকাশিত হয়?

উত্তর: ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’।

9. চর্যাপদের সংস্কৃত টীকাকার কে?

উত্তর: মুনিদত্ত।

10. মুনিদত্ত কোন গ্রন্থের টীকাকার?

উত্তর: চর্যাচর্যবিনিশ্চয়।

11. চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদক কে?

উত্তর: গ্রাগ্স-পা-র্গ্যাল-ম্ত্শান।

12. চর্যাপদের রচয়িতাদের কী বলা হয়?

উত্তর: সিদ্ধাচার্য।

13. চর্যাপদে মোট কতজন কবি ছিলেন?

উত্তর: ২৩ জন।

14. চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা কত ছিল?

উত্তর: ৫০টি।

15. বর্তমানে কতটি পদ পাওয়া গেছে?

উত্তর: ৪৬.৫টি।

16. চর্যাপদের কতটি পদ হারিয়ে গেছে?

উত্তর: ৩.৫টি।

17. চর্যাপদের প্রাচীনতম কবি কে?

উত্তর: লুইপা।

18. চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা কে?

উত্তর: কাহ্নপা।

19. কাহ্নপা কতটি পদ রচনা করেন?

উত্তর: ১৩টি।

20. চর্যাপদের ভাষাকে কী বলা হয়?

উত্তর: সন্ধ্যাভাষা।

21. সন্ধ্যাভাষা কী?

উত্তর: যে ভাষার বাহ্যিক ও গুপ্ত—দুই অর্থ থাকে।

22. চর্যাপদ কোন ধর্মমতের সঙ্গে যুক্ত?

উত্তর: বৌদ্ধ সহজযান ও বজ্রযান।

23. চর্যা শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: সাধনা বা ধর্মাচরণ।

24. চর্যাপদ কোন যুগের সাহিত্য?

উত্তর: বাংলা সাহিত্যের আদিযুগ।

25. চর্যাপদের রচনাকাল কী?

উত্তর: সাধারণভাবে দশম থেকে দ্বাদশ শতক।

26. চর্যাপদের ভাষাকে প্রাচীন বাংলা বলেছেন কে?

উত্তর: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

27. চর্যাপদের ভাষাকে অপভ্রংশ বলেছেন কে?

উত্তর: কিছু হিন্দি পণ্ডিত।

28. চর্যাপদের ভাষাকে প্রাচীন অসমিয়া বলেছেন কে?

উত্তর: অসমিয়া ভাষাবিদদের একাংশ।

29. চর্যাপদের ভাষাকে প্রাচীন ওড়িয়া বলেছেন কে?

উত্তর: কিছু ওড়িয়া গবেষক।

30. চর্যাপদের ভাষা নিয়ে বিতর্ক কেন?

উত্তর: এতে বাংলা, অসমিয়া, ওড়িয়া ও মৈথিলির প্রাচীন বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ আছে।

31. চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মত কী?

উত্তর: এটি প্রাচীন বাংলা ভাষার নিদর্শন।

32. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের রচনাকাল কত ধরেছিলেন?

উত্তর: সপ্তম থেকে একাদশ শতক।

33. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাপদের রচনাকাল কত ধরেছিলেন?

উত্তর: ৯৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ।

34. সুকুমার সেন চর্যাপদের রচনাকাল কত ধরেছিলেন?

উত্তর: দশম–দ্বাদশ শতক।

35. চর্যাপদের কবিরা কোন সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন?

উত্তর: বৌদ্ধ সহজিয়া সাধক।

36. চর্যাপদে কোন সাহিত্যরীতির প্রাধান্য আছে?

উত্তর: গীতিকবিতা।

37. চর্যাপদের পদগুলি কীসের জন্য রচিত?

উত্তর: গাওয়ার জন্য। 

38. চর্যাপদে কী কী রাগের উল্লেখ পাওয়া যায়?

উত্তর: পটমঞ্জরী, গুঞ্জরী, ভৈরবী প্রভৃতি।

39. চর্যাপদে সমাজজীবনের কোন দিকগুলি পাওয়া যায়?

উত্তর: কৃষি, মৎস্যধরা, শিকার, নৌযাত্রা ইত্যাদি।

40. চর্যাপদে নারীর ভূমিকা কেমন?

উত্তর: প্রতীকী ও সামাজিক উভয় রূপেই উপস্থিত।

41. লুইপার একটি বিখ্যাত পদের বিষয় কী?

উত্তর: সহজসাধনা।

42. ভুসুকুপা কে ছিলেন?

উত্তর: চর্যাপদের একজন সিদ্ধাচার্য কবি।

43. শবরপা কে ছিলেন?

উত্তর: চর্যাপদের একজন সিদ্ধাচার্য কবি।

44. সরহপা কে ছিলেন?

উত্তর: বৌদ্ধ সহজযান মতের সিদ্ধাচার্য কবি।

45. ডোম্বীপা কে ছিলেন?

উত্তর: চর্যাপদের একজন কবি।

46. কুক্কুরীপা কে ছিলেন?

উত্তর: চর্যাপদের একজন সিদ্ধাচার্য।

47. চর্যাপদে গুপ্ততত্ত্ব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম কী?

উত্তর: প্রতীক ও রূপক।

48. নবচর্যাপদ কী?

উত্তর: নেপালে আবিষ্কৃত নতুন চর্যাগীতির সংকলন।

49. নবচর্যাপদ আবিষ্কারের ফলে কী জানা যায়?

উত্তর: চর্যা সাহিত্যের পরিধি আরও বিস্তৃত ছিল।

50. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চর্যাপদের গুরুত্ব কী?

উত্তর: এটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শন।

51. চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা কে?

উত্তর: লুইপা।

52. চর্যাপদের শেষ পদটির রচয়িতা কে?

উত্তর: কাহ্নপা।

53. লুইপা কোন সম্প্রদায়ের সিদ্ধাচার্য ছিলেন?

উত্তর: সহজযান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের।

54. কাহ্নপার অপর নাম কী?

উত্তর: কৃষ্ণাচার্য।

55. ভুসুকুপা কতগুলি পদ রচনা করেন?

উত্তর: ৮টি।

56. শবরপা কতগুলি পদ রচনা করেন?

উত্তর: ২টি।

57. সরহপা কতগুলি পদ রচনা করেন?

উত্তর: ৪টি।

58. ডোম্বীপা কতগুলি পদ রচনা করেন?

উত্তর: ১টি।

59. কুক্কুরীপা কতগুলি পদ রচনা করেন?

উত্তর: ৩টি।

60. তান্তীপা কতগুলি পদ রচনা করেন?

উত্তর: ২টি।

61. চর্যাপদের কবিরা কোন ভাষায় রচনা করেছিলেন?

উত্তর: অপভ্রংশজাত প্রাচীন পূর্বভারতীয় আর্যভাষায়।

62. চর্যাপদের ভাষায় কোন কোন ভাষার উপাদান আছে?

উত্তর: বাংলা, অসমিয়া, ওড়িয়া ও মৈথিলি।

63. চর্যাপদকে বাংলা ভাষার আদিতম নিদর্শন বলেছেন কে?

উত্তর: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

64. ‘চর্যাগীতি পদাবলী’ গ্রন্থের সম্পাদক কে?

উত্তর: সুকুমার সেন।

65. ‘বৌদ্ধ গান ও দোহা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

উত্তর: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

66. ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ গ্রন্থে চর্যাপদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন কে?

উত্তর: সুকুমার সেন।

67. ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

উত্তর: অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

68. চর্যাপদে ব্যবহৃত ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: দেশজ শব্দের আধিক্য।

69. চর্যাপদে তৎসম শব্দের ব্যবহার কেমন?

উত্তর: খুবই কম।

70. চর্যাপদের পদগুলির শুরুতে কী উল্লেখ থাকে?

উত্তর: রাগের নাম।

71. চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি কোন রাগের উল্লেখ পাওয়া যায়?

উত্তর: পটমঞ্জরী।

72. চর্যাপদের ভাষাকে ‘আলো-আঁধারির ভাষা’ বলা হয় কেন?

উত্তর: এতে প্রকাশ্য ও গুপ্ত—দুই অর্থ থাকে।

73. মুনিদত্তের টীকার ভাষা কী?

উত্তর: সংস্কৃত।

74. মুনিদত্তের টীকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: চর্যার গুপ্তার্থ ব্যাখ্যা করার জন্য।

75. চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: হারিয়ে যাওয়া অংশের অর্থ উদ্ধার করতে সাহায্য করে।

76. চর্যাপদে কোন বৌদ্ধ দর্শনের প্রভাব সর্বাধিক?

উত্তর: সহজযান।

77. বজ্রযান কী?

উত্তর: বৌদ্ধধর্মের একটি তান্ত্রিক শাখা।

78. সহজযান কী?

উত্তর: অন্তর্নিহিত সহজ সাধনার মাধ্যমে মুক্তিলাভের মতবাদ।

79. চর্যাপদের ভাষাকে ‘প্রাচীন অসমিয়া’ বলেছিলেন কারা?

উত্তর: অসমিয়া ভাষাবিদদের একাংশ।

80. চর্যাপদের ভাষাকে ‘প্রাচীন ওড়িয়া’ বলেছিলেন কারা?

উত্তর: কিছু ওড়িয়া গবেষক।

81. চর্যাপদের ভাষাকে ‘মৈথিলির প্রাচীন রূপ’ বলেছিলেন কারা?

উত্তর: কিছু মৈথিলি গবেষক।

82. চর্যাপদের ভাষা নিয়ে বিতর্কের প্রধান কারণ কী?

উত্তর: ভাষার মিশ্র বৈশিষ্ট্য।

83. নবচর্যাপদ কোথায় আবিষ্কৃত হয়?

উত্তর: নেপালে।

84. নবচর্যাপদ কবে আলোচনায় আসে?

উত্তর: বিংশ শতকের শেষভাগে।

85. নবচর্যাপদে কী পাওয়া যায়?

উত্তর: নতুন চর্যাগীতি ও নতুন কবির নাম।

86. নবচর্যাপদ বাংলা সাহিত্য গবেষণায় কী গুরুত্ব বহন করে?

উত্তর: চর্যা-সাহিত্যের বিস্তৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য দেয়।

87. চর্যাপদের বিদেশি গবেষকদের মধ্যে কে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য?

উত্তর: পের কভের্নে।

88. Per Kværne-এর গবেষণার বিষয় কী?

উত্তর: বৌদ্ধ তান্ত্রিক গান ও চর্যাপদ।

89. ‘An Anthology of Buddhist Tantric Songs’ গ্রন্থটি কার?

উত্তর: Per Kværne।

90. ‘Origin and Development of the Bengali Language’ গ্রন্থটি কার?

উত্তর: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

91. চর্যাপদকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের গবেষণা করেছেন কে?

উত্তর: শশিভূষণ দাশগুপ্ত।

92. ‘Obscure Religious Cults’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?

উত্তর: শশিভূষণ দাশগুপ্ত।

93. চর্যাপদের প্রতীকধর্মিতার একটি উদাহরণ কী?

উত্তর: নৌকা = মানবদেহ।

94. চর্যাপদে নদী কীসের প্রতীক?

উত্তর: সংসার বা জীবনপ্রবাহের।

95. চর্যাপদে শিকারি কীসের প্রতীক?

উত্তর: সাধক বা গুরুর।

96. চর্যাপদে হরিণ কীসের প্রতীক?

উত্তর: চঞ্চল মনের।

97. চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায় বিশেষ অবদান কার?

উত্তর: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

98. চর্যাপদের সাহিত্যিক গবেষণায় বিশেষ অবদান কার?

উত্তর: সুকুমার সেন।

99. চর্যাপদ আবিষ্কারের ফলে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস কতদূর পিছিয়ে যায়?

উত্তর: প্রায় এক হাজার বছর।

100. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে চর্যাপদের স্থান কী?

উত্তর: আদি ও ভিত্তিপ্রস্তরস্বরূপ।

101. চর্যাপদের কবিদের সাধারণ পরিচয় কী?

উত্তর: তাঁরা সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধক।

102. ‘সিদ্ধাচার্য’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: সিদ্ধিলাভকারী আধ্যাত্মিক সাধক।

103. লুইপা কোন অঞ্চলের সাধক বলে মনে করা হয়?

উত্তর: বঙ্গ বা পূর্বভারতের অঞ্চলের।

104. কাহ্নপা কোন নামে অধিক পরিচিত?

উত্তর: কৃষ্ণাচার্য।

105. চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বাধিক পদ রচয়িতা কে?

উত্তর: ভুসুকুপা।

106. ভুসুকুপা কতটি পদ রচনা করেন?

উত্তর: ৮টি।

107. সরহপাকে কী বলা হয়?

উত্তর: সহজযান মতবাদের অন্যতম প্রবর্তক।

108. ডোম্বীপার পদে কোন শ্রেণির মানুষের উল্লেখ আছে?

উত্তর: নিম্নবর্ণের মানুষের।

109. শবরপার নামের সঙ্গে কোন জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক আছে?

উত্তর: শবর জনগোষ্ঠী।

110. কুক্কুরীপা নামের অর্থ কী?

উত্তর: কুকুর-সম্পর্কিত সাধক।

111. চর্যাপদের পদে ‘গুরু’-র গুরুত্ব কেমন?

উত্তর: অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

112. সহজসাধনার মূল ভিত্তি কী?

উত্তর: গুরুকৃপা।

113. চর্যাপদে ‘সহজ’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: স্বাভাবিক বা অন্তর্নিহিত সত্য।

114. চর্যাপদে ‘মহাসুখ’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: মুক্তি বা পরম জ্ঞান।

115. চর্যাপদে ‘নারী’ অনেক সময় কীসের প্রতীক?

উত্তর: প্রজ্ঞা বা জ্ঞানশক্তির।

116. চর্যাপদে ‘পুরুষ’ কীসের প্রতীক?

উত্তর: উপায় বা সাধনশক্তির।

117. চর্যাপদে ‘দেহ’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: দেহকেই সাধনার ক্ষেত্র ধরা হয়েছে।

118. চর্যাপদে কোন ধরনের সাধনার উল্লেখ বেশি?

উত্তর: তান্ত্রিক সাধনা।

119. চর্যাপদের ভাষায় কোন পুরুষবাচক সর্বনাম দেখা যায়?

উত্তর: ‘সে’, ‘তাহি’ প্রভৃতি।

120. চর্যাপদে বাংলা ক্রিয়ার কোন প্রাচীন রূপ দেখা যায়?

উত্তর: ‘করই’, ‘যাই’, ‘ভণই’ ইত্যাদি।

121. চর্যাপদে ‘ভণই’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: বলেন বা বলছেন।

122. চর্যাপদে ‘পদ’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: গান বা গীতিকবিতা।

123. চর্যাপদে রাগের উল্লেখ কেন করা হয়েছে?

উত্তর: গাওয়ার সুবিধার জন্য।

124. চর্যাপদ কি মূলত পাঠের জন্য রচিত?

উত্তর: না, গানের জন্য রচিত।

125. চর্যাপদের সাহিত্যধারা কী?

উত্তর: গীতিকাব্য।

126. চর্যাপদে প্রকৃতির কোন উপাদান বেশি দেখা যায়?

উত্তর: নদী, বন, পাহাড়, পশুপাখি।

127. চর্যাপদে নৌকার উল্লেখ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: বাংলার নদীনির্ভর জীবনের পরিচয় দেয়।

128. চর্যাপদে কৃষিজীবনের পরিচয় পাওয়া যায় কি?

উত্তর: হ্যাঁ।

129. চর্যাপদে মৎস্যজীবনের উল্লেখ আছে কি?

উত্তর: হ্যাঁ।

130. চর্যাপদে শিকারজীবনের পরিচয় পাওয়া যায় কি?

উত্তর: হ্যাঁ।

131. চর্যাপদে নগরজীবনের তুলনায় কোন জীবনের চিত্র বেশি?

উত্তর: গ্রামীণ জীবনের।

132. চর্যাপদে ধর্ম ও জীবনের সম্পর্ক কেমন?

উত্তর: নিবিড়।

133. চর্যাপদের ভাষা কোন ভাষাপরিবারভুক্ত?

উত্তর: ইন্দো-আর্য ভাষাপরিবার।

134. চর্যাপদের ভাষার মূল উৎস কী?

উত্তর: মাগধী অপভ্রংশ।

135. বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন অপভ্রংশ থেকে?

উত্তর: মাগধী অপভ্রংশ।

136. চর্যাপদে ধ্বনিগত সরলতার একটি উদাহরণ কী?

উত্তর: যুক্তব্যঞ্জনের কম ব্যবহার।

137. চর্যাপদে কোন রীতির শব্দ বেশি দেখা যায়?

উত্তর: দেশজ শব্দ।

138. চর্যাপদের ভাষায় সংস্কৃতের প্রভাব কেমন?

উত্তর: সীমিত।

139. চর্যাপদে কোন ধরনের অলংকার বেশি দেখা যায়?

উত্তর: রূপক ও প্রতীক।

140. চর্যাপদের মূল ভাব কী?

উত্তর: আধ্যাত্মিক সাধনা।

141. ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ নামের অর্থ কী?

উত্তর: করণীয় ও অकरणীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত।

142. চর্যাপদের ভাষাকে ‘প্রাচীন বাংলা’ বলার অন্যতম যুক্তি কী?

উত্তর: বাংলা ক্রিয়ারূপ ও শব্দরূপের উপস্থিতি।

143. চর্যাপদের ভাষায় ‘মই’ শব্দটি কোন ভাষার পূর্বসূরি?

উত্তর: বাংলা ও অসমিয়ার।

144. চর্যাপদের ভাষায় ‘তুমি’ জাতীয় সর্বনামের আদিরূপ পাওয়া যায় কি?

উত্তর: হ্যাঁ।

145. চর্যাপদে আঞ্চলিকতার প্রমাণ কী?

উত্তর: বিভিন্ন উপভাষাগত শব্দের ব্যবহার।

146. নবচর্যাপদে কতগুলি নতুন পদ আবিষ্কৃত হয়েছে?

উত্তর: বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে প্রায় শতাধিক নতুন চর্যাগীতি পাওয়া গেছে।

147. নবচর্যাপদ কোন ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণাকে সমৃদ্ধ করেছে?

উত্তর: পূর্বভারতীয় আর্যভাষার ইতিহাসকে।

148. নবচর্যাপদে কোন ধর্মীয় প্রভাব দেখা যায়?

উত্তর: বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাধনা।

149. নবচর্যাপদের আবিষ্কার বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কী গুরুত্ব বহন করে?

উত্তর: চর্যা-সাহিত্যের বিস্তৃতি ও ধারাবাহিকতার নতুন প্রমাণ দেয়।

150. WBSLST পরীক্ষায় চর্যাপদ থেকে সবচেয়ে বেশি কোন বিষয়গুলি জিজ্ঞাসা করা হয়?

উত্তর: আবিষ্কার, টীকাকার, কবি, পদসংখ্যা, ভাষা, সন্ধ্যাভাষা, রচনাকাল, ধর্মীয় পটভূমি, নবচর্যাপদ ও গবেষণাগ্রন্থ।

151. চর্যাপদ আবিষ্কারের ফলে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস কত বছর পিছিয়ে যায়?

উত্তর: প্রায় এক হাজার বছর।

152. চর্যাপদ আবিষ্কারের আগে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে কীকে ধরা হতো?

উত্তর: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।

153. চর্যাপদকে বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন কে?

উত্তর: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

154. ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

উত্তর: ১৯১৬ সালে।

155. চর্যাপদের মূল পাণ্ডুলিপি কোন লিপিতে লেখা ছিল?

উত্তর: নেপালি লিপিতে।

156. চর্যাপদের মূল পাণ্ডুলিপিতে কী কী অংশ ছিল?

উত্তর: চর্যাগীতি, সংস্কৃত টীকা ও তিব্বতি অনুবাদ।

157. মুনিদত্তের টীকা চর্যাপদ গবেষণায় কেন অপরিহার্য?

উত্তর: গুপ্তার্থ উদ্ঘাটনে সহায়ক।

158. চর্যাপদের টীকার ভাষা কী?

উত্তর: সংস্কৃত।

159. চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ কোন দিক থেকে মূল্যবান?

উত্তর: পাঠোদ্ধার ও অর্থ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে।

160. চর্যাপদের ভাষাকে বাংলা প্রমাণে সর্বাধিক অবদান কার?

উত্তর: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

161. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের ভাষাকে কী বলেছেন?

উত্তর: প্রাচীন বাংলা।

162. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাপদ সম্পর্কে কী মত দেন?

উত্তর: এটি বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন।

163. সুকুমার সেন চর্যাপদের ভাষাকে কীভাবে দেখেছেন?

উত্তর: প্রাচীন বাংলা ভাষার আদিরূপ হিসেবে।

164. চর্যাপদের ভাষাকে অসমিয়ার প্রাচীন রূপ বলেছিলেন কে?

উত্তর: কিছু অসমিয়া ভাষাবিদ।

165. চর্যাপদের ভাষাকে ওড়িয়ার প্রাচীন রূপ বলেছিলেন কারা?

উত্তর: কিছু ওড়িয়া গবেষক।

166. চর্যাপদের ভাষাকে মৈথিলির সঙ্গে যুক্ত করেছেন কারা?

উত্তর: কিছু মৈথিলি পণ্ডিত।

167. ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে চর্যাপদের ভাষা কোন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত?

উত্তর: পূর্বভারতীয় আর্যভাষাগোষ্ঠী।

168. চর্যাপদে কোন অপভ্রংশের প্রভাব সবচেয়ে বেশি?

উত্তর: মাগধী অপভ্রংশ।

169. চর্যাপদে বাংলা ভাষার কোন বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট?

উত্তর: ক্রিয়ারূপ ও সর্বনাম।

170. চর্যাপদে লোকভাষার ব্যবহার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: ভাষার স্বাভাবিক বিকাশ বোঝা যায়।

171. চর্যাপদে কোন ধরনের শব্দভাণ্ডার বেশি?

উত্তর: দেশজ শব্দভাণ্ডার।

172. চর্যাপদে ধর্মীয় তত্ত্ব প্রকাশের প্রধান কৌশল কী?

উত্তর: প্রতীকধর্মিতা।

173. চর্যাপদে রূপকের ব্যবহার কেন করা হয়েছে?

উত্তর: গুপ্ততত্ত্ব আড়াল করার জন্য।

174. চর্যাপদের ভাষাকে ‘সন্ধ্যাভাষা’ বলেছেন কে?

উত্তর: বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাহিত্যের গবেষকেরা।

175. সন্ধ্যাভাষার অপর নাম কী?

উত্তর: আলো-আঁধারির ভাষা।

176. চর্যাপদের সাহিত্যিক মূল্য কোথায় নিহিত?

উত্তর: ভাষা, কাব্য ও সমাজচিত্রে।

177. চর্যাপদের ঐতিহাসিক মূল্য কী?

উত্তর: প্রাচীন বাংলার জীবনচিত্র সংরক্ষণ।

178. চর্যাপদে সমাজের কোন শ্রেণির মানুষদের দেখা যায়?

উত্তর: সাধারণ ও নিম্নবর্গের মানুষ।

179. চর্যাপদে পেশাভিত্তিক জীবনের উল্লেখ আছে কি?

উত্তর: আছে।

180. চর্যাপদে কোন কোন পেশার উল্লেখ পাওয়া যায়?

উত্তর: জেলে, শিকারি, কৃষক, বণিক প্রভৃতি।

181. চর্যাপদের অন্যতম গবেষক শশিভূষণ দাশগুপ্তের বিখ্যাত গ্রন্থ কী?

উত্তর: Obscure Religious Cults

182. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের কোন দিকটি বিশ্লেষণ করেছেন?

উত্তর: ধর্মীয় ও তান্ত্রিক দিক।

183. পের কভের্নে কোন দেশের গবেষক?

উত্তর: নরওয়ের।

184. পের কভের্নে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চর্যাপদ গবেষণাকে জনপ্রিয় করেছেন।

185. Per Kværne-এর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম কী?

উত্তর: An Anthology of Buddhist Tantric Songs

186. অতীন্দ্র মজুমদারের চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?

উত্তর: চর্যাগীতি

187. প্রবোধচন্দ্র বাগচীর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র কী ছিল?

উত্তর: বৌদ্ধ সাহিত্য ও সংস্কৃতি।

188. ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে চর্যাপদ আলোচনা করেছেন কে?

উত্তর: অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

189. ‘বাংলা সাহিত্যের কথা’ গ্রন্থে চর্যাপদ আলোচনা করেছেন কে?

উত্তর: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

190. নবচর্যাপদ আবিষ্কারের ফলে কী নতুন তথ্য জানা যায়?

উত্তর: চর্যা সাহিত্যের বিস্তৃতি পূর্বধারণার চেয়ে বেশি ছিল।

191. নবচর্যাপদে কী ধরনের নতুন উপাদান পাওয়া যায়?

উত্তর: নতুন পদ ও নতুন কবির নাম।

192. নবচর্যাপদ বাংলা ভাষা গবেষণায় কী গুরুত্ব বহন করে?

উত্তর: ভাষার বিবর্তনের নতুন তথ্য দেয়।

193. নবচর্যাপদে কোন ধর্মীয় ধারার প্রভাব লক্ষ করা যায়?

উত্তর: সহজযান ও বজ্রযান।

194. চর্যাপদে ‘সহজ’ ধারণার মূল অর্থ কী?

উত্তর: অন্তর্নিহিত সত্যের উপলব্ধি।

195. চর্যাপদের সর্বাধিক আলোচিত বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: সন্ধ্যাভাষা।

196. চর্যাপদের প্রধান সাহিত্যরূপ কী?

উত্তর: গীতিকবিতা।

197. চর্যাপদ বাংলা কাব্যধারায় কী সূচনা করেছে?

উত্তর: গীতিকাব্যের সূচনা।

198. চর্যাপদ বাংলা ভাষা গবেষণার প্রধান উৎস কেন?

উত্তর: এটি বাংলা ভাষার প্রাচীনতম লিখিত নিদর্শন।

199. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চর্যাপদের স্থান কী?

উত্তর: ভিত্তিপ্রস্তরস্বরূপ।

200. WBSLST পরীক্ষার্থীর চর্যাপদ অধ্যয়নের মূল লক্ষ্য কী হওয়া উচিত?

উত্তর: আবিষ্কার, রচনাকাল, ভাষা, কবি, পদসংখ্যা, টীকাকার, সন্ধ্যাভাষা, নবচর্যাপদ, ভাষা-বিতর্ক ও গবেষণাগ্রন্থ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন।

সম্পূর্ণ PDF টি ডাউনলোড করে নাও👇👇👇

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *