সৌরজগতে পৃথিবী | WB TET | UPPER PRIMARY TET | ভূগোল থেকে প্রশ্ন | PDF
সৌরজগতে পৃথিবী
১. সৌরজগতের পরিচয়
- সূর্যকে কেন্দ্র করে আটটি গ্রহ, তাদের উপগ্রহ, গ্রহাণু, ধূমকেতু, উল্কা প্রভৃতি নিয়ে সৌরজগত গঠিত।
- সূর্য সৌরজগতের মোট ভরের প্রায় ৯৯.৮৬% ধারণ করে।
- গ্রহগুলি সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে।
২. পৃথিবীর অবস্থান
- পৃথিবী সূর্য থেকে তৃতীয় গ্রহ।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৪৯.৬ মিলিয়ন কিলোমিটার বা ১ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক একক (AU)।
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র এবং বহিঃস্থ প্রতিবেশী গ্রহ মঙ্গল।
- পৃথিবীকে “নীল গ্রহ” (Blue Planet) বলা হয়, কারণ এর অধিকাংশ অংশ জল দ্বারা আবৃত।
৩. পৃথিবীর আকার ও আকৃতি
- পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয়।
- মেরু অঞ্চলে সামান্য চাপা এবং বিষুবীয় অঞ্চলে কিছুটা স্ফীত।
- এই আকৃতিকে জিওয়েড (Geoid) বা অবলেট স্ফেরয়েড (Oblate Spheroid) বলা হয়।
- পৃথিবীর গড় ব্যাস প্রায় ১২,৭৫৬ কিমি।
৪. পৃথিবীর বিশেষত্ব
- সৌরজগতের একমাত্র পরিচিত গ্রহ যেখানে জীবনের অস্তিত্ব রয়েছে।
- জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জল, বায়ুমণ্ডল এবং উপযুক্ত তাপমাত্রা পৃথিবীতে বিদ্যমান।
- বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের উপস্থিতি জীবজগতের বিকাশে সহায়ক।
- পৃথিবীর চারপাশে ওজোন স্তর ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে।
৫. পৃথিবীর আবর্তন (Rotation)
- পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে।
- একবার আবর্তন সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড (প্রায় ২৪ ঘণ্টা)।
- আবর্তনের ফলে দিন ও রাতের সৃষ্টি হয়।
- আবর্তনের কারণে কোরিওলিস বল উৎপন্ন হয়, যা বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের দিক পরিবর্তন করে।
৬. পৃথিবীর পরিক্রমণ (Revolution)
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পরিক্রমণ করে।
- একবার পরিক্রমণ সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।
- এই অতিরিক্ত সময়ের সমন্বয়ের জন্য প্রতি চার বছর অন্তর একটি অধিবর্ষ (Leap Year) হয়।
- পরিক্রমণ এবং পৃথিবীর অক্ষের ২৩½° হেলনের ফলে ঋতু পরিবর্তন ঘটে।
৭. পৃথিবীর অক্ষ ও অক্ষীয় হেলন
- পৃথিবীর অক্ষ কক্ষপথের লম্বের সঙ্গে ২৩½° কোণে হেলানো।
- এই হেলন ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ।
- উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ঋতু দেখা যায়।
৮. পৃথিবীর উপগ্রহ
- পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ হলো চাঁদ।
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে প্রায় ২৭.৩ দিনে একবার পরিক্রমণ করে।
- চাঁদের মহাকর্ষ বলের কারণে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়।
৯. পৃথিবীর গঠন
- পৃথিবীর তিনটি প্রধান স্তর—
- ভূত্বক (Crust)
- ম্যান্টল (Mantle)
- কেন্দ্রক (Core)
- কেন্দ্রক প্রধানত লোহা ও নিকেল দ্বারা গঠিত।
গুরুত্বপূর্ণ TET তথ্য (Quick Revision)
- সূর্য থেকে পৃথিবীর অবস্থান — তৃতীয়
- পৃথিবীর আকৃতি — জিওয়েড
- পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ — চাঁদ
- পৃথিবীর আবর্তনকাল — ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড
- পৃথিবীর পরিক্রমণকাল — ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড
- অক্ষীয় হেলন — ২৩½°
- পৃথিবীকে বলা হয় — নীল গ্রহ
- জীবনের অস্তিত্ব আছে — পৃথিবীতে
- দিন-রাতের কারণ — আবর্তন
- ঋতু পরিবর্তনের কারণ — পরিক্রমণ ও অক্ষীয় হেলন
বিস্তারিতভাবে আরেকবার দেখে নাও সব 👈👇👉
১. সৌরজগতের পরিচয় ও গঠন (The Solar System)
সূর্য এবং তার মহাকর্ষীয় টানে আবদ্ধ আটটি গ্রহ, তাদের উপগ্রহ, কোটি কোটি গ্রহাণু (Asteroids), ধূমকেতু (Comets) এবং উল্কা (Meteors) নিয়ে সৌরজগত গঠিত।
- সূর্যের আধিপত্য: সৌরজগতের মোট ভরের প্রায় ৯৯.৮৬% অংশই সূর্যের দখলে। সূর্য প্রধানত হাইড্রোজেন (প্রায় ৭৩%) ও হিলিয়াম (প্রায় ২৫%) গ্যাস দ্বারা গঠিত।
- গ্রহের শ্রেণিবিভাগ: সূর্য থেকে দূরত্বের ভিত্তিতে গ্রহগুলিকে দুভাগে ভাগ করা হয়—
- অন্তঃস্থ গ্রহ (Terrestrial Planets): বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল (এরা শিলাময়)।
- বহিঃস্থ গ্রহ (Jovian Planets): বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন (এরা গ্যাসীয়)।
- বামন গ্রহ: ২০০৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন (IAU) প্লুটোকে বামন গ্রহের মর্যাদা দেয়।
২. সৌরজগতে পৃথিবীর অবস্থান ও পরিমাপ
- অবস্থান: সূর্য থেকে দূরত্বের নিরিখে পৃথিবী তৃতীয় এবং আয়তনের দিক থেকে এটি সৌরজগতের পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ।
- দূরত্ব: সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৪ কোটি ৯৬ লক্ষ কিমি (বা ১ Astronomical Unit)। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড (বা ৫০০ সেকেন্ড)।
- পড়শি গ্রহ: পৃথিবীর কক্ষপথের ভেতরের দিকে রয়েছে শুক্র (যাকে পৃথিবীর ‘জমজ গ্রহ’ বা Twin Planet বলা হয়) এবং বাইরের দিকে রয়েছে মঙ্গল।
৩. পৃথিবীর আকৃতি: জিওয়েড (Geoid)
- পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয়। নিজের অক্ষের চারদিকে তীব্র গতিতে আবর্তনের কারণে এর মেরু অঞ্চল সামান্য চাপা এবং বিষুবীয় অঞ্চল কিছুটা স্ফীত।
- পরিমাপ: পৃথিবীর বিষুবীয় ব্যাস (১২,৭৫৬ কিমি) এবং মেরু ব্যাসের (১২,৭১৪ kiমি) মধ্যে পার্থক্য প্রায় ৪২ কিমি।
- জিওয়েড: পৃথিবীর এই অনন্য আকৃতিকে অন্য কোনো বস্তুর সাথে তুলনা করা যায় না বলেই একে ‘জিওয়েড’ (Geoid) বা “পৃথিবীর সদৃশ” বলা হয়।
৪. প্রাণধারণের অনুকূল পরিবেশ ও নীল গ্রহ
- অনুকূল তাপমাত্রা: সূর্য থেকে সঠিক দূরত্বে অবস্থানের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৫° সেলসিয়াস, যা জীবনের অনুকূল।
- বায়ুমণ্ডল: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন (৭৮.০৮%) ও অক্সিজেন (২০.৯৫%) এর সুষম অনুপাত রয়েছে। এছাড়া ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করার জন্য রয়েছে ওজোন স্তর ($O_3$)।
- নীল গ্রহ: মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে নীল দেখায় কারণ এর উপরিভাগের প্রায় ৭১% অংশ জল (বারিমণ্ডল) দ্বারা আবৃত।
৫. পৃথিবীর গতি ও তার প্রভাব
পৃথিবীর গতি দুটি—আবর্তন গতি ও পরিক্রমণ গতি।
| বৈশিষ্ট্যাবলি | আবর্তন গতি (Rotation) | পরিক্রমণ গতি (Revolution) |
| দিক | পশ্চিম থেকে পূর্বে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) | ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে উপবৃত্তাকার পথে |
| সময়কাল | ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড (১ সৌরদিন) | ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড (১ সৌরবছর) |
| প্রধান প্রভাব | দিন-রাত্রি সংগঠন, কোরিওলিস বলের সৃষ্টি, জোয়ার-ভাটার সময় নির্ধারণ। | ঋতু পরিবর্তন, দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি। |
| লিপ ইয়ার | – | অতিরিক্ত প্রায় ৬ ঘণ্টার সমন্বয়ে প্রতি ৪ বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাস ২৯ দিনে হয়। |
৬. পৃথিবীর অক্ষ ও অক্ষীয় হেলন
- পৃথিবীর অক্ষটি তার কক্ষতলের (Orbital Plane) সঙ্গে ৬৬½° কোণে এবং কক্ষপথের উলম্ব রেখার সঙ্গে ২৩½° কোণে হেলে অবস্থান করে।
- এই অক্ষীয় হেলনের কারণেই বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যরশ্মি পৃথিবীর বুকে কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও তির্যকভাবে পড়ে, যা ঋতু পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।
- ৭. পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ: চাঁদ (The Moon)
- দূরত্ব: পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব প্রায় ৩,৮৪,৪০০ কিমি।
- আবর্তন ও পরিক্রমণ: চাঁদ তার নিজের অক্ষে এবং পৃথিবীর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে একই সময় নেয়—২৭ দিন ৭ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট (সিনোডিক মাস বা সাওয়ান মাস ২৯.৫ দিন)। এই কারণে আমরা পৃথিবী থেকে চাঁদের কেবল একটি পিঠই দেখতে পাই।
- জোয়ার-ভাটা: পৃথিবীর সমুদ্রের ওপর সূর্যের তুলনায় চাঁদের মহাকর্ষ বলের প্রভাব দ্বিগুণ, যা নিয়মিত জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি করে।
৮. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন
পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত:
১. ভূত্বক (Crust): সবচেয়ে উপরের পাতলা স্তর। এটি মূলত ‘শিয়াল’ (SIAL – সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম) এবং ‘সীমা’ (SIMA – সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম) দ্বারা গঠিত।
২. গুরুমণ্ডল (Mantle): ভূত্বকের নিচে প্রায় ২,৯০০ কিমি গভীর স্তর, যা ক্রফেসিমা ও নিফেসিমা নিয়ে গঠিত।
৩. কেন্দ্রক (Core): পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল, যা প্রধানত লোহা ($Fe$) ও নিকেল ($Ni$) দিয়ে তৈরি বলে একে ‘নিফে’ (NIFE) বলা হয়।
অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Quick Revision)
- অপসূর (Aphelion): ৪ঠা জুলাই সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)।
- অনুসূর (Perihelion): ৩রা জানুয়ারি সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম হয় (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি)।
- মহাবিষুব (Vernal Equinox): ২১শে মার্চ সমগ্র পৃথিবীতে দিন ও রাত্রি সমান হয়।
- জলবিষুব (Autumnal Equinox): ২৩শে সেপ্টেম্বর সমগ্র পৃথিবীতে দিন ও রাত্রি সমান হয়।
- কর্কটসংক্রান্তি (Summer Solstice): ২১শে জুন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত্রি হয়।
- মকরসংক্রান্তি (Winter Solstice): ২২শে ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত্রি হয়।
- কোরিওলিস বল: আবর্তন গতির কারণে সৃষ্ট এই বলের প্রভাবে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।
- পৃথিবীর মুক্তিবেগ (Escape Velocity): ১১.২ কিমি/সেকেন্ড।
