You are currently viewing বাংলা কাব্য-সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান/ Buddhadeva Bose

বাংলা কাব্য-সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান/ Buddhadeva Bose

কবি বুদ্ধদেব বসু :-

রবীন্দ্রোত্তর কাব্যস্রোতে অন্যতম প্রধান নাবিক ছিলেন কবি বুদ্ধদেব বসু এবং বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন দিকে ছিলো তাঁর বিচরণ । একাধারে তিনি কবিতা, নাটক, গল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা, ভ্রমণ সাহিত্য, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য অর্থাৎ গদ্য বা পদ্য সাহিত্যের প্রতিটি বিভাগেই আজীবন নতুন নতুন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে সাহিত্যের সব্যসাচী হিসেবে পরিচয় লাভ করেছেন। এছাড়া সাহিত্য সমালোচনা এবং ‘কবিতা পত্রিকার প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব। এই মহান সাহিত্যিক ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহন করেন। বাংলা সাহিত্য অসামান্য অবদান রেখে ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বাংলা কাব্যে কবি বুদ্ধদেব বসুর অবদান , কবি প্রতিভা ও কাব্য বৈশিষ্ট্য :  

১.কবি বুদ্ধদেব বসুর কবিতায় নতুন জীবন প্রত্যয় বলিষ্ঠ আশা ও বাগভঙ্গির অভিনবত্ব রয়েছে।
২.শেষের দিকের কবিতায় যে অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা যায় তা দেহ ও আত্মার দ্বন্দ্ব,আদর্শ ও বাস্তবের দ্বন্দ্ব,প্রবৃত্তি ও প্রেমের দ্বন্দ্ব।
৩. প্রেম, রোমান্স আর সৌন্দর্যের আরাধনার পাশাপাশি দেহ কামনার রক্তরাগ সঞ্চিত হয়েছে বুদ্ধদেব বসুর কবিতায়।
৪. রোমান্টিক প্রকৃতি তাঁর কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই রোমান্টিকতা কবিতার ভিতর থেকে বাইরে প্রকাশ পেয়েছে প্রায়শই।
৫. বুদ্ধদেব বসুর কবিতায় পালা বদলের ইঙ্গিত মেলে। সমাজ নীতি ও সংস্কারের নিগড় ভাঙবার জন্য তিনি ব্যাকুল ছিলেন।
৬. আঙ্গিকের দিক দিয়ে দুর্বোধ্যতা ও বাচনবক্রতা থেকে কবিতাকে তিনি মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন।

কবি বুদ্ধদেব বসুর গ্রন্থসমূহ:

কাব্যগ্রন্থ:

মর্মবাণী (১৯২৫),
বন্দীর বন্দনা (১৯৩০),
পৃথিবীর প্রতি (১৯৩৩),
কঙ্কাবতী (১৯৩৭),
দময়ন্তী (১৯৪৩),
দ্রৌপদীর শাড়ি (১৯৪৮),
শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৫৩),
শীতের প্রার্থনা: বসন্তের উত্তর (১৯৫৫),
যে-আঁধার আলোর অধিক (১৯৫৮),
দময়ন্তী: দ্রৌপদীর শাড়ি ও অন্যান্য কবিতা (১৯৬৩),
মরচেপড়া পেরেকের গান (১৯৬৬),
একদিন: চিরদিন (১৯৭১),
স্বাগত বিদায় (১৯৭১)

বুদ্ধদেব বসুর উপন্যাস সমূহ:
সাড়া (১৯৩০),
সানন্দা (১৯৩৩),
লাল মেঘ (১৯৩৪),
বাসরঘর (১৯৩৫),
পরিক্রমা (১৯৩৮),
কালো হাওয়া (১৯৪২),
তিথিডোর (১৯৪৯),
নির্জন স্বাক্ষর (১৯৫১),
মৌলিনাথ (১৯৫২),
নীলাঞ্জনের খাতা (১৯৬০),
পাতাল থেকে আলাপ (১৯৬৭),
রাত ভ’রে বৃষ্টি (১৯৬৭),
গোলাপ কেন কালো (১৯৬৮),
বিপন্ন বিস্ময় (১৯৬৯),
রুক্‌মি”” (১৯৭২)

বুদ্ধদেব বসুর গল্প সমূহ:-
জনী হল উতলা(১৯২৬),
অভিনয়,অভিনয় নয় (১৯৩০),
রেখাচিত্র (১৯৩১),
হাওয়া বদল (১৯৪৩),
শ্রেষ্ঠ গল্প (১৩৫৯),
একটি জীবন ও কয়েকটি মৃত্যু (১৯৬০),
হৃদয়ের জাগরণ (১৩৬৮),
ভাসো আমার ভেলা (১৯৬৩),
প্রেমপত্র (১৯৭২)

বুদ্ধদেব বসুর প্রবন্ধ সমূহ:-
হঠাৎ-আলোর ঝলকানি (১৯৩৫),
কালের পুতুল (১৯৪৬),
সাহিত্যচর্চা (১৩৬১),
রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য (১৯৫৫),
স্বদেশ ও সংস্কৃতি (১৯৫৭),
সঙ্গ নিঃসঙ্গতা ও রবীন্দ্রনাথ (১৯৬৩),
প্রবন্ধ-সংকলন (১৯৬৬),
কবি রবীন্দ্রনাথ (১৯৬৬)সমুদ্রতীর (১৯৩৭),
আমার ছেলেবেলা (১৯৭৩),
আমার যৌবন (১৯৭৩)
আমি চঞ্চল হে (১৯৩৭)
সব পেয়েছির দেশে (১৯৪১)
উত্তর তিরিশ (১৯৪৫)
জাপানি জার্নাল (১৯৬২)
দেশান্তর (১৯৬৬)
কবি রবীন্দ্রনাথ(১৯৬৬),
মহাভারতের কথা (১৯৭৪),
কবিতার শত্রু ও মিত্র (১৯৭৪)

বুদ্ধদেব বসুর নাটক সমূহ::

মালঞ্চ (১৯৪৪),
তপস্বী ও তরঙ্গিণী (১৯৬৬),
কলকাতার ইলেক্ট্রা ও
সত্যসন্ধ (১৯৬৮)

বুদ্ধদেব বসুর অনুবাদ গ্রন্থ সমূহ:

কালিদাসের মেঘদূত (১৯৫৭),
গহীন বালুচর (১৯৫৮),
বোদলেয়ার: তার কবিতা (১৯৭০),
হেল্ডালিনের কবিতা (১৯৬৭),
রাইনের মারিয়া রিলকের কবিতা (১৯৭০)

ভ্রমণ কাহিনী:
সব পেয়েছির দেশে (১৯৪১),
জাপানি জার্নাল (১৯৬২),
দেশান্তর (১৯৬৬),

স্মৃতিকথা:
আমার ছেলেবেলা (১৯৭৩),
আমার যৌবন (১৯৭৬)

সম্মাননা ও পুরষ্কার :

১৯৭০ সালে পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন।
১৯৬৭ সালে তপস্বী ও তরঙ্গিণী কাব্যনাট্যের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৭৪ সালে স্বাগত বিদায় গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন।

প্রস্তুতির জন্য 👇 পরীক্ষাগুলি দিতে পারোঃ👇

১। সাহিত্যের ইতিহাস প্রাচীন ও মধ্যযুগ) MCQ

২। সমাসের MCQ practice SET

৩। সমাসের SAQ practice SET

৪। কারক অ-কারক SAQ Practice SET

৫। শব্দভাণ্ডার MCQ Practice SET

৬। কাব্যসাহিত্যের ইতিহাস (আধুনিক যুগ) MCQ

৭। ধ্বনি ও বর্ণ MCQ practice SET

৮। মঙ্গলকাব্যের ইতিহাস SAQ SET

আরো দেখে রাখতে পারো👇👇👇

বাংলা কাব্যে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত-র অবদান

বাংলা কাব্যে কবি-মাইকেল মধুসূদন দত্তর অবদান

বাংলা কাব্য-সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান

বাংলা কাব্যে কবি মোহিতলাল মজুমদারের অবদান

বাংলা কাব্য-সাহিত্যে কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-র অবদান

বাংলা কাব্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান

গীতিকবিতার ভোরের পাখি কাকে বলে হয় ? বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আলোচনা করো ।

বাংলা কাব্য সাহিত্যে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অবদান

বাংলা কাব্যে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অবদান

বাংলা কাব্যে বিষ্ণু দে-র অবদান আলোচনা

আধুনিক বাংলা কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশের অবদান

গদ্যের বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান

প্রবন্ধ সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান

প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রমথ চৌধুরীর অবদান

প্রবন্ধ সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান

কথা সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান

Leave a Reply