security-malware-firewall domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home4/shekhkdv/public_html/wp-includes/functions.php on line 6131ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য এখানে উচ্চমাধ্যমিক/ একাদশ শ্রেণির বাংলা ক বই PDF ডাউনলোড লিঙ্ক দেওয়া হল। WBCHSE bengali Textbook class 11 PDF download , WBCHSE bengali e-Book class 11 PDF download || WBCHSE বা পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাসংসদ একাদশ শ্রেণির নতুন সিলেবাস ২০২৪ থেকে শুরু হয়েছে। সেখানে 1st Semester class 11 ; class XI এর মূল পাঠ্যবইটির PDF link দেওয়া হল। উচ্চমাধ্যমিক/একাদশ শ্রেণির প্রথম সিমেস্টার এর বাংলা ক বই PDF || সাহিত্যানুশীলন
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
১)’ দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কবির যে স্বদেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে তা আলােচনা করাে ।
উত্তর : কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘ফণীমনসা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কবির পরাধীন ভারত জননীর স্বদেশপ্রেমের অসাধারণ প্রকাশ লক্ষ করা যায় । আলোচ্য কবিতায় কবি মুক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখেছেন এবং তুলে ধরেছেন ইংরেজ-শাসিত ভারতের করুণ রূপটি ।
∆ ব্রিটিশ শাসিত পরাধীনতার দুঃখ কবিকে ব্যথিত করেছে । জন্মভূমির সাথে একাত্ম হয়ে কবি উপলব্ধি করেছেন পরাধীন ভারতমাতার ক্রন্দন ধ্বনি । ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার যে ভরাডুবি দেখা দিয়েছিল, তার জন্যে কবির যে বিলাপ তা এই কবিতায় তীব্র স্বরে বর্ণিত হয়েছে । কবি নজরুল ইসলাম ছিলেন বিপ্লব-সমর্থক বিদ্রোহী কবি । তিনি স্বাধীনতার জন্যে আবেদন-নিবেদন নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না । তিনি নরমপন্থী নীতিতে বিশ্বাসীদের ‘শৌখিন পূজারী’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন । কবির বিশ্বাস ব্রিটিশ সাম্রাজ্য কে ভেঙে ফেলতে সশস্ত্র বিদ্রোহের প্রয়োজন । কিন্তু ব্রিটিশ শাসকরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কারাগারে বন্দী করে অমানবিক নির্যাতন করত । তাই কবি বলেছেন
“সিংহেরে ভয়ে রাখে পিঞ্জরে,
ব্যাঘ্রেরে হানে অগ্নিশেল ।”
এই কবিতায় কবির বীর বিপ্লবীদের প্রতি শ্রদ্ধা, সহানুভূতি ও সমর্থন ছত্রে ছত্রে প্রকাশিত হয়েছে । ব্রিটিশ শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কবি প্রত্যক্ষ করেছেন স্বাধীনতার স্বপ্ন ।
শাঁখ বাজিয়ে কবি স্বাধীনতাকে বরণ করতে বলেছেন । কবির মতে স্বাধীনতা আর দূরাগত স্বপ্ন নয় ‘দ্বীপান্তরের ঘানিতে’ শুরু হয়ে গেছে যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক । যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে দেশের বর্তমান পরাধীনতার বিনাশ হয়ে নতুন যুগের সূচনা হবে বলে কবি মনে করেন।
………………………………………
২) “হায় শৌখিন পূজারি ” –‘শৌখিন পূজারি’ কে ? তাঁকে কেন ‘শৌখিন’ বলা হয়েছে ?
উত্তর : ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্বাধীনতা সংগ্রামী বা শখের দেশপ্রেমিকদের ‘শৌখিন পূজারি’ বলে অভিহিত করেছেন ।
∆ স্বাধীনতা আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছু এমন ব্যক্তি ছিলেন যারা নিজেকে দেশবাসীর কাছে প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে পরিচয় জাহির করে । কিন্তু তারা প্রকৃতপক্ষে ছিল মুখোশধারী নকল দেশপ্রেমিক । কবির ভাষায় এরাই হলেন শখের দেশপ্রেমিক । সকল পূজারী যেমন প্রকৃত বন্দনা করে না, তেমনই সকল দেশপ্রেমিকও দেশের মঙ্গল কামনা করে না । ভগবানের বন্দনার পিছনে যেমন লুকিয়ে থাকে তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধি সাধনার বাসনা, তেমনই দেশের মঙ্গল কামনাও তাদের কাছে লোক দেখানো । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে সেই সব ব্যক্তি যেমন স্বার্থান্বেষী, সুযােগসন্ধানী তেমনই শখের দেশপ্রেমিকরাও তাই । এরা প্রকৃত অর্থে শিকল ভাঙার জন্যে আন্দোলনকারীদের দলে যোগ দিলেও তাদের পথ অনুসরণ করেননি । তাদের মধ্যে সব সময়ই নিজ স্বার্থসিদ্ধির মনোভাব দেখা গেছে । এরা কখনই দেশের ও দশের মঙ্গলের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে এগিয়ে আসত না । কবির মতে আন্দোলনের নামে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠা ও নিজের আখের গোছানোর মানসিকতা সম্পন্ন আন্দোলনকারীদের প্রয়োজন নেই । ব্রিটিশ শাসকের এরূপ অত্যাচারী স্বরূপকে বোঝাতে উক্ত মন্তব্যটি করেছিল । একই সাথে কবি বলতে চেয়েছেন, এই নরম-মনোভাবাপন্ন বিলাসী আন্দোলন কখনই ভারতবর্ষকে তার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা এনে দিতে পারবে না।
………………………………………
৩) “আইন যেখানে ন্যায়ের শাসক, সত্য বলিলে বন্দী হই” – অংশটির মধ্য দিয়ে কবির কোন মনােভাব প্রতিফলিত হয়েছে ?
উত্তর : নজরুল ইসলামের লেখা ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ কবিতাটি ‘ফণীমনসা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত । সমকালীন ঘটনাই যে, সব লেখক-কবির রচনায় বিষয় হবে এমন কোনাে নিয়ম নেই । কারণ
একই ঘটনা সকলকে নাড়া নাও দিতে পারে । তবে জোরপূর্বক কোনাে কবি যদি তাঁর রচনায় সমকালকে তুলে
ধরার চেষ্টা করেন, সে-রচনা শিল্পসম্মত নাও হতে পারে । যেমন কেউ প্রত্যক্ষ দারিদ্র্য উপলব্ধি না করে
কঠিন দারিদ্র্য, বাস্তবকে অনুভব করতে পারে না । তেমনই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি না থাকলে
কবির লেখা ভাব-ভাষা অপরূপ হয়ে উঠতে পারে না ।
∆ নজরুল ইসলাম বাস্তবিক এমন কবি, যিনি সমকালকে তুলে ধরবার জন্য কল্পনালােকে বিচরণ করেননি । ‘দ্বীপান্তরের বন্দিনী’ এইরকমই একটি কবিতা, যা সমকালীন কবির
প্রত্যক্ষ-অভিজ্ঞতার অপরূপ-অদ্ভুত কোলাজ ।
এই কবিতায় কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন, আইন এমন একটি নিয়ম কিংবা সমাজ ও দেশের একধরনের বিধি যা সবসময় মানবসমাজের কল্যাণার্থে রচিত হয় । এই আইনের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত ন্যায় বা ন্যায়ের শাসক, যুক্তি ও
নীতির সুবিচারের কথা ভাবতে হয় । অর্থাৎ আইন কোনােভাবেই পক্ষপাত-দোষে দুষ্ট নয়, তা সবার জন্য সমান । তাই সেক্ষেত্রে কেউ সত্য কথা বললে কোনাে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত নয় । কারণ সত্য কে সর্বদা মানা উচিত । কিন্তু ন্যায়ের শাসক সুবিচার না করে কবিকে বন্দি করে । ব্রিটিশ-শাসকগােষ্ঠীর
নানারকম অত্যাচারের অবসানে স্বাধীনতার স্বপ্ন তাই তাকে বারবার আন্দোলিত করেছে । যুগান্তরের ধর্মরাজের আবির্ভাব কবি যেন মনের চোখ দিয়ে প্রত্যক্ষ করেছেন –
“পদ্মে রেখেছে চরণ-পদ্ম
যুগান্তরের ধর্মরাজ “
আর তাঁকে আহ্বানের জন্যই আকুল হয়ে উঠেছেন । যে দ্বীপান্তর স্বাধীনতার স্বপ্নকেও নির্বাসিত করেছিল, সেখানেই ‘যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক’ । অর্থাৎ কবি দিনবদলের সম্ভাবনা প্রত্যক্ষ করেছেন ।কবির ভাষায়
“দ্বীপান্তরের ঘানিতে লেগেছে
যুগান্তরের ঘূর্ণিপাক।।
…………………………………………


নাট্যসাহিত্যে উৎপল দত্তের অবদান
বাংলা নাটকে অমৃতলাল বসুর অবদান
নাট্যসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান
নাট্যসাহিত্যে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দীনবন্ধু মিত্র-র অবদান
নাট্যসাহিত্যে মধুসূদন দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কবি-মাইকেল মধুসূদন দত্তর অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান
বাংলা কাব্যে কবি মোহিতলাল মজুমদারের অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান
গীতিকবিতার ভোরের পাখি কাকে বলে হয় ? বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আলোচনা করো ।
বাংলা কাব্য সাহিত্যে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে বিষ্ণু দে-র অবদান আলোচনা
আধুনিক বাংলা কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশের অবদান
গদ্যের বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রমথ চৌধুরীর অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান
কথাসাহিত্যে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
উপন্যাস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
বাংলা ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথের অবদান
]]>


নাট্যসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান
নাট্যসাহিত্যে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দীনবন্ধু মিত্র-র অবদান
নাট্যসাহিত্যে মধুসূদন দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কবি-মাইকেল মধুসূদন দত্তর অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান
বাংলা কাব্যে কবি মোহিতলাল মজুমদারের অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান
গীতিকবিতার ভোরের পাখি কাকে বলে হয় ? বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আলোচনা করো ।
বাংলা কাব্য সাহিত্যে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে বিষ্ণু দে-র অবদান আলোচনা
আধুনিক বাংলা কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশের অবদান
গদ্যের বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রমথ চৌধুরীর অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান
কথাসাহিত্যে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
উপন্যাস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
বাংলা ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথের অবদান
]]>
১) “ওরে অবোধ আমার ধারাও নেই ছাড়াও নেই তোরা ছাড়লেই আমার ছাড়া”-এখানে কে কাদের অবোধ বলেছেন? উক্তিটির তাৎপর্য আলোচনা করো।
২) ‘তারা ভয়ঙ্কর সজাগ আছে।’- কাদের ‘ভয়ঙ্কর সজাগ’ থাকার কথা বলা হয়েছে ? তারা এমন ‘ভয়ঙ্কর সজাগ’ কেন ?
৩) “ভূতের রাজত্বে আর কিছু না থাকুক শান্তি থাকে” — মন্তব্যটি ব্যাখ্যা কর।
৪) “এই চোখ বুজে চলাই হচ্ছে জগতের সবচেয়ে আদিম চলা।” কারা একথা মনে করেন? ‘জগতের সবচেয়ে আদিম চলা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
১) ”কে নিরঞ্জন এলি ?”– নিরঞ্জনকে ? কোন উপস্থিতিতে গল্পকথক নিরঞ্জন এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন ?
অথবা
“আম তোমায় কথা দিচ্ছি মাসিমা” – কে , কাকে, কোন পরিস্থিতিতে কথা দিয়েছিল ? শেষ পর্যন্ত সে কথা রাখতে পারে নি কেন ?
২) ”মনে হবে তেলেনাপোতা বলে কোথায় কিছু নেই। ”– কার মনে হবে ? এই মনে হওয়ার কারণ কী ?
৩) তেলেনাপোতা যাওয়ার কারণ কী ? একে লেখক আবিষ্কার বলেছেন কেন ?
৪) ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
১) “এতক্ষণে বোঝে সৌখী ব্যাপারটা “- কোন ব্যাপারের কথা বলা হয়েছে ? সে কীভাবে এই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছিল নিজের ভাষায় লেখ ?
২) ‘ডাকাতের মা’ ছোটগল্প অবলম্বনে সৌখির মায়ের চরিত্র বিশ্লেষণ করো ?
৩)…….. “ছেলের নামে কলঙ্ক এনেছে সে “- কে ছেলের নামে কলঙ্ক এনেছে ? কলঙ্কও শব্দটি ব্যবহারে কারণ কী ?
“ কিন্তু আজ যে অন্য ব্যাপার।
৪) ‘আজ যে ব্যাপার অন্য।’– ‘আজ’ বলতে কোন্ দিনের কথা বলা হয়েছে ? সেদিনের অন্য ব্যাপারটির পরিচয় দাও
১। ‘ বীরাঙ্গনা ’ শব্দের অর্থ নির্দেশ করে মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যের একাদশ সর্গের ‘ জনা ’ চরিত্রটিকে বীরাঙ্গনা বলা যায় কিনা আলােচনা করাে ।
২। ‘ কিন্তু বৃথা এ গঞ্জনা ’ – বক্তা কে ? তিনি কাকে গঞ্জনা দিতে চেয়েছেন ? কেন তার মনে হয়েছে এই গঞ্জনা বৃথা ?
৩। কুন্তী ও দ্রৌপদী সম্পর্কে জনা কী অভিযােগ করেছেন ?
৪। ‘ এ বিষম জ্বালা, দেব , ভুলিব সত্বরে ।’ — বক্তা কে ? তার ‘বিষম’ জ্বালাটি কী ? কীভাবে তিনি এই জ্বালা ভুলতে পারবেন ?
৫। ‘নীলধ্বজের প্রতি জনা’ কবিতায় জনা অর্জুনের কাপুরুষতার কী কী দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন ?
১। “আমি বাঞ্ছা করি দেখব তারি” — বক্তা কাকে দেখতে চান ? কীভাবে তাঁর দর্শন পাওয়া যাবে ?
অথবা
বাড়ির কাছে আরশি নগর’ গানটিতে পড়শির যে স্বরূপ ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় লেখো।
২। “তবু লক্ষ যোজন ফাঁক রে”— কার সঙ্গে এই ব্যবধান ? একত্রে থেকেও এই ব্যবধানের তাৎপর্য কী ?
১। “পুণ্যবেদীর শূন্যে ধ্বনিল / ক্রন্দন – দেড়শত বছর” — কোন্ কবিতার অংশ ? মূল কাব্যগ্রন্থের নাম কী ? ‘পুণ্যবেদী’ শূন্য কেন ? ‘দেড়শত বছর’ বাক্যাংশটি ব্যবহার করা হয়েছে কেন ?
২। ‘ দ্বীপান্তরের ঘানিতে লেগেছে / যুগান্তরের ঘুর্নিপাক।’ – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও ।
৩। ‘জীবন-চুয়ানাে সেই ঘানি হ’তে/আরতির তেল এনেছ কি ?’– রূপকার্থাটি বুঝিয়ে দাও।
৪। ‘ দ্বীপান্তরের বন্দিনী ’ কবিতায় কবির স্বদেশপ্রেম কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা আলােচনা করাে ।
১। কবি জয় গােস্বামী ‘নুন’ কবিতায় সমাজের শ্রমজীবী নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার যে ছবি এঁকেছেন , তা বর্ণনা করাে ।
২। “ আমি তার মাথায় চড়ি ” —কে , কার মাথায় চড়ে ? পঙক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করাে ।
৩। ‘আমাদের দিন চলে যায় সাধারণ ভাত কাপড়ে ।’ – ‘সাধারণ ভাতকাপড়’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে ? এই দিন চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বক্তা কী বােঝাতে চেয়েছেন ?
৪। ‘কিন্তু পুঁতবাে কোথায় ? ফুল কি হবেই তাতে ?’ —উদ্ধৃতির উৎস লেখাে । প্রসঙ্গ উল্লেখসহ উদ্ধৃতির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও ।
গ্যালিলিও
১) “এই স্বভাবই শেষ জীবনে তার অশেষ দুঃখের কারণ হল”- কার কোন স্বভাবের কথা বলা হয়েছে? সেই স্বভাব তার শেষ জীবনের অশেষ দুঃখের কারণ হল কীভাবে ?
২) “নিজের দূরবীন নিয়ে গ্যালিলিও অনেক নতুন আবিষ্কার করলেন” — দূরবীনের সাহায্যে গ্যালিলিও কী কী আবিষ্কার করলেন? সনাতনীরা তার বিরুদ্ধতা করেছিলেন কেন ?
৩) “Venice’- কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের কদর বেড়ে গেল।” কার কদর বাড়ে ? এই কদর বাড়ার কারণ ও পরিণাম উল্লেখ করো।
সুয়েজ খালে হাঙর শিকার
১। “ হে ভারতের শ্রমজীবী । ” — শ্রমজীবী সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দের ধারণা ‘ সুয়েজখালে হাঙ্গর শিকার ’ অবলম্বনে লেখাে ।
২। সুয়েজ বন্দরে জাহাজের অবস্থানের কারণ এবং ওই সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দাও ।
৩। স্বামী বিবেকানন্দের নাম দেওয়া ‘থ্যাবড়া মুখাে’ হাঙর শিকারের বর্ণনা দাও ।
৪। ‘জাহাজের পেছনে বড়াে বড়াে হাঙ্গার ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছে ।’ – লেখক স্বামী বিবেকানন্দের অনুসরণে সুয়েজের জলে হাঙরের ভেসে বেড়ানাের দৃশ্য বর্ণনা করাে ।
১) “ও আজ যেখানে বসছে সেখানে তোমাদের তলোয়ার পৌঁছায় না।”– কার সম্পর্কে , কে এই কথা বলেছেন? এই বক্তব্যের তাৎপর্য কী?
২) “পৃথিবীতে জন্মেছি, পৃথিবীকে সেটা খুব কষে বুঝিয়ে দিয়ে তবে ছাড়ি”– কে কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি করেছে? উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
৩) ‘তাঁর রাগটা কীরকম সেইটা দেখার জন্যেই তো একাজ করেছি !’ – বক্তা কে ? এখানে কার রাগের কথা বলা হয়েছে ? তিনি রেগে গেলে কী হয় ? তাঁর রাগের ধরন দেখার জন্য বক্তা কী করেছিল ?
৪) “উনি গেলে তোমাদের অচলায়তনের পাথরগুলো সুদ্ধ নাচতে আরম্ভ করবে, পুঁথিগুলোর মধ্যে বাঁশি বাজবে”– বক্তা কে ? উনি বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।
৫) কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ‘গুরু ’ নাটক অনুসরণে পঞ্চক চরিত্র আলােচনা করাে ।
৬) “উনি আমাদের সব দলের শতদল পদ্ম”– এখানে কাকে ‘শতদল পদ্ম’ বলা হয়েছে ? কেন তিনি ‘শতদল পদ্ম’ ?
৭) “আমি তার কান্না আমার বুকের মধ্যে করে এনেছি।“- বক্তা কে? কোন প্রসঙ্গে, কাকে উদ্দেশ্য করে বক্তা এ কথা বলেছেন ? এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে ?
৮। “একটু উৎপাত হলে যে বাঁচি“- কে বলেছে ? কোন উৎপাত ? সে কেনো উৎপাত চায় ?
(প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্য )
১) শাক্ত পদ কী ? ওই জাতীয় পদের উদাহরন দিয়ে একজন কবির প্রতিভার পরিচয় দাও।
অথবা
অষ্টাদশ শতাব্দীর যুগ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে রামপ্রসাদ সেনের কাব্যচর্চার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
অথবা
শাক্ত পদ রচনায় কমলাকান্ত অথবা রামপ্রসাদ এর প্রতিভার পরিচয় দাও।
২) চন্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি কে ? তাঁর কাব্য প্রতিভা আলোচনা কর।
৩) বৈষ্ণবপদ রচনায় বিদ্যাপতির প্রতিভার পরিচয় দাও। তাঁকে বাংলা সাহিত্যে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ কী ?
৪) রায় গুণাকর ভারতচন্দ্রের প্রতিভার পরিচয় দাও।
৫) কবে , কার নেতৃত্বে বাংলাদেশে তুর্কি আক্রমণ হয়েছিল ? এর প্রভাব বাংলা সাহিত্যে কীভাবে পড়েছিল ?
৬) বাংলা রামায়ণের আদি কবি কে ? তাঁর প্রতিভার পরিচয় দাও
অথবা
কৃত্তিবাস ওঝা কী রচনা করেন ? তাঁর কাব্যপ্রতিভার পরিচয় দাও।
৭) আরাকান রাজসভার দুজন কবির নাম লিখে যে কোনো কবির প্রতিভার পরিচয় দাও।
অথবা
দৌলত কাজী অথবা সৈয়দ আলাওলের কবি প্রতিভার পরিচয় দাও।
৮। বাংলা উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতিভার পরিচয় দাও।
৯। বাংলা গদ্যের বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা করো।
১০। রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুলির শ্রেণি বিভাগ করে তাঁর কৃতিত্বের পরিচয় দাও।
১১। ‘নীলদৰ্পণ’ নাটকের নাট্যকার কে ? বাংলা নাটকের ইতিহাসে তার অবদান আলোচনা কর।
১২। ‘ধাঁধার’ বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো৷ অন্তত দুটি ধাঁধার উদাহরণ দাও।
১৩। প্রবাদ ও প্রবচন বলতে কী বোঝো ? অন্তত চারটি বাংলা প্রবাদের উদাহরণ দাও।
১৪। লোককথা কাকে বলে? লোককথার যে-কোনো দুটি শাখার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও৷
১) বাংলা লিপির উদ্ভব ও বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।
২) বাংলা ভাষার যুগ বিভাগ করে যে কোনো একটি যুগের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
৩) “ভারতবর্ষ চার ভাষাবংশের দেশ”- উদ্ধৃতি অনুসারে চার ভাষাবংশের পরিচয় দাও।
৪) প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার সময়কাল উল্লেখ করে এই পর্বটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
৫) অস্টিক অথবা দ্রাবিড় ভাষা বংশের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
৬) অবর্গিভূত ভাষা কাকে বলে ? উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি অবর্গিভূত ভাষার উদাহরণ দাও।

https://shekhapora.com/category/class-11



নাট্যসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান
নাট্যসাহিত্যে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দীনবন্ধু মিত্র-র অবদান
নাট্যসাহিত্যে মধুসূদন দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কবি-মাইকেল মধুসূদন দত্তর অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান
বাংলা কাব্যে কবি মোহিতলাল মজুমদারের অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান
গীতিকবিতার ভোরের পাখি কাকে বলে হয় ? বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আলোচনা করো ।
বাংলা কাব্য সাহিত্যে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে বিষ্ণু দে-র অবদান আলোচনা
আধুনিক বাংলা কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশের অবদান
গদ্যের বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রমথ চৌধুরীর অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান
কথাসাহিত্যে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
উপন্যাস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
বাংলা ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথের অবদান
]]>১. বৈষ্ণব পদাবলি বলতে কি বোঝায় ? এর বিষয়বস্তু কী ?
উত্তরঃ রাধাকৃষ্ণের লীলা বিষয়ক পদকেই ‘বৈষ্ণব পদাবলি’ বলে ।
এর বিষয়বস্তু হল রাধাকৃষ্ণের প্রেম।
২। বৈষ্ণব মতে কৃষ্ণ ও রাধিকা কে ? রাধা শব্দটি প্রথম কোথায় ব্যবহৃত হয়েছিল ?
উত্তর:- বৈষ্ণব মতে কৃষ্ণ হলেন পরমাত্মা ও রাধিকা হলেন জীবাত্মা। ‘রাধা’ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দে’।
৩. বৈষ্ণবপদাবলি সাহিত্যকে কটি পর্যায়ে ভাগ করা হয় ? পর্যায়গুলি কী কী ?
উত্তর:- বৈষ্ণবপদাবলি সাহিত্যকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
সেগুলি হল – চৈতন্যপূর্ব, চৈতন্য সমসাময়িক ও চৈতন্যোত্তর।
৪. কোথায় রাধাকৃষ্ণের কাহিনির প্রথম কাব্যরূপ পাওয়া যায় ?
উত্তর:- জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যে প্রথম রাধাকৃষ্ণ কাহিনির কাব্যরূপ পাওয়া যায়।
৫. প্রাকচৈতন্য,চৈতন্য সমসাময়িক ও চৈতন্য পরবর্তী যুগের দুজন করে শ্রেষ্ঠ কবির নাম লিখ।
উত্তর:- প্রাকচৈতন্য যুগের দু’জন শ্রেষ্ঠ কবি – চণ্ডীদাস ও বিদ্যাপতি।
চৈতন্য সমসাময়িকযুগের কবির নাম হলঃ মুরারী গুপ্ত ও নরহরি সরকার এবং
চৈতন্য পরবর্তী যুগের দু’জন শ্রেষ্ঠ দু’জন শ্রেষ্ঠ কবি – জ্ঞানদাস ও গোবিন্দ দাস।
৬. বৈষ্ণবপদাবলি সাহিত্যে পূর্ণ বিকাশ কখন ঘটে ?
উত্তর:- বৈষ্ণবপদাবলি সাহিত্যে পূর্ণ বিকাশ ঘটে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পরে। এই সময় পদাবলিতে যে নতুন বিষয়ের সংযোজন ঘটে সেটি হল, গৌরাঙ্গ বিষয়ক পদ ।
৭. গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের মতে শ্রীচৈতন্য কে ? তাঁর যুগল বিগ্রহের স্বরূপই বা কী ?
উত্তর:- গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের মতে শ্রীচৈতন্য রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহ।
মহাপ্রভুর যুগল বিগ্রহের স্বরূপ হল চৈতন্যদেব অন্তরঙ্গে কৃষ্ণ, বহিরঙ্গে রাধা।
৮. প্ৰাক্চৈতন্য ও চৈতন্য পরবর্তী কবিদের মূল পার্থক্য কী ?
উত্তর:-প্রাকচৈতন্য যুগের কবিরা বৈষ্ণব না হয়েও বৈষ্ণবপদ রচনা করেছেন, কিন্তু চৈতন্য পরবর্তী কবিরা বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়ে বৈষ্ণবপদ রচনা করেছেন ।
৯. সংক্ষেপে গৌরাঙ্গ বিষয়ক পদ ও গৌরচন্দ্রিকার পদ বলতে কী বোঝায় ? এই পর্যায়ের বিশিষ্ট কবির নাম লিখ।
উত্তর:- গৌরাঙ্গের লৌকিক জীবনকে কেন্দ্র করে রচিত যে সমস্ত পদ এককথায় সেগুলিকে গৌরাঙ্গ বিষয়ক পদ বলা হয় । অন্যদিকে গৌরাঙ্গের ভাব জীবনকে কেন্দ্র করে রচিত পদগুলি হল- গৌরচন্দ্রিকার পদ । মনে রাখতে হবে সমস্ত গৌরচন্দ্রিকার পদ গৌরাঙ্গ বিষয়ক পদ হলেও সমস্ত গৌরাঙ্গ বিষয়ক পদ গৌরচন্দ্রিকার পদ নয়।
এই পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কবি হলেন – গোবিন্দ দাস, অন্যান্য বিশিষ্ট কবি হলেন বলরাম দাস,
গোবিন্দ ঘোষ, মাধব ঘোষ, বাসু ঘোষ এবং রাধামোহন ঠাকুর ।
১০. অভিসার কাকে বলে ? এই পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবি কে ? অভিসারের একটি পদের নাম লিখ।
উত্তর:- অভিসরণ বা উভয়মুখী চলা অর্থেই ‘অভিসার’ কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে। নায়িকার
উদ্দেশ্যে নায়কের কিংবা নায়কের উদ্দেশ্যে নায়িকার সংকেত কুঞ্জে মিলনের যে যাত্রা তাকে
অভিসার বলে। এই পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবি গোবিন্দ দাস।
‘কন্টক গাড়ি কমল সম পদতল’ – পদটি হল অভিসার পর্যায়ের।
১১. মান কাকে বলে ?
উত্তর:- নায়ক নায়িকা যেখানে পরস্পরের প্রতি অনুরক্ত এবং কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও যে বিশেষ মানসিক অবস্থায় (নায়িকার মনে সামান্য কারণে ঈর্ষার সঞ্চার হয় সেহেতু নায়কের প্রতি বিরূপ আচরণ) উভয়ের মিলনে বাধা জন্মায় তাই হল মান।
১২. মাথুর কাকে বলে ?
উত্তর:- কৃষ্ণের মথুরা গমনে রাধিকার মনে এবং সমগ্র বৃন্দাবনে যে অন্ধকার সঞ্চারিত হয়েছিল
তাই মাথুর বিরহের পদগুলির বিষয় অর্থাৎ মাথুর শ্রীকৃষ্ণের মথুর প্রবাস বিষয়ের
বিপ্রলম্ভশৃঙ্গারের পদ। মাথুর বিরহেই সৃষ্টির আগুন জ্বালা যন্ত্রণায় বিদ্ধ হয়েছে বিরহিনী
নায়িকার মন।
১৩. দু’জন মুসলমান বৈষ্ণব পদকর্তার নাম লিখ।
উত্তর:- সৈয়দ মুর্তজা এবং নাসির মামুদ হলেন মুসলমান বৈষ্ণব পদকর্তা।
১৪. ‘গৌরচন্দ্রিকা’ শব্দের অর্থ কী ?
উত্তর:- ‘গৌর’ অর্থাৎ গৌরাঙ্গ অথবা চৈতন্যদেব এবং ‘চন্দ্রিকা’ অর্থে ভণিতাকেই বোঝানো হয়।
সামগ্রিকভাবে ‘গৌরচন্দ্রিকা’ অর্থে ‘ভূমিকা’ শব্দটিও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বৈষ্ণবপদাবলিতে গৌরচন্দ্রিকা শব্দের অর্থ — গৌর রূপ চন্দ্রের কিরণ ।
১৫. পূর্বরাগ কাকে বলে ? এর শ্রেষ্ঠ কবি কে ?
উত্তর:-‘’উজ্জ্বল নীলমণি’ গ্রন্থে বলা হয়েছে-
“রতির্যা সঙ্গমাৎ পূর্বং দর্শন শ্রবণাদিজা।
তয়োরুন্মীলতি প্রাজ্ঞৈঃ পূর্বরাগঃ স উচ্যতে।।”
অর্থাৎ মিলনের পূর্বে পরস্পরের দর্শন শ্রবণ ইত্যাদির দ্বারা নায়ক নায়িকার চিত্তে যে অনুরাগ
জন্মে তাকেই পূর্বরাগ বলে। এর শ্রেষ্ঠ কবি চণ্ডিদাস।
১৬. আক্ষেপানুরাগ ও প্রেমবৈচিত্ত কাকে বলে ?
উত্তর:- প্রেমবৈচিত্ত ও আক্ষেপানুরাগ এই দুইয়ের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। তবে উভয়ের উপজীব্য প্রেম । যখন নায়িকার অন্তরে প্রেম জাগ্রত কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা অনুকূল নয় বলে মিলন সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় নায়িকার মনে যে আক্ষেপ তাকেই বলে আক্ষেপানুরাগ। অন্যদিকে প্রেমের গভীরতা হেতু মিলনের মধ্যেও গভীর বিরহ বোধের অন্য নাম প্ৰেম বৈচিত্ত। চণ্ডীদাস লেখেন – “দুহু ক্রোড়ে দুহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া”।
প্রশ্নঃ পদকর্তা বিদ্যাপতির পরিচয় দিয়ে তাঁর অবদান সম্পর্কে লিখ।
উত্তরঃ জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ প্রাকচৈতন্য যুগের বৈষ্ণব পদপকর্তা বিদ্যাপতি ঠাকুর চতুর্দশ শতকের শেষভাগে আনুমানিক ১৩৮০ খ্রিস্টাব্দে বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলায় (বর্তমানে মধুবনী মহকুমার অন্তর্গত) বিসফি গ্রামে এক বিদ্বান ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কুলগ্রন্থের মতানুসারে বিদ্যাপতির পিতা গণপতি বলে উল্লেখ করা হলেও, বিদ্যাপতির নিজের কোন লেখায় বা কোন প্রামাণিক সূত্র থেকে এর সমর্থন মেলে নি। বিদ্যাপতির কুলপদবী ‘ঠক্কুর’। তিনি ছিলেন পঞ্চোপাসক (অর্থাৎ শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণব, সৌর ও গাণপত্য) হলেও হর-গৌরীর প্রতি তাঁর ভক্তি ছিল অকৃত্রিম। বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় পদ রচনা করেন।
মিথিলার কবি হওয়া সত্ত্বেও বাংলায় জনপ্রিয়তার কারণঃ প্রাক্-চৈতন্যযুগের কবি বিদ্যাপতি অবাঙালি হয়েও বাংলা সাহিত্যে অক্ষয় আসন লাভ করেন। মিথিলা তখন ন্যায়ের প্রধান পাঠকেন্দ্র। বাঙালি ছাত্ররা সেখানে ন্যায় অধ্যয়ন করতে গিয়ে বিদ্যাপতির পদাবলি দ্বারা এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, স্বদেশে বাংলায় ফিরে আসার পর তাদের মুখে মুখেই বিদ্যাপতির গানগুলি ছড়িয়ে পড়ে। স্বয়ং চৈতন্যদেব নাকি তাঁর পদ আশ্বাদন করতেন। এর ফলেই একসময় বিদ্যাপতির পদগুলি বাঙলায় স্থায়ী আসন লাভ করে এবং বিদ্যাপতিও ক্রমে বাংলার কবি হয়ে ওঠেন। এ প্রসঙ্গে খগেন্দ্রনাথ মিত্র বলেন, “বিদ্যাপতি যে মৈথিল লোকে তাহা একরূপ ভুলিয়াই গেল। বিদ্যাপতি অনেকের কাছে বাঙালি হইয়া দাঁড়াইলেন।” এভাবেই ‘মৈথিল কবি’ ক্রমে ‘অভিনব জয়দেব’ শিরোপায় অভিষিক্ত হয়ে ওঠেন। বিদ্যাপতি মিথিলা রাজ পরিবারের বংশানুক্রমিক পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন এবং বিভিন্ন গ্রন্থও রচনা করেন।
বিদ্যাপতি রচিত গ্রন্থগুলি সেগুলি হল –
পৃষ্ঠপোষক/ গ্রন্থ / রচনাকাল ক্রমান্বয়ে দেখানো হলঃ
| পৃষ্ঠপোষক | গ্রন্থ | রচনাকাল | |
| ১ | দেবসিংহ | ভূপরিক্রমা | ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ। |
| ২ | কীৰ্তিসিংহ | কীর্তিলতা | ১৪০২-১৪০৪ খ্রিষ্টাব্দ । |
| ৩ | শিবসিংহ | পুরুষ পরীক্ষা ও কীর্তিপতাকা | ১৪১০ খ্রিষ্টাব্দ । |
| ৪ | পদ্মসিংহ ও বিশ্বাস দেবী | শৈবসর্বস্বহার ও গঙ্গাবাক্যাবলি | ১৪৩০-৪০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। |
| ৫ | নরসিংহ ও ধীরমতী | বিভাগসার ও দানবাক্যাবলি | ১৪৪০-৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। |
| ৬ | পুরাদিত্য | লিখনাবলি | ১৪১৮ খ্রিষ্টাব্দ |
| ৭ | ভৈরব সিংহ | দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী | ১৪৪০-৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। |
বিদ্যাপতির শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক পদে। বিশেষ করে ‘মাথুর’ ও ‘অভিসার’-এ। তাঁর অভিনবত্ব আছে প্রার্থনা বিষয়ক পদে। এছাড়াও বিদ্যাপতি কিছু হর-পার্বতী বিষয়ক পদ (যা মহেশবাণী নামে পরিচিত) ও আরও নানা বিষয়ে পদ লিখেছেন। কিন্তু তিনি যে শৈব এ ভাবনাটিই উক্তপদে বেশিমাত্রা প্রকটিত।
বিদ্যাপতির পদগুলির মধ্যে রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলির সংখ্যা পাঁচশোরও বেশি। সংস্কৃত অলঙ্কার শাস্ত্র মেনেই বিদ্যাপতি রাধা-কৃষ্ণের লীলা পর্যায় অঙ্কন করেন। প্রখর বাস্তববোধের অধিকারী বিদ্যাপতির রাধা বয়ঃসন্ধিতে যেমন মধুর, তেমনি ভরা ভাদ্রে বর্ষা-বিরহে বেদনাদীর্ণ। যেমন-
” এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর।।”
বিদ্যাপতি, ভক্তি ও আদিরসকে প্রাধান্য দিয়ে শৃঙ্গার রসকে উচ্চতর মহিমায় মহিমান্বিত করেছে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় যা ‘বড়ো শক্ত বুঝা, যারে বলে ভালোবাসা, তারে বলে পূজা।’ তাই বিদ্যাপতির ‘প্রার্থনা’ বিষয়ক পদগুলিও একইসঙ্গে অনবদ্য হয়ে উঠেছে। কবি আত্মার অভিব্যক্তি সরাসরি ঘটেছে যা আধুনিক গীতিকবিতার ধর্মকে সুন্দরভাবে প্রকাশ ঘটেছে। যেমন –
“মাধব, বহুত মিনতি করি তোয়
দেই তুলসী তিল
দয়া জনু ছোড়বি মোয়।।”
কবি বিদ্যাপতির এই আর্ত আবেদন যেন বাঙালি ভক্ত হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত – সেই জন্যই বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও বাঙালির হৃদয়ে অক্ষয় আসন লাভ করেছেন। আর তাই বিদ্যাপতির পদে মোহিত হতেন স্বয়ং চৈতন্যদেবও। যার স্পষ্ট স্বীকৃতি রয়েছে ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থে–
১। “বিদ্যাপতি জয়দেব চণ্ডীদাসের গীত।
আস্বাদয়ে রামানন্দ স্বরূপ সহিত।।”
২। “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস শ্রীগীতগোবিন্দ।
এই তিন গীতে করায় প্রভুর আনন্দ।।”
‘মৈথিল কোকিল’, ‘অভিনব জয়দেব’, দীর্ঘায়ু কবি (সম্ভবতঃ ৮০ বছর) বিদ্যাপতি ঠাকুর পঞ্চদশ শতকের মধ্যভাগে তথা আনুমানিক ১৪৬০ খ্রিস্টাব্দে পরলোকগমন করেন।
বিদ্যাপতির বিখ্যাত কিছু পদ ও সেগুলির রসপর্যায়
(১) হাথক দরপণ মাথক ফুল (পূর্বরাগ)
(২) তাতল সৈকত বারিবিন্দু সম (প্রার্থনা)
(৩) এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর (মাথুর)
(৪) সখি হে আজ জায়ব মোয়ী (অভিসার)
(৫) অব মথুরাপুর মাধব গেল (মাথুর)
(৬) মাধব বহুত মিনতি করি তোয় (প্রার্থনা)
(৭) পিয়া যব আয়ব এ মঝু গেহে (ভাবোল্লাস)
(৮) কি কহব রে সখি আনন্দ ওর (ভাবোল্লাস)
(৯) অঙ্কুর তপন তাপে যদি জারব (মাথুর)
(১০) আজু রজনী হাম ভাগে পোহায়লু (ভাবোল্লাস)
১) বিদ্যাপতি মোট কত জন রাজার পৃষ্ঠপোষকতা পান ?
উঃ ৬ জন রাজা ও এক জন রানীর। মোট ৭ জনের।
২) কার অনুরোধে বিদ্যাপতি কাব্যচর্চা শুরু করেন ?
উঃ দেবসিংহ।
৩) বিদ্যাপতি কোন কোন ভাষায় কাব্য রচনা করেন ?
উঃ তিনটি ভাষায়। সংস্কৃত, অবহট্ট ও মৈথিলি ।
৪) বিদ্যাপতি তার অধিকাংশ পদাবলী কোন রাজার রাজ সভায় থাকাকালীন রচনা করেন ?
উঃ শিবসিংহ।
৫) বিদ্যাপতির আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ কোনটি ?
উঃ বিভাগসার।
৬) বিদ্যাপতির কোন সংস্কৃত গ্রন্থের প্রভাব আজও বর্তমান ?
উঃ দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী।
৭) ‘বিদ্যাপতিগোষ্ঠী’ এই বইটি কার লেখা ?
উঃ সুকুমার সেন।
৮) ব্রজবুলি ভাষা কী ?
উঃ মৈথিলি ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে গড়ে ওঠা এক শ্রুতিমধুর কৃত্রিম ভাষা হল ব্রজবুলি।
৯) বিদ্যাপতির লেখা ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি ?
উঃ কীর্তিলতা’ ও’ কীর্তিপতাকা’ (অবহট্ট ভাষায় রচনা )।
১০) তিনি কোন গ্রন্থে নিজেকে ‘খেলন কবি’ বলেছেন ?
উঃ ‘কীর্তিলতা’ তে।
১১) বিদ্যাপতিকে ‘অভিনব জয়দেব’ কে আখ্যা দেন ?
উঃ শিব সিংহ।
১২) বিদ্যাপতিকে ‘মৈথিল কোকিল’ আখ্যায়িত করেন কে ?
উঃ রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়।
১৩)“বিদ্যাপতি ভক্ত নহেন, কবি- গোবিন্দদাস যতবড় কবি, ততোধিক ভক্ত” – মন্তব্যটি কার ?
উঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৪) বিদ্যাপতি কে ‘ পঞ্চোপাসক হিন্দু’ বলে কে প্রচার করেন ?
উঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
১৫) বিদ্যাপতি রচিত প্রথম গ্রন্থ কী ?
উঃ ভূপরিক্রমা।
১৬) বিদ্যাপতি বাঙালী নন একথা কে প্রমাণ বলেন ?
উঃ রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়।
১৭) বিদ্যাপতির পদ প্রথম কে সংগ্রহ করেন ?
উঃ জর্জ গ্রিয়ার্সন।
১৮) বিদ্যাপতির পদের সংখ্যা কত ?
উঃ প্রায় ৯০০ টির মত।
১৯) ‘মহাজন পদাবলী’ পদসংকলনটি কার ?কে কবে প্রকাশ করেন ?
উঃ বিদ্যাপতির রচনা । জগবন্ধু ভদ্র ১৮৭৪ খ্রি: প্রকাশ করেন।
২০। বিদ্যাপতির ভাষাকে বিকৃত-মৈথিলী কে বলেন ?
উঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
প্রশ্নঃ পদকর্তা চণ্ডীদাসের পরিচয় দিয়ে তাঁর অবদান সম্পর্কে লিখ।
উত্তরঃ বৈষ্ণব পদকর্তা চণ্ডীদাসের পরিচয় দিয়ে তাঁর অবদান সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ
প্রাকচৈতন্য যুগের বৈষ্ণব বাঙালি পদকর্তা হলেন চণ্ডীদাস। কৃষ্ণদাস কবিরাজ ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থে চৈতন্যদেবের বিদ্যাপতি, জয়দেব ও চণ্ডীদাসের গীত আস্বাদনের কথা নির্দেশ করেছেন–
“বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস শ্রীগীতগোবিন্দ।
এই তিন গীতে করায় প্রভুর আনন্দ।।”
সুতরাং এই চণ্ডীদাস যে চৈতন্যপূর্বর্তী এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। অনুমান করা হয় তাঁর জন্ম বীরভূমের নানুরে (মতান্তরে ছাতনা গ্রামে) আনুমানিক ১৪১৭ খ্রিস্টাব্দে। চণ্ডীদাস রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার পূর্বরাগ, অভিসার, আক্ষেপানুরাগ, মান, বিরহ, ভাবোল্লাস প্রভৃতি পর্যায়ের পদ রচনা করেন, তবে পূর্বরাগের পদেই তাঁর সমধিক কৃতিত্ব। ‘রাধার কি হৈল অন্তরে ব্যথা’- শীর্ষক পদটিতে কৃষ্ণপ্রেমে ব্যাকুল রাধার পরিবার পরিজনের ভীতি ও লোকনিন্দার ঊর্ধ্বে উত্তীর্ণ হয়ে সাধিকা যোগিনীতে পরিণত হন। মরমিয়া কবি চণ্ডিদাসের ভক্ত ও প্রেমিক হৃদয়ের মর্মস্থল নিংড়ানো ভালোবাসার রঙে আঁকা সেই রাধা –
‘’বসিয়া বরলে থাকয়ে একলে
না শুনে কাহারো কথা।।
সদাই ধেয়ানে চাহে মেঘ পানে
না চলে নয়ানতারা।
বিরতি আহারে রাঙ্গাবাস পরে
যেমত যোগিনী পারা।”
চণ্ডীদাসের রাধা পূর্বরাগের পদেই পূর্ণযৌবনা।
‘এলাইয়া বেণী/ ফুলের গাঁথনি / দেখয়ে খসায়ে চুলি।’ অবেণীবদ্ধ আকুল কৃষ্ণকেশের উপস্থিতিতে চণ্ডিদাস শেষপর্যন্ত রাধাকে সন্ন্যাসের ধূসর পটভূমি থেকে যৌবনের বর্ণাঢ্য রাজ্যে নিয়ে আসেন। কিন্তু, সেখানে তার ভাবনা ইন্দ্রিয়বোধে পর্যবসিত হয় না। রাধার ইন্দ্রিয়বোধ গভীরতম প্রেমপ্রত্যয়ের মধ্যে আত্মহারা হয়। কবি তাই বলেন —
“এ ছার রসনা মোর হইল কি বামরে।
যার নাম নাহি লই লয় তার নাম রে।।”
রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শের জগৎ তাকে আকৃষ্ট করেনি, একটি বিশুদ্ধ সৌন্দর্য ও অনন্ত প্রেমের কুহেলি আচ্ছন্ন রেখাহীন চেতনা তাকে গ্রাস করেছে। তাই কৃষ্ণ শুধু রূপ নয়, কেবল নাম। তাই রাধা কৃষ্ণ নাম শুনেই জপ করে, জপ করতে করতে আপনাকে হারিয়ে ফেলে, আপন কল্পনার মাধুর্যে বলে ওঠে –
“সই কেবা শুনাইল শ্যামনাম
কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিল গো
আকুল করিল মোর প্রাণ।”
চণ্ডীদাসের পূর্বরাগের পদে রাধিকার নিবিড় আকুতি আছে, আক্ষেপানুরাগের পদে তেমনি আছে অশ্রু-সজল অভিযোগ। ‘কি মোহিনী জান বঁধু’ পদটিতে অবলা নারীর চিত্তহরণ করে তাকে অবহেলা করায় তীব্র অভিমান জেগে উঠেছে। স্রোতের শ্যাওলার মতো অবলম্বনহীন জীবনে রাধা মৃত্যুবরণের সংকল্প করে। চণ্ডীদাস রাধার প্রতি তাই সহানুভূতি দেখিয়ে ভণিতায় বলেন-
‘’সুখের লাগিয়া যে করে পিরিতি
দুখ যায় তার ঠাঞি।”
শুধু সুখের জন্য প্রেম করলেও দুঃখ সঙ্গে সঙ্গে আসবেই। চণ্ডিদাস রাধার প্রতি সহানুভূতি জানাতে গিয়ে জীবনের এই করুণ অথচ অমোঘ সত্যকে প্রকাশ করেন। অভিসারের পদ চণ্ডীদাস খুব বেশি লেখেননি। অভিসারের শ্রেষ্ঠ কবি বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস নন। তবে অভিসারের পদে চণ্ডীদাসের বিশেষত্ব হল এই যে, তাঁর রাধিকা অভিসার করেননি, প্রেমাস্পদ কৃষ্ণকে দিয়ে অভিসার করিয়েছেন। চণ্ডীদাসের রাধা বড় বেশি শঙ্কাতুরা, ভীরু। সতর্ক শাশুড়ী ননদীর দৃষ্টি এড়িয়ে অভিসারে বেরিয়ে পড়ার সাহস তার নেই। ‘এ ঘোর রজনী মেঘের ঘটা’ শীর্ষক পদটিতে কৃষ্ণ রাধার নির্দেশে বর্ষণমুখর রাত্রিতে তার কুঞ্জের আঙিনায় এসে ভিজছেন কিন্তু গৃহ-গণ্ডীটুকু অতিক্রম করার অক্ষমতায় করুণ বেদনা ও
প্রেমিকের প্রেম গভীরতার জন্য প্রচ্ছন্ন গৌরববোধ এবং আনন্দ বেদনার বিচিত্র মধুর সংমিশ্রণে অভিসারের পদটি ভিন্নতর স্বাদুতায় লাবণ্যময় হয়ে উঠেছে।
নিবেদন পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবি চণ্ডীদাস। তাঁর মতো এমন পবিত্র আত্মনিবেদন বৈষ্ণবসাহিত্যে আর নেই–
“বঁধু কি আর বলিব আমি
জীবনে মরণে জনমে জনমে
প্ৰাণনাথ হৈও তুমি।।”
অলঙ্করণের চেষ্টা নেই বলেই, আবেদন এমন আন্তরিকতার সুরে বেজে উঠেছে।
চণ্ডীদাসের পদাবলিতে আদ্যন্তই বিরহের বিষণ্ণতা। বিদ্যাপতির মতো তাঁর পদে মিলনের ফেনিলোচ্ছল যৌবনের মাদকতা নেই। মিলনের মধুর লগ্নে চণ্ডীদাসের রাধা প্রেমাস্পদকে কাছে পেয়েও পেয়ে হারানোর বেদনায় বিধুর – ‘দুহুঁ কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।’ চণ্ডীদাস তাঁর পদাবলিতে বিরহের যে করুণ রাগিণী বাজিয়েছেন, ভাবোল্লাসে তার প্রকাশ নেই। চণ্ডীদাস ভাবতন্ময় কবি। চিরন্তন সৌন্দর্য,প্রেমকামনা ও বিরহের সুতীব্র সুগভীর আর্তি চণ্ডীদাসের কবিতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাই চণ্ডীদাসের পদ বাংলা সাহিত্যের পাঠকের কাছে আন্তরিকতার অমূল্য রত্নের আকর হয়েই থেকে যাবে – এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।
চণ্ডীদাসের কিছু পদ ও তার পর্যায়ঃ
(১) রাধার কি হইল অন্তরে ব্যথা (পূর্বরাগ)
(২) সই কেবা শুনাইল শ্যামনাম (পূর্বরাগ)
(৩) বঁধু কি আর বলিব আমি (নিবেদন)
(৪) ঘরের বাহিরে দণ্ডে শতবার (পূর্বরাগ)
(৫) এমন পীড়িতি কভূ নাহি দেখি শুনি (পূর্বরাগ)
(৬) কাহারে কহিব মনের মরম (পূর্বরাগ)
(৭) এ ঘোর রজনী মেঘের ঘটা (অভিসার)
(৮) বঁধু, কি আর বলিব তোরে (আক্ষেপানুরাগ)
(৯) কাল জল ঢালিতে সই কালা পড়ে মনে (আক্ষেপানুরাগ)
(১০) কি মোহিনী জান বঁধু (আক্ষেপানুরাগ)
১. চণ্ডীদাসের জন্ম কোথায় ? তাঁর ইষ্ট দেবতা কে ?
উত্তরঃ চণ্ডীদাসের জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে। অনেকের মতে বীরভূমের নান্নুর গ্রাম আবার কেউ বলেন বাঁকুড়ার ছাতনা গ্রামে চণ্ডীদাসের জন্ম।
চণ্ডীদাসের ইষ্ট দেবতা বাসুলী দেবী।
২. বৈষ্ণব পদাবলির কোন্ পর্যায়ে চণ্ডীদাস শ্রেষ্ঠ ? তাঁর ভাবশিষ্য কে ?
উত্তরঃ বৈষ্ণব পদাবলির পূর্বরাগ পর্যায়ে চণ্ডীদাস শ্রেষ্ঠ।
জ্ঞানদাসকে চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য বলা হয়।
৩. চণ্ডীদাসের রাধার বৈশিষ্ট্য কেমন ?
উত্তরঃ এই রাধা মানবী নন, যেন এক অপার্থিব দেবী প্রতিমা, যিনি কৃষ্ণপ্রেমের ঘনীভূত নির্যাস। যৌবনের প্রথম প্রহরেও ধ্যানস্তব্ধ যোগিনী মূর্তিতে শাশ্বত। তিনি “যেমত যোগিনী পারা।”
৪. চণ্ডীদাসের তিনটি উল্লেখযোগ্য পদের নাম লিখ।
উত্তরঃ চন্ডীদাসের তিনটি উল্লেখযোগ্য পদ হল –
ক) সখী কে বা শুনাইল শ্যাম নাম (পূর্বরাগ)
খ) কাল জল ঢালিতে সই কালা পড়ে মনে (আক্ষেপানুরাগ)
গ) বঁধু কি আর বলিব আমি (নিবেদন)
৫. ‘চণ্ডীদাস সহজভাষার কবি’ ও ‘চণ্ডীদাস দুঃখের কবি’ – কে এই উক্তি করেছিলেন ?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসের পদাবলি আলোচনা করতে গিয়ে একথা বলেছিলেন।
৬. ‘সায়াহ্ন সমীরণের দীর্ঘশ্বাস’ – কার সম্পর্কে, কে এই কথা বলেছেন ?
উত্তরঃ চণ্ডীদাস সম্পর্কে, বঙ্কিমচন্দ্র একথা বলেছিলেন।
৭. চণ্ডীদাস ও বিদ্যাপতির পদের পার্থক্য সংক্ষেপে লিখ ।
উত্তরঃ বিদ্যাপতি রাজসভার কবি, তাঁর রচনায় বাগবৈদগ্ধ্য, মন্ডন কলা, নাগরিক জীবনের
চাকচিক্য, ভাষার ঐশ্বর্য, অলংকারের মাধুর্য ও বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে। অন্য দিকে চণ্ডীদাস
বাসুলীর দীন সেবক। তাঁর কবি ধর্ম সহজ ও সরল ভাবের। অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের
ভাষায় – ‘নিরাভরণ বৈরাগ্যের গৈরিক শ্রী-ই তাঁর কাব্যের মূল আকর্ষণ’ ।
প্রশ্নঃ পদকর্তা গোবিন্দদাসের পরিচয় দিয়ে তাঁর অবদান সম্পর্কে লিখ।
উত্তরঃ গোবিন্দদাস কবিরাজের জন্ম ১৫২৫ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি বর্ধমান জেলার অন্তর্গত কুমার নগরে। কিন্তু অল্পবয়সে পিতার মৃত্যুর কারণে তাঁর প্রথম জীবন কাটে ‘শ্রীখণ্ডে’ অবস্থিত সেকালের বিখ্যাত সঙ্গীতশাস্ত্রী ও শাক্ত মতবাদে বিশ্বাসী মাতামহ দামোদর সেন-এর গৃহে। যদিও শেষ জীবনে গোবিন্দদাস বাস করেন বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত ভগবানগোলার নিকটবর্তী তেলিয়া বুধুরী গ্রামের পশ্চিম পাড়াতে। তাঁর পিতা ছিলেন চৈতন্যভক্ত চিরঞ্জীব সেন এবং মাতা সুনন্দা। অগ্রজ রামচন্দ্র কবিরাজ। গোবিন্দদাস চৈতন্যভক্ত পিতার জীবৎকালেই বাল্যবয়সে নিত্যানন্দের কাছে দীক্ষা নেন এবং পরিণত বয়সে (চল্লিশ বছর) শ্রীনিবাস আচার্যের কাছে পুনরায় দীক্ষা নিয়েছিলেন। গোবিন্দদাসের পুত্র দিব্যসিংহ বৈষ্ণবসাহিত্যে সুপরিচিত। বৃন্দাবনের প্রসিদ্ধ ভক্ত পণ্ডিত জীবগোস্বামী তাঁকে বন্ধু বলে ভাবতেন বলে, গোবিন্দদাস কোন নূতনপদ লিখলে বৃন্দাবনে বন্ধু জীবগোস্বামীর কাছে তা পাঠিয়ে দিতেন।
গোবিন্দদাস সংস্কৃত সাহিত্যে সুপণ্ডিত হওয়ায় সংস্কৃতে ‘সংগীতমাধব’ নাটকখানি রচনা করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গোবিন্দদাস শ্রীনিবাসের কাছে পদ রচনার অনুমতি চাইলে, তিনি তাঁকে রূপগোস্বামীর ‘ভক্তিরসামৃতসিন্ধু’ ও ‘উজ্জ্বলনীলমণি‘ পাঠ করার পরামর্শ দেন। তিনি তা পাঠ করে বৈষ্ণবপদাবলি রচনায় নিযুক্ত হন। ফলে তাঁর পদাবলী বৈষ্ণব তত্ত্বের রসভাষ্য হয়ে উঠেছে। নানা সংকলন গ্রন্থকে সংগ্রহ করে ড. বিমানবিহারী মজুমদার মহাশয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে তাঁর ৮০০টির মত পদ প্রকাশ করেন। যদিও হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়-এর সংকলন গ্রন্থে তাঁর লেখা ২৯৭টি পদ আছে। খেতুরী বৈষ্ণব সম্মেলনে তাঁর পদ কীর্তনের আসরে গাওয়া হয়। চৈতন্যদেবকে অবলম্বন করে তাঁর অনেক ‘গৌরচন্দ্রিকা’র পদ এখনও কীর্ত্তনীয়াদের একমাত্র অবলম্বন। তাঁর ‘গৌরাঙ্গ বিষয়ক’ পদগুলি শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করে। নিজের কল্পনা এবং ভক্ত হৃদয়ের আকুতি মিশিয়ে শ্রীগৌরাঙ্গের ভাবতন্ময় দিব্যমূর্তি অঙ্কন করেন – ‘নীরদ নয়নে নীরঘনসিঞ্চনে’ পদটিতে । আবার অভিসার পর্যায়েও গোবিন্দদাস শ্রেষ্ঠ কবি। বর্ষার মত্তবাদলের চিত্র –
“মন্দির বাহির কঠিন কপাট
চলইতে শঙ্কিল পঙ্কিল বাট।
পৌখলি রজনি পবন বহ মন্দ
চৌদিশে হিম হিমকর কর বন্ধ।’’
এমনকি দুর্যোগের রাত্রিকে অতিক্রম করে তার অভিসার–
‘’কন্টক গাড়ী কমল-সম পদতল
মঞ্জীর চীরহি ঝাঁপি
গাগরি-বারি ঢারি করি পিছল
চলতহি অঙ্গুলি চাপি।”
আবার কোথাও কোথাও প্রকৃতির সৌন্দর্য যেন তনুতে তরঙ্গিত। যেমন –
“যাঁহা যাঁহা নিকসয়ে তনু তনু-জ্যোতি।
তাঁহা তাঁহা বিজুরি চমকময় হোতি।।”
রূপানুরাগ পর্যায়ের এ জাতীয় পদে গোবিন্দদাসের সৌন্দর্যসৃষ্টি আমাদের আবিষ্ট করে। গোবিন্দদাসের কবিতার ভাষা ‘ব্রজবুলি’ । বিদ্যাপতির কাব্যরীতিকে তিনি অনেকাংশে গ্রহণ করেছিলেন বলে তাকে ‘দ্বিতীয় বিদ্যাপতি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
গোবিন্দদাসের কিছু পদ ও তার পর্যায় :
(১) যাঁহা পহু অরুণ চরণে জাত (মাথুর)
(২) যাঁহা যাঁহা নিকষয়ে তনু তনু জ্যোতি (পূর্বরাগ)
(৩) কুল মরিয়াদ কপাট উদ্ঘাটলু (অভিসার)
(৪) রূপে ভরল দিঠি সোঙ্গারি পরশ বিঠি (পূর্বরাগ)
(৫) মন্দির বাহির কঠিন কপাট (অভিসার)
(৬) আধক আধ আধ দিঠি অঞ্চলে (পূর্বরাগ)
(৭) কণ্টক গাড়ি কমলসম পদতল (অভিসার)
১। পদকর্তা গোবিন্দদাস কবে কোথায় জন্মগ্রহণ করেন ?
উত্তরঃ বর্ধমানের কাটোয়ার নিকটবর্তী শ্রীখণ্ডে আনুমানিক ১৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে কবি গোবিন্দদাস জন্ম গ্রহণ করেন।
২। পদকর্তা গোবিন্দদাসকে কে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন ?
উত্তরঃ বৃন্দাবনের গোস্বামী শ্রীজীব গোস্বামী(মতান্তরে শ্রীনিবাস আচার্য্য) পদকর্তা গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দিয়েছিলেন। ‘দাস’ উপাধি তিনি নিজে ব্যবহার করেছিলেন।
৩। পদকর্তা গোবিন্দদাসের কবি প্রতিভার বৈশিষ্ট্য কী ?
উত্তরঃ বৈষ্ণবসাহিত্যে ভাস্বর প্রতিভা গোবিন্দদাসের। পূর্ববর্তী কবিদের মতো রাধাকৃষ্ণ লীলা
বিষয়ক পদ রচনা করলেও অলঙ্কার ব্যবহারে, মণ্ডনকলা নৈপূণ্যে, অপূর্ব ছন্দ ঝংকারে
এবং শব্দ ব্যবহারের সীমিত কুশলতায় গোবিন্দদাস বিদ্যাপতির সার্থক উত্তরসূরি। একদিকে
গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনে সুপরিপক্ক জ্ঞান এবং অন্যদিকে ভক্তির মার্জিত দ্যুতিতে তাঁর পদাবলি
কঠিন সুসংবদ্ধ ক্লাসিক সৌন্দর্যে ভরপুর।
৪। কাকে, কেন ‘দ্বিতীয় বিদ্যাপতি’ বলা হয় ? কার কোন পদে এ কথা পাওয়া যায় ?
উত্তরঃ বৈষ্ণব পদকর্তা গোবিন্দ দাসকে “দ্বিতীয় বিদ্যাপতি” বলা হয়।
দ্বিতীয় বিদ্যাপতি বলার কারণ :
i) বিদ্যাপতির রচিত পদের মতো ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেন গোবিন্দ দাস।
ii) ভাষার ঐশ্বর্য, ছন্দ-অলঙ্কার ও শিল্প বোধের জন্য বিদ্যাপতির সঙ্গে তুলনীয়।
iii) বিদ্যাপতির অসম্পূর্ণ পদ সম্পূর্ণ করেন, যেখানে দু’জনের মধ্যে কোনো ভাবান্তর পাওয়া যায় না।
কার পদে এ কথা পাওয়া যায়ঃ পরবর্তী বৈষ্ণব পদকর্তাগণ তাঁকে “দ্বিতীয় বিদ্যাপতি” বলে সম্মানিত করেন। যেমন দেখা যায় বল্লভদাসের পদটিতে —
“ব্রজের মধুরলীলা যা শুনি দরবে শিলা
গাইলেন কবি বিদ্যাপতি।
তাহা হইতে নহে ন্যূন গোবিন্দেরকবিত্ব গুণ
গোবিন্দ দ্বিতীয় বিদ্যাপতি।।”
৫। অভিসার ছাড়া আর কোন্ পর্যায়ে গোবিন্দদাস কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। সে পর্যায়ের
একটি পদের নাম লিখ।
অভিসার ছাড়া ‘গৌরাঙ্গবিষয়ক’ পদরচনাতেও গোবিন্দদাস অসামান্য কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
এই পর্যায়ের একটি বিখ্যাত পদ হল —
‘নীরদ নয়নে নীরঘন সিঞ্চনে’।
৬। গোবিন্দ দাসের চারটি বিখ্যাত পদের নাম ও সেগুলি কোন্ পর্যায়ের পদ লিখ।
গোবিন্দদাসের চারটি বিখ্যাত পদের নাম হল-
(১) ‘কন্টক গাড়ি কমল-সম পদ তল’ – অভিসার (ব্রজবুলি ভাষার দৃষ্টান্ত)
(২) ‘চম্পক শোন – কুসুম কনকাচল’ — (গৌরচন্দ্রিকা)
(৩) ‘মন্দির বাহির কঠিন কপাট’ – (অভিসার)
(৪) ‘রূপে ভরল দিঠি / সোঙরি পরশ মিঠি।’ —(রূপানুরাগ)
প্রশ্নঃ পদকর্তা জ্ঞানদাস পরিচয় দিয়ে তাঁর অবদান সম্পর্কে লিখ।
উত্তরঃ চৈতন্য পরবর্তী পদাবলি সাহিত্যে, আনুমানিক ষোড়শ শতাব্দীর তৃতীয়-চতুর্থ দশকে জ্ঞানদাসের আবির্ভাব। কাটোয়ার দশমাইল পশ্চিমে কাঁদড়া গ্রামে ব্রাহ্মণ বংশে তাঁর জন্ম হয়। নিত্যানন্দের শিষ্যদের মধ্যে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য।নিত্যানন্দের কনিষ্ঠা পত্নী জাহ্নবী দেবীর মন্ত্রশিষ্য। জ্ঞানদাসের বিপুল পদসম্ভার বৈষ্ণবপদসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। জ্ঞানদাসের ভণিতায় ১৮৬টি পদ ‘পদকল্পতরু’তে এবং ৩১১টি পদ ‘বৈষ্ণব পদাবলি’তে স্থান পেয়েছে। আবার ‘বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানদাসের ভণিতাযুক্ত চারশো পদের কথা বলেছেন। এছাড়াও ‘যশোদার বাৎসল্যলীলা’ পুথিতে জ্ঞানদাস ভণিতাযুক্ত কুড়িটি পদ পাওয়া যায়। জ্ঞানদাস ভণিতাযুক্ত এই বিপুল পদভাণ্ডার দেখে একাধিক জ্ঞানদাসের অস্তিত্বের কথা উঠে এলেও, যতদিন এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোন প্রমাণ না মেলে ততদিন একজন জ্ঞানদাসকেই স্বীকার করতে হয়।
জ্ঞানদাস ‘ব্রজবুলি’ এবং ‘বাংলা’ উভয় ভাষাতেই পদ লিখেছেন। কিন্তু বাংলা পদ বেশি উৎকৃষ্ট। ব্রজবুলিতে তিনি বিদ্যাপতিকে এবং বাংলা পদে চণ্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও তিনি অভিনবত্ব লাভ করেন দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড এবং রসোগার প্রভৃতি পর্যায়ের পদে। তবে তিনি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন পূর্বরাগ ও অনুরাগ, মূলতঃ আক্ষেপানুরাগ ও রূপানুরাগ পর্যায়ের পদে।
তাঁর একটি শ্রেষ্ঠ রূপানুরাগ পর্যায়ের পদঃ
‘’রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।’’
পদটিতে রাধার অনন্ত বাসনা ও হাহাকার ফুটে উঠেছে। একইরকম ভাবে রাধার অনন্ত আক্ষেপ ধ্বনিত হয়েছে । তাঁর আক্ষেপানুরাগ-এর অন্য একটি পদে –
“আলো মুঞি জানো না
জানিলে যাইতাম না কদম্বের তলে।…
রূপের পাথারে আঁখি ডুবি সে রহিল।
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।।”
এছাড়াও তাঁর আরো একটি উল্লেখযোগ্য পদ –
‘’তোমার গরবে গরবিনী হাম রূপসী তোমার রূপে।
হেন মনে লয় ও দুটি চরণ সদা লয়্যা রাখি বুকে।।’’
এছাড়াও জ্ঞানদাসের নামে অভিসারের ষোলটি পদ রয়েছে। মাত্র একটি পদে সখীদের ছেড়ে রাধা একা অভিসারে গেছেন। বাকি সবগুলিতে সখীদের সঙ্গে নিয়ে গেছেন। জ্ঞানদাস মূলতঃ ‘বর্ষাভিসার’,‘তিমিরাভিসার’, ‘শুক্লাভিসার’ ও ‘দিবাভিসার’ পদ লিখেছেন। এছাড়াও জ্ঞানদাসের পদাবলি সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য সংযোজন ‘বংশীমূলক পদ’ – যা কবির রোমান্টিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। আবার রাধার বেদনাদীর্ণ হাহাকার কে যথার্থভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য জ্ঞানদাসকে যেমন ‘গীতিকবি’ অভিধা দেওয়া সার্থক হয়েছে, তেমনি আবার অনেকক্ষেত্রে চণ্ডীদাসের সঙ্গে জ্ঞানদাসের স্বরূপগত মিল থাকার জন্য তাকে ‘চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য’ও বলা হয়। তবে চণ্ডীদাস মিস্টিক কবি কিন্তু জ্ঞানদাস রোমান্টিক কবি।
তথ্যের অপ্রাচুর্যের জন্য জ্ঞানদাসের জীবনকথা বিস্তৃতভাবে প্রস্তুত করা সমস্যাবহুল হলেও তিনি যে নিত্যানন্দের (যিনি পরলোকগমন করেন আনুমানিক ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি) শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং কাটোয়া ও খেতরীর মহোৎসব (আনুমানিক ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দ)-এ উপস্থিত ছিলেন – এইটুকু তথ্য পাওয়ায় এ বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই, যে জ্ঞানদাস অন্ততপক্ষে ১৫২০ থেকে ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।
১। জ্ঞানদাস কোন যুগের কবি ? তাঁর জন্ম কোথায় হয়েছিল ?
উত্তরঃ চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য জ্ঞানদাস চৈতন্য যুগের কবি।
বর্ধমান জেলার কাঁদড়া গ্রামে আনুমানিক ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জন্ম।
২। ‘পদকল্পতরু’তে জ্ঞানদাসের ভণিতায় কয়টি পদ পাওয়া গেছে ?
উত্তরঃ বিখ্যাত বৈষ্ণবপদ সংকলন গ্রন্থ ‘পদকল্পতরু’তে জ্ঞানদাসের ভণিতায় ১৮৬টি পদ পাওয়াগেছে।
৩। কোন পর্যায়ের পদ রচনায় জ্ঞানদাস শ্রেষ্ঠ ? তাঁর ওই পর্যায়ের একটি পদের উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ রূপানুরাগ পর্যায়ের পদ রচনায় জ্ঞানদাসের শ্রেষ্ঠত্ব।
জ্ঞানদাসের রূপানুরাগ পর্যায়ের একটি বিখ্যাত পদ হল –
“রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।”
৪। জ্ঞানদাসকে কেন চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য বলা হয় ?
উত্তরঃ চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাস উভয়ই ভাবতন্ময় কবি। প্রেমের আত্মনিবেদনে উভয়েই মানব জীবনের সীমা ছাড়িয়ে ভাবাদর্শের ঊর্ধ্বলোকের বিচরণ করেছেন। এরদু’জনের রচনার মধ্যে নিবিড় একাত্মতা লক্ষ করা যায় বলেই জ্ঞানদাসকে কেন চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য বলা হয়।
৫। জ্ঞানদাসের চারটি বিখ্যাত পদের নাম ও সেগুলি কোন্ পর্যায়ের পদ লিখ।
উত্তরঃ জ্ঞানদাসের কিছু পদ ও তাঁর পর্যায় দেখানো হলঃ
(১) রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর (পূর্বরাগ)
(২) আলো মুঞি জান না (পূর্বরাগ)
(৩) বঁধু তোমার গরবে গরবিনী আমি (নিবেদন)
(৪) তুমি কি জান সই কাহ্নুর পিরিতি (পূর্বরাগ)
(৫) সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু (আক্ষেপানুরাগ)
(৬) কানু অনুরাগে হৃদয় ভেল কাতর (অভিসার)
(৭) মেঘ যামিনী অতি ঘন আন্ধিয়ার (অভিসার)
৬। জ্ঞানদাস ও চণ্ডীদাসের পদাবলির মূল পার্থক্যটি কোথায় ?
চণ্ডীদাস ছিলেন প্রাক চৈতন্যের যুগের কবি। কিন্তুজ্ঞানদাস ষোড়শ শতকের (চৈতন্যদেবের
তিরোধানের পর তাঁর কাব্যচর্চা শুরু হয়) অর্থাৎ চৈতন্য যুগের কবি। সুতরাং জ্ঞানদাসের
পদাবলিতে গৌড়ীয় বৈষ্ণব ভাবাদর্শের রসানুভূতি চিত্রিত হলেও চণ্ডীদাসে সে সুযোগ নেই।
…………………………………………………………
www.shekhapora.com


নাট্যসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান
নাট্যসাহিত্যে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দীনবন্ধু মিত্র-র অবদান
নাট্যসাহিত্যে মধুসূদন দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কবি-মাইকেল মধুসূদন দত্তর অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান
বাংলা কাব্যে কবি মোহিতলাল মজুমদারের অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান
গীতিকবিতার ভোরের পাখি কাকে বলে হয় ? বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আলোচনা করো ।
বাংলা কাব্য সাহিত্যে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে বিষ্ণু দে-র অবদান আলোচনা
আধুনিক বাংলা কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশের অবদান
গদ্যের বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রমথ চৌধুরীর অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান
কথাসাহিত্যে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
উপন্যাস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
বাংলা ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথের অবদান
]]>উত্তরঃ মধ্যযুগে রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলাকে কেন্দ্র করে রাধা ভাবে ভাবিত গীতিধর্মী রচনাগুলিকে বৈষ্ণব পদ বলে।
২। বৈষ্ণবীয় পঞ্চরস কাকে বলে ?
উত্তরঃ বৈষ্ণব শাস্ত্রে উল্লিখিত যে পাঁচটি রসপর্যায়ে সাধনা করা হয় সেই রসপর্যায়গুলিকেই বলা হয় বৈষ্ণবীয় পঞ্চরস। সেই পাঁচটি রস হল- শান্ত , দাস্য , সখ্য, বাৎসল্য এবং মধুর।
৩। প্রাকচৈতন্য যুগের দু’জন ও চৈতন্যোত্তর যুগের দুজন বৈষ্ণব পদকর্তার পরিচয় দাও।
উত্তরঃ প্রাকচৈতন্য যুগের দু’জন বৈষ্ণব পদকর্তা হলেন – ক) বিদ্যাপতি ও খ) চণ্ডীদাস ।
চৈতন্যোত্তর কালের দু’জন বৈষ্ণব পদকর্তা হলেন– গ) গোবিন্দ দাস ও ঘ) জ্ঞানদাস।
৪। বিদ্যাপতি কোথাকার কবি ছিলেন ? তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে তাঁর অবদান আলোচনা করুন ।
উত্তরঃ বিদ্যাপতি মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয় আলোচনা করা হল-
জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ প্রাকচৈতন্য যুগের বৈষ্ণব পদপকর্তা বিদ্যাপতি ঠাকুর চতুর্দশ শতকের শেষভাগে আনুমানিক ১৩৮০ খ্রিস্টাব্দে বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলায় (বর্তমানে মধুবনী মহকুমার অন্তর্গত) বিসফি গ্রামে এক বিদ্বান ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কুলগ্রন্থের মতানুসারে বিদ্যাপতির পিতা গণপতি বলে উল্লেখ করা হলেও, বিদ্যাপতির নিজের কোন লেখায় বা কোন প্রামাণিক সূত্র থেকে এর সমর্থন মেলে নি। বিদ্যাপতির কুলপদবী ‘ঠক্কুর’। তিনি ছিলেন পঞ্চোপাসক (অর্থাৎ শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণব, সৌর ও গাণপত্য) হলেও হর-গৌরীর প্রতি তাঁর ভক্তি ছিল অকৃত্রিম। বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় পদ রচনা করেন।
মিথিলার কবি হওয়া সত্ত্বেও বাংলায় জনপ্রিয়তার কারণঃ প্রাক্-চৈতন্যযুগের কবি বিদ্যাপতি অবাঙালি হয়েও বাংলা সাহিত্যে অক্ষয় আসন লাভ করেন। মিথিলা তখন ন্যায়ের প্রধান পাঠকেন্দ্র। বাঙালি ছাত্ররা সেখানে ন্যায় অধ্যয়ন করতে গিয়ে বিদ্যাপতির পদাবলি দ্বারা এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, স্বদেশে বাংলায় ফিরে আসার পর তাদের মুখে মুখেই বিদ্যাপতির গানগুলি ছড়িয়ে পড়ে। স্বয়ং চৈতন্যদেব নাকি তাঁর পদ আশ্বাদন করতেন। এর ফলেই একসময় বিদ্যাপতির পদগুলি বাঙলায় স্থায়ী আসন লাভ করে এবং বিদ্যাপতিও ক্রমে বাংলার কবি হয়ে ওঠেন। এ প্রসঙ্গে খগেন্দ্রনাথ মিত্র বলেন, “বিদ্যাপতি যে মৈথিল লোকে তাহা একরূপ ভুলিয়াই গেল। বিদ্যাপতি অনেকের কাছে বাঙালি হইয়া দাঁড়াইলেন।” এভাবেই ‘মৈথিল কবি’ ক্রমে ‘অভিনব জয়দেব’ শিরোপায় অভিষিক্ত হয়ে ওঠেন। বিদ্যাপতি মিথিলা রাজ পরিবারের বংশানুক্রমিক পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন এবং বিভিন্ন গ্রন্থও রচনা করেন।
বিদ্যাপতি রচিত গ্রন্থগুলি সেগুলি হল –
পৃষ্ঠপোষক/ গ্রন্থ / রচনাকাল ক্রমান্বয়ে দেখানো হলঃ
| পৃষ্ঠপোষক | গ্রন্থ | রচনাকাল | |
| ১ | দেবসিংহ | ভূপরিক্রমা | ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ। |
| ২ | কীৰ্তিসিংহ | কীর্তিলতা | ১৪০২-১৪০৪ খ্রিষ্টাব্দ । |
| ৩ | শিবসিংহ | পুরুষ পরীক্ষা ও কীর্তিপতাকা | ১৪১০ খ্রিষ্টাব্দ । |
| ৪ | পদ্মসিংহ ও বিশ্বাস দেবী | শৈবসর্বস্বহার ও গঙ্গাবাক্যাবলি | ১৪৩০-৪০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। |
| ৫ | নরসিংহ ও ধীরমতী | বিভাগসার ও দানবাক্যাবলি | ১৪৪০-৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। |
| ৬ | পুরাদিত্য | লিখনাবলি | ১৪১৮ খ্রিষ্টাব্দ |
| ৭ | ভৈরব সিংহ | দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী | ১৪৪০-৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। |
বিদ্যাপতির শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক পদে। বিশেষ করে ‘মাথুর’ ও ‘অভিসার’-এ। তাঁর অভিনবত্ব আছে প্রার্থনা বিষয়ক পদে। এছাড়াও বিদ্যাপতি কিছু হর-পার্বতী বিষয়ক পদ (যা মহেশবাণী নামে পরিচিত) ও আরও নানা বিষয়ে পদ লিখেছেন। কিন্তু তিনি যে শৈব এ ভাবনাটিই উক্তপদে বেশিমাত্রা প্রকটিত।
বিদ্যাপতির পদগুলির মধ্যে রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলির সংখ্যা পাঁচশোরও বেশি। সংস্কৃত অলঙ্কার শাস্ত্র মেনেই বিদ্যাপতি রাধা-কৃষ্ণের লীলা পর্যায় অঙ্কন করেন। প্রখর বাস্তববোধের অধিকারী বিদ্যাপতির রাধা বয়ঃসন্ধিতে যেমন মধুর, তেমনি ভরা ভাদ্রে বর্ষা-বিরহে বেদনাদীর্ণ। যেমন-
” এ সখি হামারি দুখক নাহি ওর
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর।।”
বিদ্যাপতি, ভক্তি ও আদিরসকে প্রাধান্য দিয়ে শৃঙ্গার রসকে উচ্চতর মহিমায় মহিমান্বিত করেছে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় যা ‘বড়ো শক্ত বুঝা, যারে বলে ভালোবাসা, তারে বলে পূজা।’ তাই বিদ্যাপতির ‘প্রার্থনা’ বিষয়ক পদগুলিও একইসঙ্গে অনবদ্য হয়ে উঠেছে। কবি আত্মার অভিব্যক্তি সরাসরি ঘটেছে যা আধুনিক গীতিকবিতার ধর্মকে সুন্দরভাবে প্রকাশ ঘটেছে। যেমন –
“মাধব, বহুত মিনতি করি তোয়
দেই তুলসী তিল
দয়া জনু ছোড়বি মোয়।।”
কবি বিদ্যাপতির এই আর্ত আবেদন যেন বাঙালি ভক্ত হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত – সেই জন্যই বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও বাঙালির হৃদয়ে অক্ষয় আসন লাভ করেছেন। আর তাই বিদ্যাপতির পদে মোহিত হতেন স্বয়ং চৈতন্যদেবও। যার স্পষ্ট স্বীকৃতি রয়েছে ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থে–
১। “বিদ্যাপতি জয়দেব চণ্ডীদাসের গীত।
আস্বাদয়ে রামানন্দ স্বরূপ সহিত।।”
২। “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস শ্রীগীতগোবিন্দ।
এই তিন গীতে করায় প্রভুর আনন্দ।।”
‘মৈথিল কোকিল’, ‘অভিনব জয়দেব’, দীর্ঘায়ু কবি (সম্ভবতঃ ৮০ বছর) বিদ্যাপতি ঠাকুর পঞ্চদশ শতকের মধ্যভাগে তথা আনুমানিক ১৪৬০ খ্রিস্টাব্দে পরলোকগমন করেন।
বিদ্যাপতির বিখ্যাত কিছু পদ ও সেগুলির রসপর্যায়
(১) হাথক দরপণ মাথক ফুল (পূর্বরাগ)
(২) তাতল সৈকত বারিবিন্দু সম (প্রার্থনা)
(৩) এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর (মাথুর)
(৪) সখি হে আজ জায়ব মোয়ী (অভিসার)
(৫) অব মথুরাপুর মাধব গেল (মাথুর)
(৬) মাধব বহুত মিনতি করি তোয় (প্রার্থনা)
(৭)পিয়া যব আয়ব এ মঝু গেহে (ভাবোল্লাস)
(৮) কি কহব রে সখি আনন্দ ওর (ভাবোল্লাস)
(৯) অঙ্কুর তপন তাপে যদি জারব (মাথুর)
(১০) আজু রজনী হাম ভাগে পোহায়লু (ভাবোল্লাস)
বিদ্যাপতি সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১) বিদ্যাপতি মোট কত জন রাজার পৃষ্ঠপোষকতা পান ?
উঃ ৬ জন রাজা ও এক জন রানীর। মোট ৭ জনের।
২) কার অনুরোধে বিদ্যাপতি কাব্যচর্চা শুরু করেন ?
উঃ দেবসিংহ।
৩) বিদ্যাপতি কোন কোন ভাষায় কাব্য রচনা করেন ?
উঃ তিনটি ভাষায়। সংস্কৃত, অবহট্ট ও মৈথিলি ।
৪) বিদ্যাপতি তার অধিকাংশ পদাবলী কোন রাজার রাজ সভায় থাকাকালীন রচনা করেন ?
উঃ শিবসিংহ।
৫) বিদ্যাপতির আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ কোনটি ?
উঃ বিভাগসার।
৬) বিদ্যাপতির কোন সংস্কৃত গ্রন্থের প্রভাব আজও বর্তমান ?
উঃ দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী।
৭) ‘বিদ্যাপতিগোষ্ঠী’ এই বইটি কার লেখা ?
উঃ সুকুমার সেন।
৮) ব্রজবুলি ভাষা কী ?
উঃ মৈথিলি ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে গড়ে ওঠা এক শ্রুতিমধুর কৃত্রিম ভাষা হল ব্রজবুলি।
৯) বিদ্যাপতির লেখা ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি ?
উঃ কীর্তিলতা’ ও’ কীর্তিপতাকা’ (অবহট্ট ভাষায় রচনা )।
১০) তিনি কোন গ্রন্থে নিজেকে ‘খেলন কবি’ বলেছেন ?
উঃ ‘কীর্তিলতা’ তে।
১১) বিদ্যাপতিকে ‘অভিনব জয়দেব’ কে আখ্যা দেন ?
উঃ শিব সিংহ।
১২) বিদ্যাপতিকে ‘মৈথিল কোকিল’ আখ্যায়িত করেন কে ?
উঃ রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়।
১৩)“বিদ্যাপতি ভক্ত নহেন, কবি- গোবিন্দদাস যতবড় কবি, ততোধিক ভক্ত” – মন্তব্যটি কার ?
উঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৪) বিদ্যাপতি কে ‘ পঞ্চোপাসক হিন্দু’ বলে কে প্রচার করেন ?
উঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
১৫) বিদ্যাপতি রচিত প্রথম গ্রন্থ কী ?
উঃ ভূপরিক্রমা।
১৬) বিদ্যাপতি বাঙালী নন একথা কে প্রমাণ বলেন ?
উঃ রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়।
১৭) বিদ্যাপতির পদ প্রথম কে সংগ্রহ করেন ?
উঃ জর্জ গ্রিয়ার্সন।
১৮) বিদ্যাপতির পদের সংখ্যা কত ?
উঃ প্রায় ৯০০ টির মত।
১৯) ‘মহাজন পদাবলী’ পদসংকলনটি কার ?কে কবে প্রকাশ করেন ?
উঃ বিদ্যাপতির রচনা । জগবন্ধু ভদ্র ১৮৭৪ খ্রি: প্রকাশ করেন।
২০। বিদ্যাপতির ভাষাকে বিকৃত-মৈথিলী কে বলেন ?
উঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
………………………………………………………………………….


নাট্যসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান
নাট্যসাহিত্যে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দীনবন্ধু মিত্র-র অবদান
নাট্যসাহিত্যে মধুসূদন দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কবি-মাইকেল মধুসূদন দত্তর অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান
বাংলা কাব্যে কবি মোহিতলাল মজুমদারের অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান
গীতিকবিতার ভোরের পাখি কাকে বলে হয় ? বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আলোচনা করো ।
বাংলা কাব্য সাহিত্যে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে বিষ্ণু দে-র অবদান আলোচনা
আধুনিক বাংলা কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশের অবদান
গদ্যের বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রমথ চৌধুরীর অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান
কথাসাহিত্যে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
উপন্যাস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
বাংলা ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথের অবদান
]]>মোট প্রশ্নঃ ১০ সময়ঃ ১০ মিনিট প্রতিটি প্রশ্নের মানঃ ১(x১০=১০)
[ays_quiz id=’33’]
১। সাহিত্যের ইতিহাস প্রাচীন ও মধ্যযুগ) MCQ
৪। কারক অ-কারক SAQ Practice SET
৫। শব্দভাণ্ডার MCQ Practice SET
৬। কাব্যসাহিত্যের ইতিহাস (আধুনিক যুগ) MCQ
৭। ধ্বনি ও বর্ণ MCQ practice SET
৮। মঙ্গলকাব্যের ইতিহাস SAQ SET


বাংলা কাব্যে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কবি-মাইকেল মধুসূদন দত্তর অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান
বাংলা কাব্যে কবি মোহিতলাল মজুমদারের অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান
গীতিকবিতার ভোরের পাখি কাকে বলে হয় ? বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আলোচনা করো ।
বাংলা কাব্য সাহিত্যে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে বিষ্ণু দে-র অবদান আলোচনা
আধুনিক বাংলা কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশের অবদান
গদ্যের বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রমথ চৌধুরীর অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান
কথাসাহিত্যে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
উপন্যাস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
বাংলা ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথের অবদান
]]>বাংলা সাহিত্যের বয়স কত ? এর উত্তর দিয়েছেন মহামহপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় তাঁর গ্রন্থে। গ্রন্থটির নাম “হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” । অর্থাৎ প্রায় হাজার বছর ধরে বাংলা সাহিত্য রচিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই হাজার বছরের সাহিত্যের ইতিহাস সােজা-সরল পথে অগ্রসর হয়নি। যুগ ও রুচির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসেরও পরিবর্তন হয়েছে বার বার। তাই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস আলােচনা করতে গিয়ে সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতারা কয়েকটি যুগ-বিভাগকে মেনে নিয়েছেন। এই যুগ-বিভাগ ছাড়া সাহিত্যের ইতিহাস আলােচনা করা যায় না। ভাষাগত পরিবর্তনের সূত্রকে অবলম্বন করে এবং সাহিত্যের গতি প্রকৃতি বিচার করে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে তিনটি যুগে ভাগ করা যায়। যথা –
(১) আদিযুগ
(২) মধ্যযুগ
(৩) আধুনিক যুগ।
তবে এই যুগবিভাগ অঙ্কের নিখুঁত নিয়মে করা যায় না। বিভিন্ন যুগে বাংলা সাহিত্য নানা শাখা উপশাখায় বিভক্ত হয়েছে। সেই সমস্ত শাখা প্রশাখার পরিচয় পেতে হলে এই যুগ-বিভাগের মাধ্যমেই অগ্রসর হতে হবে।
(১) আদিযুগঃ খ্রিস্টিয় দশম শতাব্দ থেকে বাংলা সাহিত্যের শুরু। ত্রয়ােদশ শতাব্দীতে (১২০৩ খ্রি:) বাংলা দেশে তুর্কী আক্রমণ ঘটে। দশম শতাব্দ থেকে তুর্কী আক্রমণের পূর্ব পর্যন্ত কাল-পরিধিকে বাংলা সাহিত্যের আদিযুগ বলে অভিহিত করা হয়। এই যুগে বাংলা সাহিত্যের একমাত্র প্রামাণিক নিদর্শন চযাচর্যবিনিশ্চয়’ বা ‘চর্যাপদ।
(২) মধ্যযুগঃ খ্রিস্টিয় পঞ্চদশ শতাব্দ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দ পর্যন্ত কাল-পরিধিকে এই যুগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। খ্রিস্টিয় ত্রয়ােদশ শতাব্দ থেকেই মধ্যযুগ শুরু হওয়ার কথা, কিন্তু তা হয়নি। এয়ােদশ বা চতুর্দশ শতাব্দে বাংলা সাহিত্যে নতুন কিছু সৃষ্টি হয়নি। যদিও বা হয়ে থাকে তুর্কি আক্রমণের ধ্বংস লীলায় তা বিনষ্ট হয়ে গেছে। তাই ত্রয়ােদশ ও চতুর্দশ শতাব্দকে বাংলা সাহিত্যে বন্ধ্যা যুগ বা অন্ধকার যুগ বলা হয়ে থাকে। সুতরাং পঞ্চদশ শতাব্দ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দ পর্যন্ত – এই দীর্ঘ চারশ বছরের ইতিহাসকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ বলে অভিহিত করা হয়। এই যুগ বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধির যুগ।
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যকে আবার তিনটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। এই পর্ব-ভাগ করা হয়েছে অলৌকিক শক্তি সম্পন্ন মহাপ্রভুর চৈতন্যদেবের আবির্ভাব কালকে কেন্দ্র করে। যথা :
(ক) প্রাক্-চৈতন্য পর্ব
(খ) চৈতন্য-পর্ব
(গ) চৈতন্যোত্তর পর্ব।
(ক) প্রাক-চৈতন্য পর্বঃ খ্রিস্টিয় পঞ্চদশ শতাব্দের শেষ ভাগ পর্যন্ত (যেহেতু ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দে চৈতন্যদেবের জন্ম) রচিত বাংলা সাহিত্যকে প্রাক্ চৈতন্য পর্বের বা যুগের সাহিত্য বলা হয়। এই যুগে রচিত হয়েছে বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’, চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতির পদাবলী, কৃত্তিবাসের ‘শ্রীরাম পাঁচালী’ কবীন্দ্র পরমেশ্বর ও শ্রীকর নন্দীর মহাভারতের অনুবাদ, মালাধর বসুর ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ এ বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব ও বিপ্রদাস পিপিলাইএর মনসামঙ্গল কাব্য।
(খ) চৈতন্য পর্বঃ খ্রিস্টিয় ষােড়শ শতাব্দ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘চৈতন্য যুগ’ বলে অভিহিত করা হয়। চৈতন্যদেব নিজে কোন সাহিত্য রচনা করেন নি, কিন্তু তার দিব্য আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যকে এত বেশি প্রভাবিত করেছিল, এত বেশি সমৃদ্ধ করেছিল যে, ষােড়শ শতাব্দকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ বলে অভিহিত করা হয়। অনেকে একে ‘চৈতন্য রেনেসাঁসের’ যুগ বলেও অভিহিত করে থাকেন। চৈতন্য জীবনী কাব্য এবং বৈষ্ণব পদাবলি এই যুগের বিশিষ্ট সম্পদ। বহু মনসামঙ্গল ও চণ্ডীমঙ্গল কাব্য এই যুগে রচিত হয়। চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরামের আবির্ভাব এই শতকেই। চৈতন্য জীবনীকার কৃষ্ণদাস কবিরাজের জন্ম এই যুগেই।
(গ) চৈতনােত্তর পর্বঃ সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দ মধ্য যুগের ইতিহাসে চৈতন্যোত্তর পর্ব বা চৈতন্যোত্তর যুগ নামে অভিহিত। বিভিন্ন মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল কাব্য, রামায়ণ ও মহাভারতের অনুবাদ, অজস্র বৈষ্ণব ও শাক্তপদ, আরাকান রাজসভার মুসলমান কবিদের প্রণয়মূলক উপাখ্যান, গাথা সাহিত্য, বাউল গান প্রভৃতি এই যুগের সৃষ্টি। সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন ও কমলাকান্ত ভট্টাচার্য এবং অন্নদামঙ্গল রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়—এই যুগের তিন বিশিষ্ট কবি প্রতিভা।
(৩) আধুনিক যুগ : উনবিংশ শতাব্দ থেকে সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত রচিত সাহিত্যকে আধুনিক কালের সাহিত্য বলে অভিহিত করা হয়। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের অধ্যাপক এবং খ্রিস্টান মিশনারীদের দ্বারা রচিত গ্রন্থগুলির দ্বারা আধুনিক যুগের সূত্রপাত ঘটে।
আধুনিক যুগকে আবার চারটি যুগ-পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
(ক) বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রস্তুতি পর্ব
(খ) প্রাক রবীন্দ্র যুগ
(গ) রবীন্দ্র যুগ
(ঘ) রবীন্দ্রোত্তর যুগ
(ক) বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রস্তুতি পর্বঃ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের অধ্যাপক বৃন্দ ছাড়াও রামমােহনকে এই পর্বের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
(খ) প্রাক রবীন্দ্র যুগঃ ১৮৫০ খৃষ্টাব্দ থেকে ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই যুগের বিস্তার। (যদিও ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথের বয়স হয়েছিল চল্লিশের কাছাকাছি এবং তার বেশ কিছু কাব্য, উপন্যাস ও গল্প এই সময়ের মধ্যে রচিত হয়েছিল তবু রবীন্দ্রপ্রভাব বলতে যা বােঝায় তা তখনও পড়েনি। এই পর্বে আবির্ভূত হয়েছেন বিদ্যাসাগর, প্যারীচাঁদ মিত্র, কালীপ্রসন্ন সিংহ, বঙ্কিমচন্দ্র, মধুসূদন, হেমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র, বিহারীলাল, দীনবন্ধু, গিরিশচন্দ্র প্রমুখ প্রতিভাবান সাহিত্যিকবৃন্দ।
(গ) রবীন্দ্র যুগঃ এই যুগকে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ অসংখ্য রচনা দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন। বহু কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ লিখে বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে পূর্ণ করেছেন তিনি। রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি সত্যেন্দ্রনাথ, যতীন্দ্রনাথ, মােহিতলাল, নজরুলের আবির্ভাব ঘটেছিল। এই সময়ে। শরৎচন্দ্র ও দ্বিজেন্দ্রলালের মতাে বিশিষ্ট প্রতিভাধর শিল্পীরা এই যুগেই তাঁদের জন্য সদি করেছিলেন।
(ঘ) রবীন্দ্রোত্তর যুগঃ ১৯৪১ খৃষ্টাব্দে রবীন্দ্রনাথের মহা প্রয়াণের পর সাম্প্রতিকাল পর্যন্ত এর বিস্তার। এই যুগে আবির্ভূত হয়েছেন বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, জীবনানন্দ দাস, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, সমর সেন, সুভাষ মুখােপাধ্যায়, তারাশঙ্কর, মানিক, বিভূতিভূষণ প্রমুখ কবি ও ঔপন্যাসিকগণ। নব নব সাহিত্য সৃষ্টির দ্বারা বাংলা সাহিত্যের বৈচিত্র্যসাধন করেছেন তারা। সত্তর এবং আশির দশকে যারা বাংলা সাহিত্যে আবির্ভূত হয়েছেন তারাও গত কুড়ি বাইশ বছর ধরে আপন আপন প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন এবং বাংলা সাহিত্যের ধারাকে প্রবহমান রাখবার চেষ্টা করেছেন।
বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ


[ঋণ স্বীকারঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস/ডঃ নিশীথ মুখোপাধ্যায় ]


নাট্যসাহিত্যে উৎপল দত্তের অবদান
নাট্যসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান
নাট্যসাহিত্যে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দীনবন্ধু মিত্র-র অবদান
নাট্যসাহিত্যে মধুসূদন দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কবি-মাইকেল মধুসূদন দত্তর অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান
বাংলা কাব্যে কবি মোহিতলাল মজুমদারের অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান
গীতিকবিতার ভোরের পাখি কাকে বলে হয় ? বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আলোচনা করো ।
বাংলা কাব্য সাহিত্যে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে বিষ্ণু দে-র অবদান আলোচনা
আধুনিক বাংলা কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশের অবদান
গদ্যের বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রমথ চৌধুরীর অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান
কথাসাহিত্যে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
উপন্যাস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
বাংলা ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথের অবদান
]]>বাংলা নাট্যসাহিত্যে ক্ষীরােদপ্রসাদ বিদ্যাবিনােদের অবদান আলোচনা কর ।
উত্তর : বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে ক্ষীরােদপ্রসাদ বিদ্যাবিনােদের গুরুত্ব অপরিসীম । প্রতিদিন রঙ্গমঞ্চের প্রয়ােজনে নতুন নাটকের যোগান দিয়ে তিনি একসময়ে দর্শক মহলে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন । ক্ষীরোদপ্রসাদের নাটকে একাধারে যেমন গিরিশচন্দ্র, দ্বিজেন্দ্রলালের প্রভাব পড়েছিল তেমনি ভাবেই রবীন্দ্রনাথেরও প্রভাব লক্ষ্যনীয় তাঁর নাটকে । তিনি যে সময়ে নাট্য রচনা শুরু করেছিলেন সে সময়ে একদিকে যেমন বাংলা রঙ্গমঞ্চে গিরিশচন্দ্রের আধিপত্য ছিল তেমনি অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্যনীয় । রবীন্দ্রনাথের নাটকে রােমান্টিক ভাব কল্পনার প্রবলতা লক্ষ্য করা যায় । তাঁর প্রথম রচনা ‘ফুলশয্যা’ (১৮৯৪) নাটকে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব স্পষ্ট । তবে গিরিশচন্দ্রের প্রভাব ক্ষীরোদপ্রসাদের উপরে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে । অবশ্য গিরিশচন্দ্রের ভক্তিরসের পরিবর্তে তাঁর নাটকে রােমান্সরই প্রাধান্য অধিক লক্ষ্য করা যায় ।
ক্ষীরােদপ্রসাদ প্রায় পঞ্চাশটি নাটক রচনা করেছিলেন । তাঁর নাটকগুলিকে ঐতিহাসিক, পৌরাণিক, কাল্পনিক, রােমান্টিক, গীতিনাট্য নানা শ্রেণীতে ভাগ করা যায় ।
তার গীতিনাট্য গুলির মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ‘আলিবাবা’ (১৮৯৭) ‘ ‘বরুণা’ (১৯০৮), “কিন্নরী’ (১৯১৮) ইত্যাদি । ‘আলিবাবা’ নাটকের মত জনপ্রিয় নাটক বাংলা নাট্য সাহিত্যের ইতিহাসে বিরল । একমাত্র এই নাটকটির জন্যেই ক্ষীরােদপ্রসাদ বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন । লঘু তরল ভাবধারার সঙ্গে কৌতুকরস মিলিত হওয়ায় নাটকটি হয়ে ওঠে সর্বসাধারণের উপভােগ্য । আবদুল্লা ও মর্জিনা চরিত্র দুটি পেশাগত দিক দিয়ে নিন্দনীয় হলেও বাঙালি হৃদয়ে তারা চিরকালীন স্থান দখল করে নিয়েছে । ‘আলিবাবা’ নাটকের অভিনয় সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে ক্ষীরােদপ্রসাদ কিন্নরী, বরুনা প্রভৃতি নাটক রচনা করেন । কিন্নরী নাটকের রােমান্টিকতা, কল্পনা দর্শকের মনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল ।
ক্ষীরােদপ্রসাদের উল্লেখ যোগ্য পৌরাণিক নাটকগুলি হল – ‘সাবিত্রী’ (১৯০২) ‘উলুপি’ (১৯০৬), ‘ভী’ (১৯১৩) ‘ নবনারায়ণ’ (১৯২৬), সাবিত্রী নাটকটির মধ্যে নাট্যবৈশিষ্ট্য তেমনভাবে পরিস্ফুট না হলেও তিনি তার নাট্য দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন উলপী নাটকে । অর্জুন কর্তৃক পরিত্যক্তা নাগকন্যা উলুপীর কাহিনী নিয়ে রচিত হয় নাটকটি । উলুপীর চরিত্রের মধ্যে তিনি যে নাটকীয় দ্বন্দ্বের পরিচয় দিয়েছেন তা অত্যন্ত উচ্চমানের ।
ক্ষীরােদপ্রসাদের পৌরাণিক নাটকগুলির মধ্যে দুটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ্যনীয় –
i) সমসাময়িক অন্যান্য পৌরাণিক নাটকে ভক্তিরসের যে প্রাধান্য দেখা যায়, ক্ষীরােদপ্রসাদের নাটকে তার লেশমাত্র নেই । সেদিক থেকে তাঁর নাটক গিরিশচন্দ্রের চেয়ে উন্নততর ।
ii) পৌরাণিক চরিত্র গুলির মধ্যে তিনি আধুনিক মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্বের প্রতিফলন ঘটিয়ে ছিলেন ।
সংলাপ রচনাতেও ক্ষীরােদ প্রসাদ রবীন্দ্রনাথের পয়ার এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের অনুসরণ করেন । তাঁর ঐতিহাসিক নাটক গুলি হল –
“বঙ্গের প্রতাপাদিত্য’ (১৯০৩) ‘পদ্মিনী’ (১৯০৬) ‘চাদবিবি’ (১৯০৭), ‘ নন্দকুমার’ (১৯০৭) ‘অশােক’ (১৯০৮) ‘বঙ্গে রাঠোর’ (১৯১৭) ‘আলমগীর’ (১৯২১) ইত্যাদি । নাটকগুলি ইতিহাস কেন্দ্রিক । স্বাদেশিক আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত হওয়ায় সে সময়ে দারুণ উন্মাদনার সৃষ্টি করেছিল এই নাটক গুলি । স্বাধীনতাকামী বীর যােদ্ধারূপে এবং সংগ্রামী বীরপুরুষরূপে প্রতাপাদিত্যকে উপস্থাপিত করা হয়েছে এই নাটকে । তার চরিত্রের মধ্য দিয়ে নাট্যকার দেশানুরাগের বাণী প্রচার করেছেন সর্ব সাধারণের উদ্দেশ্যে । শিল্পরীতির দিক দিয়ে বিচার করলে নাটকটিকে রসােত্তীর্ণ বলা যায় না, একদিকে স্বদেশী আন্দোলনের আবেগ ও উচ্ছ্বাস অন্যদিকে অনৈতিকহাসিক ঘটনা ও চরিত্রের অবতারণা নাটকটির শিল্পগুণকে ব্যাহত করেছে ।
ক্ষীরােদপ্রসাদ দ্বিজেন্দ্রলালের মতাে প্রতিভাবান বা গিরিশচন্দ্রের মতাে অসাধারণ জনপ্রিয় নাট্যকার ছিলেন না ঠিকই, কিন্তু রঙ্গমঞ্চের প্রয়ােজনে বিভিন্ন ধরনের নাটক লিখে বাংলা নাটকের কাল-প্রবাহকে তিনি সঞ্জীবিত রেখেছিলেন । এবং নিজেকে একজন মর্যাদাসম্পন্ন নাট্যকার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
বিষয় সংযুক্তি
( বাংলা নাট্যসাহিত্যে ক্ষীরােদপ্রসাদ বিদ্যাবিনােদের অবদান, ক্ষীরােদপ্রসাদের পৌরাণিক নাটক, ক্ষীরােদপ্রসাদ বিদ্যাবিনােদ, Kshirode Prasad Vidyavinode, ক্ষীরােদপ্রসাদ বিদ্যাবিনােদের নাটক, )


নাট্যসাহিত্যে উৎপল দত্তের অবদান
বাংলা নাটকে অমৃতলাল বসুর অবদান
নাট্যসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান
নাট্যসাহিত্যে গিরিশচন্দ্র ঘোষের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের অবদান
নাট্যসাহিত্যে দীনবন্ধু মিত্র-র অবদান
নাট্যসাহিত্যে মধুসূদন দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কবি-মাইকেল মধুসূদন দত্তর অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর অবদান
বাংলা কাব্যে কবি মোহিতলাল মজুমদারের অবদান
বাংলা কাব্য-সাহিত্যে কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত-র অবদান
বাংলা কাব্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান
গীতিকবিতার ভোরের পাখি কাকে বলে হয় ? বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান আলোচনা করো ।
বাংলা কাব্য সাহিত্যে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অবদান
বাংলা কাব্যে বিষ্ণু দে-র অবদান আলোচনা
আধুনিক বাংলা কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশের অবদান
গদ্যের বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে প্রমথ চৌধুরীর অবদান
প্রবন্ধ সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান
কথাসাহিত্যে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান
উপন্যাস সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান
বাংলা ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথের অবদান
]]>